আল কুর’আন

আসহাবুল উখদূদের সংক্ষিপ্ত কাহিনী:

অতীতকালে এক বাদশার এক জাদুকর ও গণক ছিল। যখন সে গণক বৃদ্ধ অবস্থায় উপনীত হলো তখন সে বাদশাকে বলল, আমাকে একটি বুদ্ধিমান বালক দিন যাকে আমি এ বিদ্যা শিক্ষা দেব। সুতরাং বাদশা সে রকম একজন বুদ্ধিমান বালক খোঁজ করে তার কাছে সমর্পণ করলেন। ঐ বালকের পথে এক পাদরিরও ঘর ছিল। বালকটি পথে আসা যাওয়ার সময় সে পাদরির নিকট গিয়ে বসত এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতো। এভাবে তার আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকে। একদা এ বালকটির যাওয়ার পথে এক বৃহদাকার জন্তু (বাঘ অথবা সাপ) বসে ছিল যে মানুষের আসা যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল। বালকটি চিন্তা করল, আজকে আমি পরীক্ষা করব যেÑজাদুকর সত্য, না পাদরী। সে একটি পাথরের টুকরো কুড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ তা‘আলা! যদি পাদরীর আমল তোমার কাছে জাদুকরের আমল থেকে উত্তম এবং পছন্দনীয় হয়, তাহলে এ জন্তুকে মেরে ফেল, যাতে মানুষ চলাচল করতে পারে। এ বলে বালকটি পাথর ছুড়লে জন্তুটি মারা গেল। এবার বালকটি পাদরীর নিকট গিয়ে সব খুলে বলল। পাদরী বললেন : হে বৎস! এবার দেখছি তুমি পূর্ণ দক্ষতায় পৌঁছে গেছো। এবার তোমার পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। কিন্তু এ পরীক্ষা অবস্থায় আমার নাম তুমি প্রকাশ করবে না। এ বালকটি জন্মান্ধ ও ধবল প্রভৃতি রোগের চিকিৎসাও করত; তবে তা আল্লাহ তা‘আলার ওপর বিশ্বাসের শর্ত রেখেই করত। বালকটি এ শর্তানুযায়ী বাদশার এক সহচরের অন্ধ চক্ষুকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করে ভাল করে দেন। বালকটি বলত যে, আপনি যদি ঈমান আনেন তাহলে আমি আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করব; তিনি আরোগ্য দান করবেন। সুতরাং সে আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা জানালে তিনি রোগীকে আরোগ্য দান করতেন। এ খবর বাদশার নিকট গেল, সে বড় উদ্বিগ্ন হলো। কিছু সংখ্যক ঈমানদারকে সে হত্যাও করে ফেললো। আর এ বালকটির ব্যাপারে তিনি কয়েকটি লোককে ডেকে বললো যে, এ বালকটিকে উঁচু পাহাড়ের ওপর নিয়ে গিয়ে নীচে ফেলে দাও। বালকটি আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করলে পাহাড় কাপতে লাগল। সে ছাড়া সকলেই পাহাড় থেকে পড়ে গেল। বাদশা তখন বালকটিকে অপর কিছু লোকের কাছে সমর্পণ করে বললো, একে একটি নৌকায় চড়িয়ে সমুদ্রের মাঝে নিক্ষেপ কর। সেখানেও বালকটি বেঁচে গেল। এবার বালকটি বাদশাকে বলল : যদি আপনি আমাকে মারতে চান তাহলে এর সঠিক পদ্ধতি হলো একটি খোলা মাঠে লোকদেরকে সমবেত করে “বিসমিল্লাহি রাব্বিল গোলাম” বলে আমার প্রতি তীর নিক্ষপ করুন। দেখবেন আমি মারা গেছি। বাদশা তাই করলো। ফলে বালকটি মৃত্যুবরণ করল। সে ঘটনাস্থলেই লোকেরা উচ্চকণ্ঠে বলে উঠল যে, আমরা এ বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম। বাদশা আরো অধিক উদ্বিগ্ন হলো। অতএব সে তাদের জন্য গর্ত খনন করে তাতে আগুন জ্বালাতে আদেশ করলো। অতঃপর হুকুম দিলো যে, যে ব্যক্তি ঈমান হতে ফিরে না আসবে তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ কর। এভাবে ঈমানদার ব্যক্তিরা আসতে থাকল এবং আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে থাকল। পরিশেষে একটি মহিলার পালা এল, যার সঙ্গে তার বাচ্চাও ছিল। সে একটু পশ্চাদপদ হলো। কিন্তু বাচ্চাটি বলে উঠল, আম্মাজান! ধৈর্য ধরুন। আপনি সত্যের ওপরে আছেন। সুতরাং সেও আগুনে পুড়ে শহীদ হয়ে গেল। (সহীহ মুসলিম, যুহদ অধ্যায়, আসহাবে উখদূদ পরিচ্ছেদ।)


সুরা বুরুজ ৮নাম্বার আয়াতের তাফসির ফাতহুল মাজিদ থেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close