নির্বাচিত ফেসবুক স্ট্যাটাস

মুসলিমকে কাফির বলার ফিতনা

মুসলিমকে কাফির বলার ফিতনা, এটি একটি বড় ও প্রাচীন ফিতনা। এই ফিতনার সৃষ্টি করেছিল খারেজীরা। অনেক নামধারী মুসলিমের মধ্যেই কুফর ও শিরক বিদ্যমান। সমাজের অনেক মানুষই নিজেকে মুমিন ও তাওহীদে বিশ্বাসী বলে দাবী করার পরও বিভিন্ন প্রকার শিরক ও কুফরে লিপ্ত থাকেন। তাদের এ সকল কর্ম শিরক অথবা কুফর বলে নিশ্চিত জানার পরও এদেরকে কাফির বা মুশরিক বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা ইসলামের নির্দেশ। উগ্রপন্থীরা গুনাহগার মুসলিম ব্যক্তিকে কাফির বলে ফতওয়া দিয়ে থাকে। কোন কর্মকে কুফর বা শিরক বলা এবং কোন ব্যক্তিকে কাফির বা মুশরিক বলার মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

চরমপন্থী খারেজীদের মতো বর্তমানেও মুসলিম ব্যক্তিকে কাফির বলার প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চরমপন্থীরা কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখা করে দেশের সরকার, আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে সাধারন মুসলিমদেরকেও ঢালাওভাবে কাফির বলে ফতওয়া প্রদান করে। মূলত যারা তাদের মত ও পথের অনুসারী নয় তাদেরকেই চরমপন্থীরা কাফির মনে করে। অথচ মুসলিম ব্যক্তি কবীরা গুনাহ করলেও তাকে কাফির বলা যাবে না, কৃত গুনাহের জন্য সে ফাসিক, ফাজির তথা পাপাচারী হিসাবে গণ্য হবে, কিন্তু সে কাফির হবে না।
মুসলিমদের মাঝে বর্তমানে তাকফীরের প্রবনতা পাওয়ায় এই বিষয়ে ধারাবাহিক পোষ্ট দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। আজকের পর্বে তাকফিরের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

কাফির আখ্যা দানের বিধান:
কারো নিকট ইসলাম ভঙ্গের কারণ বা কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, মুরতাদ হওয়ার কারণ পাওয়া গেলেই তাকে কাফির, মুশরিক, মুনাফিক্ব ও মুরতাদ বলা যাবে না, বরং উলে­খিত গুণাবলী প্রযোজ্য হওয়ার জন্য তার বিভিন্ন অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। বিনা পর্যালোচনায় কাফির, মুশরিক, মুনাফিক ও মুরতাদ বলা যাবে না? অন্যথায় নিজেই তার অধিকারী হবে।

★প্রথমত: কাফির আখ্যা দান বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার সতর্ক বাণীঃ
يَا أَيُّهَا ٱلَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ فَتَبَيَّنُواْ وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ أَلْقَىۤ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلاَمَ لَسْتَ مُؤْمِناً تَبْتَغُونَ عَرَضَ ٱلْحَيَاةِ ٱلدُّنْيَا فَعِنْدَ ٱللَّهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذٰلِكَ كُنْتُمْ مِّن قَبْلُ فَمَنَّ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُواْ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيراً
হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন আল্লাহ পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে তোমাদেরকে সালাম প্রদান করে তাকে বলো না যে, তুমি মু’মিন নও। তোমরা পার্থিব সম্পদ অন্বেষণ কর, বস্ত্তত: আল্লাহ কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরাও এমনি ছিলে ইতিপূর্বে: অত:পর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মের খবর রাখেন। – সূরা নিসাঃ ৯৪।
عن ابن عباس، قال: مر رجل من بني سليم بنفر من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وهو يسوق غنماً له فسلم عليهم، فقالوا: ما سلم علينا إلا ليتعوذ منا، فعمدوا إليه فقتلوه، وأتوا بغنمه النبي صلى الله عليه وسلم، فنزلة هذه الآية {يَا أَيُّهَا ٱلَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ…}. إلى آخرها، ورواه الترمذي وقال حسن صحيحও تفسير ابن كثير 1/704-
আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ বণী সুলাইম গোত্রের এক ব্যক্তি ছাগল পাল চরাতে চরাতে নবী (সা.) এর একটি সাহাবী দলের (যারা সম্ভবত: যুদ্ধের সফরে ছিলেন) পাশ দিয়ে অতিক্রম করা কালে তাদেরকে লক্ষ্য করে সালাম প্রদান করল। তারা ধারণা করে বললেন: এ লোক কেবল আমাদের থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য সালাম দিয়েছে। এ বলে তারা তাকে হত্যা করলেন এবং তার ছাগলগুলো গণিমতের মাল হিসাবে নবী (সা.)এর নিকট উপস্থিত করলেন। অত:পর আয়াতটি নাযিল হয়।
– হাদীছটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে হাসান ছহীহ বলেছেন (তাফসীর ইবনে কাছীর ১/৭০৪ পৃষ্ঠা)।

★দ্বিতীয়তঃ কাফির আখ্যা দান বিষয়ে নবী (সা.) এর সতর্কবাণীঃ

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
أيما رجل قال لأخيه يا كافر فقد باء بها أحدهما (أخرجه البخاري: (6103و6104)
যে কোন ব্যক্তি তার ভাইকে কাফির বলে সম্বোধন করলে, তার এ বাক্য তাকে সহ দুজনের একজনের দিকে ফিরে আসবে।
– বুখারী, ৬১০৩,৬১০৪।
তিনি আরো বলেনঃ أيما رجل كفر رجلا فأحدهما كافر –
যে কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে কাফির আখ্যা দিলে তাদের দু’জনের যে কোন একজন কাফির হিসাবে গণ্য হবে।’’
– ইমাম আহমাদ, সহীহ সনদে (২/৩৩,৪৭, ৬০,১০৫) বর্ণনা করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন :
إذا قال الرجل لصاحبه: يا كافرও فإنها تجب على أحدهماও فإن كان الذي قيل له كافرا فهو كافرও وإلا رجع إليه ما قال
যদি কোন ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, এই কাফির। তাহলে তার এ উক্তি তাদের দু’জনের উপর অপরিহার্য হয়ে যাবে। যাকে কাফির বলা হয়েছে সত্যই যদি সে কফির হয় তাহলে সে কাফির। অন্যথায় কাফির বলে সম্বোধনকারীই কাফির হয়ে যাবে। – আহমাদ (২/৪৪,৪৭,৬০,১০৫)।
তিনি আরো বলেন :
لا يرمي رجل بفسوقও ولا يرميه بالكفرও إلا ارتدت عليهও إن لم يكن صاحبه كذلك –
আবু যার (রা.) হতে বর্ণিত তিনি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছেন: কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পাপাচারী ও কাফির বলে সম্বোধন করে আর যদি সম্বোধনকৃত ব্যক্তি সেরূপ না হয় তাহলে তার এ উক্তি তার (সম্বোধনকারীর) দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। – বুখারী, ৬০৪৫।
উপরোক্ত হাদীছগুলোতে নবী (সা.) মুসলিমদেরকে কাফির প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে সতর্ক ও সাবধান করেছেন। কারণ কাফির হয়ে যাবে এমন কোন কাজ না করলে কোন মুসলিম ব্যক্তিকে কাফির আখ্যা দেয়া নাজায়েয।


সুএঃসুন্নাহর পথযাত্রী

এ সম্পর্কিত অন্যান্য পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close