আল কুর’আন

কুরআন আপনার পক্ষের অথবা বিপক্ষের দলীল (শেষ কিস্তি)


অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন পরিত্যাগ করে প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ ‘আর শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সঙ্গে তর্ক-ঝগড়া করার জন্য প্ররোচিত করে; যদি তোমরা তাদের কথা মান্য করে চল তাহ’লে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে’ (আন‘আম ৬/১২১)।
কেননা শয়তান তার অনুসারীদেরকে বিদ‘আত, শিরক ও কুফরীতে প্ররোচিত করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ ‘তাদের মধ্যে তুমি যাকে পার উস্কে দাও তোমার কথা দিয়ে’ (ইসরা ১৭/৬৪)। শয়তান তার অনুসারীদের নিকট সেসব লোকদের আকৃতিতে গোচরীভূত হয়, যাদেরকে তারা ইবাদত করে অথবা যাদেরকে তারা সম্মান করে, ফলে তারা তাকে নিজ চোখে দেখতে পায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنْ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا إِنَاثًا وَإِنْ يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَانًا مَرِيدًا * لَعَنَهُ اللهُ وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا ‘তারা আল্লাহ্কে ছেড়ে শুধু কতকগুলো দেবীরই পূজা করে, তারা কেবল আল্লাহদ্রোহী শয়তানের পূজা করে। আল্লাহ তাকে অভিশাপ করেছেন। কারণ সে বলেছিল, আমি তোমার বান্দাদের থেকে নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী হিসেবে গ্রহণ করব’ (নিসা ৪/১১৭-১১৮)।
তিনি অন্যত্র বলেন, قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ – ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ – قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ ‘সে বলল, যেহেতু তার কারণেই (পথ থেকে) আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, কাজেই আমি অবশ্যই তোমার সরল পথে মানুষদের জন্য ওৎ পেতে থাকব। তারপর আমি তাদের সামনে দিয়ে, তাদের পিছন দিয়ে, তাদের ডানদিক দিয়ে, তাদের বামদিক দিয়ে, তাদের নিকটে অবশ্যই আসব, তুমি তাদের অধিকাংশকেই শোকর আদায়কারী পাবে না। তিনি বললেন, ধিকৃত আর বিতাড়িত হয়ে এখান থেকে  বেরিয়ে যা। তাদের মধ্যে যারা তোকে মান্য করবে তাদের সকলকে দিয়ে আমি অবশ্যই জাহান্নাম ভর্তি করব’ (আ‘রাফ ৭/১৬-১৮)।
আল্লাহ বলেন, أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَنًا ‘যাকে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়, অতঃপর সে সেটাকে উত্তম মনে করে’ (ফাত্বির ৩৫/৮)।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ كَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক থেকে আগত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত সে কি তার মত, যার কাছে তার মন্দ কর্ম সুশোভিত করা হয়েছে আর তারা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে’ (মুহাম্মাদ ৪৭/১৪)। তিনি অন্যত্র বলেন, وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَكَانُوا مُسْتَبْصِرِينَ ‘তাদের কাজগুলোকে শয়তান তাদের দৃষ্টিতে মনোমুগ্ধকর করেছিল। যার ফলে সৎ পথে চলতে তাদেরকে বাধা দিয়েছিল, যদিও তারা ছিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী’ (আ‘নকাবুত ২৯/৩৮)।
তিনি অন্যত্র বলেন, تَاللهِ لَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِيُّهُمُ الْيَوْمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ‘আল্লাহর কসম! তোমার পূর্বে আমি বহু জাতির কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু শয়তান তাদের কাছে তাদের কার্যকলাপকে শোভনীয় করে দিয়েছিল, আর আজ সেই তাদের অভিভাবক, তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি’ (নাহল ১৬/৬৩)।
অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন পরিত্যাগ করে ধারণার অনুসরণ করেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللهَ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ ‘তাদের অধিকাংশই কেবল ধারণার অনুসরণ করে, সত্যের মুকাবিলায় ধারণা কোন কাজে আসে না। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সর্বাধিক অবগত’ (ইউনুস ১০/৩৬)।
অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন প্রকাশ্য অর্থ পরিত্যাগ করে শাব্দিক অর্থকে প্রাধান্য দেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। কেননা সরাসরি কুরআন ও হাদীছ থাকা সত্ত্বেও শাব্দিক অর্থ নেয়া বিদ‘আতের নামান্তর ও প্রবৃত্তি পূজারীদের নীতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللهُ إِلَيْكَ ‘তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করবে না। আর তাদের থেকে সতর্ক থাক তারা যেন আল্লাহ তোমার প্রতি যা নাযিল করেছেন’ (মায়েদাহ ৫/৪৯)।
যারা এমন অর্থ গ্রহণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে অজ্ঞ। কেননা আল্লাহর কালামের উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। তাই কোন আয়াত থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্য কী, তা আল্লাহ নিজেই বর্ণনা করে দিয়েছেন, কারো দায়িত্বে ছেড়ে দেননি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ ‘অতঃপর তা (অহিয়ে খফী বা প্রচ্ছন্ন অহির মাধ্যমে) বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা আমারই দায়িত্ব’ (ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৯)।
তিনি অন্যত্র বলেন, وَكَذَلِكَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ وَلِيَقُولُوا دَرَسْتَ وَلِنُبَيِّنَهُ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ‘এভাবেই আমি নিদর্শনগুলোকে বার বার নানাভাবে বর্ণনা করি। যার ফলে তারা (অর্থাৎ অবিশ্বাসীরা) বলে, তুমি (এসব কথা অন্যের কাছ থেকে) শিখে নিয়েছ, বস্ত্ততঃ আমি জ্ঞানী লোকদের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করি’ (আনআম ৬/১০৫)।
আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং তাদেরকে নিজ উদ্দেশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, যেন তারা মানবজাতিকে তা জানিয়ে দেয়। তিনি তাঁর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের উপর ছেড়ে দেননি। তিনি বলেন, وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ‘আমি কোন রাসূলকেই তার জাতির ভাষা ছাড়া পাঠাইনি যাতে তাদের কাছে স্পষ্টভাবে (আমার নিদর্শনগুলো) বর্ণনা করতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেছেন, আর যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখিয়েছেন, তিনি বড়ই পরাক্রান্ত, বিজ্ঞানময়’ (ইবরাহীম ১৪/৪)।
তিনি অন্যত্র বলেন, وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ‘আর এখন তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে আর যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে’ (নাহল ১৬/৪৪)।
আল্লাহ তা‘আলা আভিধানিক অর্থকে শরী‘আতের উপর প্রাধান্য দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা (কোন বিষয়েই) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে আগে বেড়ে যেয়ো না, আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’ (হুজরাত ৪৯/১)।
শরী‘আতের ব্যাখ্যা থাকা সত্ত্বেও প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যতীত কেউ আভিধানিক অর্থের অনুসরণ করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللهِ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ‘অতঃপর তারা যদি তোমার কথায় সাড়া না দেয় তাহ’লে জেনে রাখ, তারা শুধু তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর পথ নির্দেশ ছাড়াই যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না’ (ক্বাছাছ ২৮/৫০)।
অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন পরিত্যাগ করে যুক্তির অনুসরণ করেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। কেননা প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যুক্তির অনুসরণ করা বিদ‘আতীদের নীতি, আর তাদের নেতা হচ্ছে ইবলীস। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ – قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِين- ‘(আল্লাহ) বললেন, আমি নির্দেশ দেয়ার পরেও কিসে তোকে সিজদা করা থেকে বিরত রাখল?’ সে (শয়তান) বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম, আমাকে সৃষ্টি করেছ আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছ কাদা থেকে।’ তিনি বললেন, ‘নেমে যা এখান থেকে, এর ভিতরে থেকে অহঙ্কার করবে তা হতে পারে না, অতএব বেরিয়ে যা, অধমের মাঝে তোর স্থান’ (আ‘রাফ ৭/১২-১৩)। আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়াসকে শরী‘আতের উপর প্রাধান্য দিতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللهِ وَرَسُولِه ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা (কোন বিষয়েই) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে আগে বেড়ে যেয়ো না’ (হুজরাত ৪৯/১)।
প্রবৃত্তির অনুসারী ব্যতীত কেউ শরী‘আতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যুক্তির অনুসরণ করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ‘অতঃপর তারা যদি তোমার কথায় সাড়া না দেয় তাহ’লে জেনে রাখ, তারা শুধু তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর পথ নির্দেশ ছাড়াই যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না’ (ক্বাছাছ ২৮/৫০)। তিনি অন্যত্র বলেন, وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ ‘কিন্তু অধিকাংশ লোকই অজ্ঞতাবশতঃ তাদের খেয়াল খুশি দ্বারা অবশ্যই (অন্যদেরকে) পথভ্রষ্ট করে, তোমার প্রতিপালক সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত’ (আনআম ১১৯)।
অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন পরিত্যাগ করে পূর্বের শরী‘আত অনুসরণ করেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا ‘আর আমি সত্য বিধানসহ তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সংরক্ষক। কাজেই মানুষদের মধ্যে বিচার ফায়ছালা কর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে, আর তোমার কাছে যে সত্যবিধান এসেছে তা ছেড়ে দিয়ে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরী‘আত ও একটি কর্মপথ নির্ধারণ করেছি’ (মায়েদাহ ৫/৪৮)।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي مَرَرْتُ بِأَخٍ لِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ فَكَتَبَ لِي جَوَامِعَ مِنْ التَّوْرَاةِ أَلَا أَعْرِضُهَا عَلَيْكَ قَالَ فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ أَصْبَحَ فِيكُمْ مُوسَى ثُمَّ اتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ إِنَّكُمْ حَظِّي مِنْ الْأُمَمِ وَأَنَا حَظُّكُمْ مِنْ النَّبِيِّينَ-
আব্দুল্লাহ ইবনু ছাবেত (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! বনু কুরায়যার এক বন্ধুর পাশ দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম, সে আমাকে তাওরাতের কিছু সংক্ষিপ্ত বাণী লিখে দিল, আমি কি আপনার সামনে তা পেশ করব? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, সে সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ; যদি মূসাও তোমাদের মাঝে আগমন করে অতঃপর তোমরা তার অনুসরণ কর ও আমাকে পরিত্যাগ কর, তাহ’লে অবশ্যই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। জাতিসমূহ থেকে তোমরা আমার ভাগের এবং নবীদের থেকে আমি তোমাদের ভাগের’।[1]
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكِتَابٍ أَصَابَهُ مِنْ بَعْضِ أَهْلِ الْكُتُبِ فَقَرَأَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَغَضِبَ فَقَالَ أَمُتَهَوِّكُونَ فِيهَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ مُوسَى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِيِ-
জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) আহলে কিতাবের জনৈক ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত একখানা কিতাব নিয়ে নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আসেন, নবী করীম (ছাঃ) তা পাঠ করে রাগান্বিত হ’লেন এবং বললেন, হে ইবনুল খাত্তাব, তোমার কি তাতে (অর্থাৎ তাওরাতে) দ্বিধাগ্রস্ত, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট পবিত্র কিতাব নিয়ে এসেছি, যদি মূসা (আঃ) জীবিত থাকতেন, তাহ’লে আমার অনুসরণ ব্যতীত তাঁরও উপায় ছিল না’।[2]
অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন পরিত্যাগ করে মনগড়া মাযহাব ও মতবাদের অনুসরণ করেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ‘আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে তারা তাদের আলেম ও দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে; আর মরিয়ম-পুত্র মসীহ্কেও। অথচ তাদেরকে এক ইলাহ ব্যতীত (অন্যের) ইবাদত করার আদেশ দেয়া হয়নি। তিনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, পবিত্রতা আর মহিমা তাঁরই, (বহু উর্ধ্বে তিনি) তারা যাদেরকে (তাঁর) অংশীদার গণ্য করে তাত্থেকে’ (তওবা ৯/৩১)।
وَعَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِى جُحْرِ ضَبٍّ لاَتَّبَعْتُمُوهُمْ. قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ آلْيَهُودَ وَالنَّصَارَى قَالَ فَمَن-
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের পূর্বের লোকদের নীতি-আদর্শ পুরোপুরিভাবে অনুকরণ করবে, এক বিঘত এক বিঘতের সঙ্গে ও হাত হাতের সঙ্গে, এমনকি তারা যদি গুঁই সাপের গর্তে ঢুকে থাকে তবুও তোমরা তাদের অনুকরণ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তারা কি ইয়াহুদী ও নাছারা? তিনি বলেন, তবে আর কারা?।[3]
অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন পরিত্যাগ করে কল্পনা ও কারামতের অনুসরণ করেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَبِّهِمُ الْهُدَى ‘তারা তো শুধু অনুমান ও প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, যদিও তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে’ (নাজম ৫৩/২৩)।
তিনি অন্যত্র বলেন, مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ‘শুধু অমূলক ধারণার অনুসরণ ছাড়া এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞানই ছিল না’ (নিসা ৪/১৫৭)। তিনি অন্যত্র আরো বলেন, وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللهَ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ ‘তাদের অধিকাংশই কেবল ধারণার অনুসরণ করে, সত্যের মুকাবিলায় ধারণা কোন কাজে আসে না। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সর্বাধিক অবগত’ (ইউনুস ১০/৩৬)।
অনুরূপভাবে আপনি যদি কুরআন পরিত্যাগ করে ছুফী দরবেশদের পদ্ধতির অনুসরণ করেন, তাহ’লে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ فَاللهُ هُوَ الْوَلِيُّ وَهُوَ يُحْيِي الْمَوْتَى وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ‘কী? তারা কি আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবক গ্রহণ করে নিয়েছে? আল্লাহই তো একমাত্র অভিভাবক, তিনিই মৃতকে জীবিত করেন আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’ (শূরা ৪২/৯)।
তিনি অন্যত্র বলেন, وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا – وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا ‘আর তারা বলেছিল, তোমাদের দেবদেবীদের কখনও পরিত্যাগ করো না, আর অবশ্যই পরিত্যাগ করো না ওয়াদ সুআ‘কে, আর না ‘ইয়াগুছ, ইয়া‘উক ও নাসরকে। তারা গোমরাহ করেছে অনেককে, তুমি যালিমদের গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করো না’ (নূহ ৭১/২৩-২৪)।
ছূফী-দরবেশদের অন্ধ অনুসরণের কারণেই যুগে যুগে গোমরাহীর পথ উন্মুক্ত হয়েছে। যেমন, নূহ (আ.)-এর যুগের এরূপ দরবেশশ্রেণীর ব্যক্তিদের নাম কুরআনে এসেছে। যেমন واد ওয়াদ, سواع সুয়া, يغوث ইয়াগুছ, يعوق ইয়াউক, نسر নাসর প্রমুখ। এরা প্রত্যেককেই ছিলেন একজন সৎ লোক। কিন্তু তাদের মৃত্যুর পরে তার গোত্র বা কওম তার প্রতি প্রথমে সম্মান প্রদর্শন করে পরবর্তীতে তার ইবাদতে লিপ্ত হয়।
অনুরূপভাবে কতিপয় লোক আছহাবে কাহফের যুবকদের প্রতি প্রথমে সম্মান প্রদর্শন করে, অতঃপর তাদের উপর মসজিদ নির্মাণ করে তাদের ইবাদতে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا ‘তাদের কর্তব্য সম্পর্কে যাদের মতামত প্রাধান্য লাভ করল তারা বলল, আমরা তাদের উপর অবশ্য অবশ্যই মসজিদ নির্মাণ করব’ (কাহফ ১৮/২১)।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ ذَكَرَتْ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَنِيسَةً رَأَتْهَا بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ يُقَالُ لَهَا مَارِيَةُ فَذَكَرَتْ لَهُ مَا رَأَتْ فِيهَا مِنْ الصُّوَرِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُولَئِكَ قَوْمٌ إِذَا مَاتَ فِيهِمْ الْعَبْدُ الصَّالِحُ أَوْ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللهِ-
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট তাঁর হাবশায় দেখা মারিয়া নামক একটা গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি সেখানে যে সব প্রতিচ্ছবি দেখেছিলেন, সেগুলোর বর্ণনা দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বললেন, এরা এমন সম্প্রদায় যে, এদের মধ্যে কোন সৎ বান্দা অথবা বলেছেন কোন সৎ লোক মারা গেলে তার কবরের উপর তারা মসজিদ বানিয়ে নিত। আর তাতে ঐ সব ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি স্থাপন করতো। এরা আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম সৃষ্টজীব’।[4]
عَنْ عَائِشَةَ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ قَالَا لَمَّا نَزَلَ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ فَإِذَا اغْتَمَّ بِهَا كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا-
আয়েশা ও আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেছেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর মৃত্যুর যন্ত্রনা শুরু হ’লে তিনি তাঁর একটা চাদরে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করতে লাগলেন। যখন শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলো, তখন মুখ হ’তে চাদর সরিয়ে দিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন, ইহুদী ও নাছারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। (এ বলে) তারা যে (বিদ‘আতী) কার্যকলাপ করত তা হতে তিনি সতর্ক করেছিলেন’।[5]
অনুরূপভাবে আপনি যদি গায়েব জানার জন্য কুরআন পরিত্যাগ করেন এবং মুজাহাদা ও শারীরিক কসরতের মাধ্যমে আল্লাহ, দ্বীন এবং নবী করীম (ছাঃ)-কে জানার জন্য গায়েবকে দৃশ্যমান করতে চান, তাহলে কুরআন আপনার বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَا كَانَ اللهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللهَ يَجْتَبِي مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ فَآمِنُوا بِاللهِ وَرُسُلِهِ وَإِنْ تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ ‘অসৎকে সৎ থেকে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় আছ, আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে অদৃশ্যের বিধান জ্ঞাত করেন না, তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বেছে নেন, কাজেই তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন। যদি তোমরা ঈমান আন আর আল্লাহভীতি অবলম্বন কর, তাহ’লে তোমাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার’ (আলে ইমরান ৩/১৭৯)। তিনি অন্যত্র বলেন, عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا – إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا‘একমাত্র তিনিই অদৃশ্যের জ্ঞানী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। কেননা তিনি তখন তাঁর রাসূলের আগে-পিছে পাহারাদার নিযুক্ত করেন’ (জিন ৭২/২৬-২৭)।

তিনি অন্যত্র বলেন, قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ‘বল, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহর ধন-ভান্ডার আছে, আর আমি অদৃশ্যের খবরও জানি না, আর আমি তোমাদেরকে এ কথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা, আমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয় তাছাড়া (অন্য কিছুর) আমি অনুসরণ করি না। বল, অন্ধ আর চক্ষুমান কি সমান, তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না’ (আন‘আম ৬/৫০)।


(মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-আম্মারী الْقُرْاٰنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ বই অবলম্বনে লিখিত)
 [লেখক : নারায়ণপুর, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর]

উৎস: মাসিক তাওহীদে ডাক

এ সম্পর্কিত অন্যান্য পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন

Close
Close