বিবিধ বিষয়

জবাবদিহিতা

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

আল-কুরআনুল কারীম :

1- أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ-فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ- وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ-

(১) ‘তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমরা তোমাদেরকে বৃথা সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমাদের কাছে ফিরে আসবে না? অতএব মহামহিম আল্লাহ যিনি যথার্থ অধিপতি। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি মহান আরশের মালিক। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করে, তার উক্ত কথার কোন প্রমাণ নেই। তার হিসাব (বদলা) তো তার প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে। নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীরা সফলকাম হয় না’  (মুমিনূন ২৩/১১৫-১১৭)

2- وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمِيثَاقَهُ الَّذِي وَاثَقَكُمْ بِهِ إِذْ قُلْتُمْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ-

(২) ‘আর তোমরা তোমাদের উপর আল্লাহর নে‘মতকে স্মরণ কর এবং ঐ অঙ্গীকারকে স্মরণ কর যা তোমরা তাঁর সাথে করেছিলে। যখন তোমরা বলেছিলে, আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ হৃদয়ের কথাসমূহ জানেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সত্য সাক্ষ্য দানে অবিচল থাক এবং কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার কর, যা আল্লাহভীতির অধিকতর নিকটবর্তী। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সকল কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত’ (মায়েদাহ ৫/৭-৮)

3- وَكُلَّ إِنْسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنْشُورًا-اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا- مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا-

(৩) ‘প্রত্যেক মানুষের কৃতকর্মকে আমরা তার গ্রীবালগ্ন করে রেখেছি। আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে বের করে দেখাব একটি আমলনামা, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। (সেদিন আমরা বলব,) তুমি তোমার আমলনামা পাঠ কর। আজ তুমি নিজেই নিজের হিসাবের জন্য যথেষ্ট। যে ব্যক্তি সৎপথ অবলম্বন করে, সে তার নিজের মঙ্গলের জন্যেই সেটা করে। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, সে তার নিজের ধ্বংসের জন্যেই সেটা হয়। বস্ত্ততঃ একের বোঝা অন্যে বহন করে না। আর আমরা রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না’ (বনু ইস্রাঈল১৭/১৩-১৫)

4- تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ-الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ-

(৪) ‘বরকতময় তিনি, যাঁর হাতে সকল রাজত্ব এবং তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য, কে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর আমল করে। আর তিনি মহা পরাক্রান্ত ও ক্ষমাশীল’ (মুলক৬৭/১-২) ।

5- وَلا تَقْرَبُوا مالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كانَ مَسْؤُلًا- وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطاسِ الْمُسْتَقِيمِ ذلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا- وَلا تَقْفُ ما لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤادَ كُلُّ أُولئِكَ كانَ عَنْهُ مَسْؤُلًا-

(৫) ‘তোমরা ইয়াতীমের মালের নিকটবর্তী হয়ো না কল্যাণ উদ্দেশ্য ব্যতীত, যতদিন না সে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা মাপের সময় পূর্ণভাবে মেপে দিবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওযন করবে। এটাই উত্তম ও পরিণামে শুভ। যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার পিছে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয় প্রত্যেকটির বিষয়ে তোমরা (ক্বিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসিত হবে’ (বনু ইস্রাঈল১৭/৩৪-৩৬)

হাদীছে নববী :

6- عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاَهُ وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ-

(৬) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামত দিবসে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার আগ পর্যন্ত আদম সন্তানের পদদ্বয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট হ’তে সরাতে পারবেনা। তার জীবনকাল সম্পর্কে, কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কি কাজে তা বিনাশ করেছে? তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা হ’তে তা উপার্জন করেছে এবং তা কি কি খাতে খরচ করেছে এবং সে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে মোতাবেক কি কি আমল করেছে?।[1]

7- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضى الله عنهماأَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ فِى أَهْلِهِ رَاعٍ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ فِى بَيْتِ زَوْجِهَا رَاعِيَةٌ وَهْىَ مَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا، وَالْخَادِمُ فِى مَالِ سَيِّدِهِ رَاعٍ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ. قَالَ فَسَمِعْتُ هَؤُلاَءِ مِنَ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم وَأَحْسِبُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالرَّجُلُ فِى مَالِ أَبِيهِ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ- فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ-

 (৭) আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং নিজ অধীনস্তদের বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। ইমাম বা শাসক একজন দায়িত্বশীল। কাজেই আপন অধীনস্থদের বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল। কাজেই তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর খাদিম তার মনিবের সম্পদ রক্ষাণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে তার দায়িত্বাধীন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ) হ’তে এদের সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে শুনেছি। তবে আমার ধারণা নবী করীম (ছাঃ) আরো বলেছেন, আর সন্তান তার পিতার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই তার দায়িত্বাধীন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মোটকথা তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে’।[2]

8- وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – قُرَيْشًا، فَاجْتَمَعُوا، فَعَمَّ وَخَصَّ، فَقَالَ: يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي مُرَّةَ بْنِ كَعْبٍ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي هَاشِمٍ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ! أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا فَاطِمَةُ! أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ، فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، غَيْرَ أَنَّ لَكُمْ رَحِمًا سَأَبُلُّهَا بِبَلَالِهَا.

 (৮) আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘যখন তুমি তোমার নিকটত্মীয়দেরকে সতর্ক কর’ (শো‘আরা ২৬/২১৪) নাযিল হ’ল, তখন নবী করীম (ছাঃ) কুরাইশদের ডাক দিলেন। তারা সমবেত হ’ল। তিনি ব্যাপকভাবে এবং বিশেষ বিশেষ গোত্রকে ডাক দিয়ে সতর্কবাণী শুনালেন। তিনি বললেন, হে কা‘ব ইবনে লুয়াই্র বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও। হে মুররা ইবনে কা‘বের বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। হে আবদে শামসের বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। হে আবদে মানাফের বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। হে হাশেমের বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। হে ফাতেমা! তুমি তোমার দেহকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও। কেননা, আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা আমার নাই। তবে তোমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, ইহা আমি (দুনিয়াতে) সদ্ব্যবহার দ্বারা সিক্ত করব’।[3]

9- عَنْ أَبِى حُمَيْدٍ السَّاعِدِىِّ رضى الله عنه قَالَ اسْتَعْمَلَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً مِنَ الأَزْدِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ اللُّتْبِيَّةِ عَلَى الصَّدَقَةِ، فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ هَذَا لَكُمْ ، وَهَذَا أُهْدِىَ لِى. قَالَ فَهَلاَّ جَلَسَ فِى بَيْتِ أَبِيهِ أَوْ بَيْتِ أُمِّهِ، فَيَنْظُرَ يُهْدَى لَهُ أَمْ لاَ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لاَ يَأْخُذُ أَحَدٌ مِنْهُ شَيْئًا إِلاَّ جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى رَقَبَتِهِ، إِنْ كَانَ بَعِيرًا لَهُ رُغَاءٌ أَوْ بَقَرَةً لَهَا خُوَارٌ أَوْ شَاةً تَيْعَرُثُمَّ رَفَعَ بِيَدِهِ،حَتَّى رَأَيْنَا عُفْرَةَ إِبْطَيْهِ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ثَلاَثًاِ.

 (৯) আবু হুমাইদ সাঈদী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আযদ গোত্রের ইবনু লুতবিয়্যাহ নামের এক লোককে ছাদাক্বাহ সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, এগুলি আপনাদের আর এগুলি আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বললেন, সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না। তখন সে দেখত পেত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কি দেয়না? যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, ছাদাক্বাহর মাল হ’তে স্বল্প পরিমাণও যে আত্মসাৎ করবে, সে তা কাঁধে করে ক্বিয়ামত দিবসে উপস্থিত হবে। সেটা উট হ’লে তার আওয়াজ করবে, আর গাভী হ’লে হাম্বা হাম্বা রব করবে আর বকরী হ’লে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করতে থাকবে। অতপর রাসূল (ছাঃ) তাঁর দু’হাত এই পরিমাণ উঠালেন যে, আমরা তার দুই বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি তিনবার বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?’।[4]

10- وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ وَالٍ يَلِي رَعِيَّةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَيَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لَهُمْ إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ-

(১০) মা‘কাল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেছেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মুসলিম জনসাধারণের দায়িত্ব লাভ করল আর তার মৃত্যু হ’ল এই অবস্থায় যে, সে ছিল খিয়ানতকারী, তাহ’লে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন’।[5]

মনীষীদের বক্তব্য :

১. ড. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ দাররাজ বলেন, ‘একজন ব্যক্তির উপর অর্পিত দায়িত্ব, দায়িত্ব পালন ও অন্যকে যথাযথা অর্পিত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়াটাই হ’ল জবাবদিহিতা’।[6]

২. ড. আহমাদ বিন আব্দুল আযীয বলেন, ‘ব্যক্তির শারঈ দায়িত্বানুভূতি যার আদেশগুলি মানা, নিষেধগুলি পরিত্যাগ করা ও সেগুলির হিসাবের সংরক্ষণ-ই হ’ল জবাবদিহিতা’।[7]

৩. ড. ছালেহ ইবনু আব্দুল হামীদ বলেন, ‘জবাবদিহিতা এমন একটি সুন্দর বিষয় যা মানুষের বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সম্পাদিত হয়’।[8]

৪. মুছতাফা ছবরী বলেন, ‘জবাবদিহিতা হ’ল দুনিয়া ও আখেরাত সংশ্লিষ্ট যে কোন কাজে মানুষের যথাযোগ্য যোগ্যতা প্রর্দশন’।[9]

৫. আল-মুনজিদ ফিল লুগাহ ওয়াল আ‘লাম প্রণেতা বলেন, ‘জবাবদিহিতা হ’ল ব্যক্তির উপর অর্পিত এমন কাজ বা আদেশমালা যা তাকে দায়িত্বশীল হিসাবে মানুষের মাঝে উপস্থাপন করে’।[10]

৬. আব্দুল কাদের ‘আওদা বলেন, ‘জবাবদিহিতা হ’ল স্বেচ্ছায় মানুষের এমন বিশেষ কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ যার বাস্তবতা ও পরিণাম সম্পর্কে সে পুরোপুরি ওয়াকিফহাল’।[11]

সারবস্ত্ত :

১. জবাবদিহিতা আল্লাহর হক ও বান্দার হকের ব্যাপারে অনুভূতি সৃষ্টি করে।

২. জবাবদিহিতার মাধ্যমে কাজের একনিষ্টতা ও তাতে ছওয়াব অর্জিত হয়।

৩. জবাবদিহিতার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি মানুষের আস্তার প্রতীক ও গর্বিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।

৪. জবাবদিহিতা মাধ্যমে সচেতন ও সৌভাগ্যবান দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রয়োজনীয় কাজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

৫. দায়িত্ব যত ছোটই হোক না কেন, জবাবদিহিতার আলোকে সাধ্যানুযায়ী কার্যসম্পাদন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সামাজিক সম্মান কখনো ভূলুন্ঠিত হয়না।

৬. শক্তিশালী রাজ্যের মযবুত ভিতই হ’ল জবাবদিহিতার উপরে প্রতিষ্ঠিত যা বিরোধীতা, বিশৃঙ্খলা এমনকি যুদ্ধ পর্যন্ত তার কোন ক্ষতি করতে পারেনা।

৭. জবাবদিহিতার ভিত্তিতেই একজন মানুষ সমাজে মূল্যায়িত হয়।

[1]. তিরমিযী হা/২৪১৬; মিশকাত হা/৫১৯৭।

[2]. বুখারী হা/২৫৫৮

[3]বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৩৭৩

[4]বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৭৯।

[5]বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৮৬।

[6]. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ দাররাজ, কিতাবুদ দ্বীন, ৭-৮ পৃঃ।

[7]. ড. আহমাদ বিন আব্দুল আযীয, আল-মাসউলিয়্যাতুল খলক্বিয়্যাহ ওয়াল জাযায়ু আলাইহা, ৭১ পৃঃ

[8]. ড. ছালেহ ইবনু আব্দুল হামীদ, মাউসূ‘আতু নাযরাতুন নাঈম ফি মাকারিমে আখলাকির রাসূল ছাল্লাহু ‘আলাইহিস সাল্লাম, ৮/২৪০০ পৃঃ।

[9].মুছতাফা ছবরী, মাওক্বিফুল বাশার তাহতা সুলতানিল ক্বদার, ১৭১ পৃঃ

[10]. আল-মুনজিদ ফিল লুগাহ ওয়াল আ‘লাম ৩১৬ পৃঃ

[11]. আব্দুল কাদের ‘আওদা, আত-তাশরীঈল জানাঈ মাকারুনা বিল কানূনিল ওয়াযাঈ,১/৩৯২ পৃঃ

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না


সুএঃ তাওহীদের ডাক ডেস্ক

#SotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন

Close
Close