দো’আ ও যিকর

কেউ কি তার খ্রিস্টান বন্ধুর জন্য রোগমুক্তির দোয়া করতে পারবে

আমার একজন খ্রিস্টান বন্ধু আছে। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালবাসি। সে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত কুরআনে যাদের প্রশংসা করা হয়েছে। সে এখন খুবই অসুস্থ। ইসলাম কি আমাকে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করার অনুমতি দেয়?

আলহামদুলিল্লাহ।

“মিত্রতা ও বৈরিতা” দ্বীনের অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটো আকিদা এবং ঈমানের মজবুত বন্ধন। ঈমান যেমন বাড়ে ও কমে তেমনি মানুষের মাঝে এই মহান আকিদা বাস্তবায়নের মাত্রাও বাড়ে-কমে। কিন্তু, বান্দার অন্তর থেকে এই আকিদাটি ধ্বংস করে ফেলা এবং এ আকিদা যে আমলগুলোকে আবশ্যক করে সেগুলো বর্জন করা গোটা ঈমানকে ধ্বংস করারই নামান্তর। যেহেতু ঈমানের ভিত্তিই হচ্ছে আল্লাহ্‌র বন্ধুদের সাথে ভালোবাসা পোষণ এবং তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ। কুরআনের অনেক আয়াতে এবং রাসূলের অনেক হাদিসে এই আকিদার পক্ষে দলিল রয়েছে। যেমন–

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “আপনি পাবেন না আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমানদার এমন কোন সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসে তাদেরকে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে; হোক না বিরুদ্ধচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই কিংবা জ্ঞাতি-গোত্র। এদের অন্তরে আল্লাহ লিখে দিয়েছেন ঈমান এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তার পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা। আর তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহ্‌র দল। জেনে রাখুন, নিশ্চয় আল্লাহর দলই সফলকাম।”[সূরা মুজাদালা, আয়াত: ২২] তিনি আরও বলেন: “হে মুমিনগণ, তোমরা মুমিনগণ ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিপক্ষে কোন স্পষ্ট দলীল সাব্যস্ত করতে চাও?”[সূরা নিসা, আয়াত: ১৪৪] তিনি আরও বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও নাসারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে নিশ্চয় তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫১] তিনি আরও বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে ত্রুটি করবে না; যা তোমাদেরকে বিপন্ন করে তা-ই তারা কামনা করে। তাদের মুখ থেকে তো বিদ্বেষ প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। আর তাদের হৃদয়ে যা গোপন আছে তা আরো গুরুতর। তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি। যদি তোমরা অনুধাবন কর (তবে তাদের সাথে বন্ধুত্ব কর না)।”[সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১১৮] আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর অভিমুখে রওয়ানা হলেন। যখন তিনি ‘হাররাতুল ওবারা’ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন এমন এক ব্যক্তি এসে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলো, যে আগে থেকে তার শৌর্য-বীর্য ও সাহসিকতার জন্য মশহুর ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ তাকে দেখতে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। সে যখন সাক্ষাৎ করলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, আমি আপনার সঙ্গে যেতে এবং আপনার সঙ্গে (গনীমত) পেতে এসেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখ? সে বললো: না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাহলে তুমি ফিরে যাও, আমি কোন মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করব না।”[সহিহ মুসলিম (১৮১৭)]

বরং মুনাফিকদের সাথে বেশি বেশি উঠাবসা ও দেখা-সাক্ষাতের কারণে সাহাবায়ে কেরাম ‘মালিক বিন দাখশান’কে মুনাফিক হওয়ার অভিযোগ দিয়েছেন।[সহিহ বুখারী (৪১৫) ও সহিহ মুসলিম (৩৩)]

যে দলিলগুলো উল্লেখ করা হয়েছে এর বাইরেও অনেক দলিল আছে। যে দলিলগুলো কাফেরদের সাথে মিত্রতা, তাদের সাথে ভালোবাসা রাখা ও বন্ধুত্ব রাখা হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

কাফেরদের সাথে মিত্রতার অনেক রূপ হতে পারে। যেমন–

তাদের কুফরীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, কিংবা তাদের সাথে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা, কিংবা তাদের সাথে বসবাস করা, কিংবা তাদেরকে একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা, কিংবা তাদেরকে ভালোবাসা, কিংবা ঈমানদারদের উপর তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া, কিংবা তাদের সাথে হৃদ্যতা রাখা কিংবা তাদের আইনসমূহ দিয়ে বিচার করা। আরও জানতে দেখুন: 2179 নং প্রশ্নোত্তর।

পূর্বের আলোচনা থেকে আপনি জেনেছেন যে, কাফেরদেরকে ভালোবাসা কত জঘন্য। কারণ তাদেরকে ভালোবাসা তাওহিদের বড় একটি অধ্যায়ের সাথে সাংঘর্ষিক। সে অধ্যায়টি হচ্ছে– ঈমানদারদের সাথে মিত্রতা এবং বিধর্মীদের সাথে বৈরিতা।

আপনি বলেছেন, এই কাফের লোকটি খ্রিস্টানদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত; আল্লাহ্‌ তাঁর কিতাবে যাদের প্রশংসা করেছেন: এর জবাব হচ্ছে–

আল্লাহ্‌ তাঁর কিতাবে যাদের প্রশংসা করেছেন তারা খ্রিস্টানদের নির্দিষ্ট একটি দল; যাদের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যে আয়াতে আল্লাহ্‌ তাদের প্রশংসা করেছেন সে আয়াতের পরের আয়াতেই আল্লাহ্‌ তাদের সে বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেছেন। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “নিশ্চয় আপনি মুমিনদের শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদীদেরকে এবং যারা শির্ক করে তাদেরকে সবচেয়ে কঠোর পাবেন। আর মানুষের মধ্যে তাদেরকে আপনি মুমিনদের কাছাকাছি বন্ধু পাবেন যারা বলে, ‘আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)’।” এরপর আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “তা এই কারণে যে, তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক পণ্ডিত ও পুরোহিত। আর এজন্যেও যে, তারা অহংকার করে না। আর রাসূলের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা যখন তারা শুনে, তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে তার জন্য আপনি তাদের চোখ অশ্রু বিগলিত দেখবেন। তারা বলে: ‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি; কাজেই আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্য দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে পৌঁছেছে তার প্রতি ঈমান আনব না? আর আমরা আশা করব না যে, আমাদের রব আমাদেরকে প্রবেশ করাবেন নেককার সম্প্রদায়ের সাথে। সুতরাং তারা যা বলেছে এর কারণে আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কার দিবেন– জান্নাতসমূহ, যার নীচে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে। এটা হল মুহসিনদের (সৎকর্মশীলদের) প্রতিদান। আর যারা কুফরী করেছে ও আমাদের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ৮২-৮৬]

অতএব, আয়াতগুলো পূর্ণভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আয়াতে খ্রিস্টান দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছে, কুরআন দ্বারা ও তাঁর দাওয়াত দ্বারা যারা প্রভাবিত হয়েছে।

আল্লামা আব্দুর রহমান আল-সা’দী এ আয়াতের তাফসিরে বলেন: “আল্লাহ্‌ তাআলা মুসলমানদের সাথে মিত্রতা ও ভালোবাসার দিক থেকে নিকটতম দল ও দূরবর্তী দলের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন:

“নিশ্চয় আপনি মুমিনদের শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদীদেরকে এবং যারা শির্ক করে তাদেরকে সবচেয়ে কঠোর পাবেন।”

সাধারণভাবে এই দুইটি দল ইসলাম ও মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু, তাদের অনিষ্ট সাধনে তৎপর। এর কারণ হচ্ছে মুসলমানদের প্রতি তাদের সীমালঙ্ঘন, হিংসা, হঠকারিতা ও কুফরী।

“আর মানুষের মধ্যে তাদেরকে আপনি মুমিনদের কাছাকাছি বন্ধু পাবেন যারা বলে, ‘আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)’।”

আল্লাহ্‌ তাআলা খ্রিস্টানদের নৈকট্যের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। যেমন–

–          তাদের মধ্যে রয়েছে পণ্ডিত ও পুরোহিত। অর্থাৎ দুনিয়া-বিমুখ ধর্মজ্ঞানী এবং গির্জাতে উপাসনায় রত পুরোহিত। জ্ঞানের সাথে দুনিয়াবিমুখতা, অনুরূপভাবে উপাসনা অন্তরকে নরম করে, কোমল করে, অন্তরের রুঢ়তা ও কঠোরতা দূর করে। তাই তাদের মাঝে ইহুদীদের কঠোরতা ও মুশরিকদের রুঢ়তা পাওয়া যায় না।

–          তারা অহংকার করে না। হঠাৎ তাদের মাঝে সত্য মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে হঠকারিতা নেই। এই গুণ মুসলমানদের সাথে তাদের নৈকট্য ও ভালোবাসাকে আবশ্যকারী। কারণ অহংকারী মানুষের চেয়ে বিনয়ী মানুষ কল্যাণের অধিক নিকটবর্তী।

–          রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যা নাযিল হয়েছে সেটা যখন তারা শুনে তখন তা তাদের অন্তরে প্রভাব ফেলে এবং যেটা তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছে সেটার প্রতি নত হয়। তাই্ তো তারা ঈমান এনেছে এবং ঈমানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেছে: “হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি; কাজেই আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্য দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”। সাক্ষ্যদানকারীরা হচ্ছে- উম্মতে মুহাম্মাদী; যারা আল্লাহ্‌র একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয়, রাসূলগণের রিসালাতের সাক্ষ্য দেয় এবং রাসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছেন সেগুলোর প্রতিও সাক্ষ্য দেয়। এবং তারা পূর্ববর্তী উম্মতগণকে সত্যায়ন করে কিংবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সাক্ষ্য দিবে…। এই আয়াতগুলো ঐ সকল খ্রিস্টানদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছে। যেমন- নাজাশী ও অন্যান্য যারা ঈমান এনেছে। এখনো খ্রিস্টানদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, সে যে ধর্মের উপরে ছিল সেটা ভ্রষ্টতা তার কাছে প্রমাণিত হয়। এভাবে খ্রিস্টানেরা ইহুদী ও মুশরিকদের চেয়ে ইসলামের নিকটবর্তী।[তাফসিরে সা’দী (১/৫১১)]

আর, কাফেরদের জন্য দোয়া কয়েক প্রকার:

১. কাফেরের জন্য ইসলাম গ্রহণ, হেদায়েত প্রাপ্তি বা এ ধরণের কোন দোয়া করা। ইবনে উমর (রাঃ) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে আল্লাহ্‌! এই দুইজন লোকের মধ্যে যে ব্যক্তি আপনার কাছে অধিক প্রিয় তার মাধ্যমে আপনি ইসলামকে শক্তিশালী করুন: আবু জেহেল কিংবা উমর বিন খাত্তাব।”[সুনানে তিরমিযি (৩৬৮১), আলবানী হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন] এই দোয়াটি ছিল তাদের একজনের জন্য হেদায়েতের দোয়া।

২. কাফেরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা বা এ জাতীয় কোন দোয়া। আলেমগণের ইজমার ভিত্তিতে এটি হারাম।

ইমাম নববী বলেন: “পক্ষান্তরে, কাফেরের জন্য রহমত প্রার্থনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এটি কুরআনের দলিল ও ইজমার ভিত্তিতে হারাম।”[আল-মাজমু (৫/১২০)]

৩. আর কাফের ব্যক্তির রোগমুক্তি ও আরোগ্যের জন্য দোয়া করা কোন সুফল হাছিলের উদ্দেশ্যে হলে সেটা জায়েয; যেমন- তার ইসলাম গ্রহণ আশাব্যঞ্জক হওয়া, তার অন্তরে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ তৈরী করা ইত্যাদি। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ঐ সাহাবীর হাদিস থেকে যিনি এক গোত্র প্রধানকে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন, যাকে বিচ্ছু কামড় দিয়েছিল। ইতিপূর্বে 67144 নং প্রশ্নোত্তরে এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। কাউকে রুকিয়া বা ঝাড়ফুঁক করা সেটা তার জন্য দোয়া করার পর্যায়ভুক্ত।

বরং আপনার বন্ধুর রোগের কারণে তাকে দেখতে যাওয়া আপনার জন্য জায়েয। মানুষ অসুস্থ হলে তার মন নরম হয় ও দুর্বল হয়, সে হক্ক গ্রহণ করার নিকটবর্তী হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন ইহুদি গোলাম ছিল; যে তাঁর সেবা করত। ছেলেটি যখন অসুস্থ হল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। তিনি ছেলেটির মাথার কাছে গিয়ে বসলেন এবং বললেন: তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। ছেলেটি তার পিতার দিকে তাকাল। পিতা তার নিকটেই ছিল। তখন পিতা বলল: আবুল কাসেমের আনুগত্য কর। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেরিয়ে আসতে আসতে বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি ছেলেটিকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়েছেন।[সহিহ বুখারী (১৩৫৬)]

ইবনে হাজার বলেন: এই হাদিসে কোন মুশরিককে কাজে নিয়োগ করা এবং সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া জায়েয হওয়ার দলিল রয়েছে। এবং এতে সেবা-শুশ্রূষার সুন্দর পদ্ধতি উল্লেখিত হয়েছে।


উৎস:ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব ওয়েবসাইট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close