মৃত্যু | কবর | কিয়ামত | জাহান্নাম | জান্নাত

আসুন এই আন্দোলনটা এবার আমাদের ঘর থেকেই শুরু করি!

রাতে ঘুমোতে গেলে যখন সারাদিনের কর্মের হিসাব মিলাই তাতে নিজেকে মুনাফ্বিক ছাড়া অন্যকিছু ভাবতেই পারিনা! জীবন থেকে একটি দিন চলে যাওয়া মানেই আরেকটু মৃত্যুর নিকটবর্তী হওয়া অথচ আমরা বেখবর হয়েই রইলাম!

– ব্যস্ততা!
– চাকুরী!
– দায়িত্ব!
– সময় সল্পতা!
– গাফালত!
– জাহালত!
– দুনিয়াদারী!
– নারী!
– অর্থলোভ!

এসকল অজুহাতে লাগামহীন জীবন যাপন করছি! নিফ্বাকের মুখোশ ধারণ করে আর কতকাল চলবো? দ্বীনের লেবাসে নিফ্বাকের মুখোশ লাগিয়ে আশেপাশের মানুষের সামনে নিজেকে দ্বীনদার ছাবিত করা গেলেও তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লার কাছে গ্রহণীয় হবে তো? আমার এই দ্বীনদারিত্ব যদি আমাকে, আমার পরিবারকে,আমার বন্ধু মহলকে প্রভাবিত করতে না পারে, তাহলে বুঝতে হবে কোথাও কোনো ঘাড়তি রয়েই যাচ্ছে!
.

বড্ড আফসোস লাগে, আমার জন্মদাতা পিতা এখনো বেনামাযী অথচ আমি ফেসবুকে লম্বা লম্বা আর্টিকেল রচনার মাধ্যমে মানুষকে নামাযের আহবান করছি, অপরদিকে নিজের পিতার পেছনে একটু সময় ব্যায় করলাম না!

আমাদের গর্ভধারিনী মা এই বয়সেও পাতলা কাপড়,
ছোট ব্লাউজ, মেকআপ, সুগন্ধি লাগিয়ে দিব্যি পড়শীর বিয়ের অনুষ্ঠানে, বাজারে গমন করছে অথচ আমি কখনো নুন্যতম নাসীহাতটুকুও করিনা, কেননা তিনি আমার “মা” সেই সম্মানার্থে !

আমার আদরের ছোটবোন, আমার চোখের সামনে টাইট ফিট সেলোয়ার-কামিজ, রকমারি ফিটিং বোরকা, আধা হিজাবী হয়ে স্কুল, কলেজ,ভার্সিটিতে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, শোনা যায় যে, তার নাকি দু’চারজন বয়ফ্রেন্ডও আছে (!) তারপরও একটু শাসন করিনা কারন ছোটবোনকে বড্ড আদর করি!

আমার মায়ের পেটের সন্তান অর্থাৎ আমার ভাইগুলোই বেদ্বীন, বেনামাযী, হারামে ইনকামে লিপ্ত অথচ আমি দাওয়াতি কাজে সফরও করি! এ যেন নিজ ঘর অন্ধকারে রেখে অন্যের ঘরে প্রদীপ জ্বালানো!
.

আমি সেই ব্যক্তি যেকিনা নিজের স্ত্রীকে খুশি রাখতে গিয়ে হালাল-হারামের পর্যন্ত তোয়াক্কা করিনা অথচ ঐ স্ত্রীও বেপর্দা অবস্থায় যার-তার সামনে এসে মুচকি হেসে মেহমানদারী, গল্পগুজবে ব্যস্ত! আমার চোখের সামনেই অহরহ এসব হচ্ছে তারপরেও সংসারে অশান্তি হতে পারে সেই ভয়ে না-দেখার ভান ধরে থাকি!

আমাদের ঘরেই টিভি, ডিস,ডিভিডির আস্তানা আবার আমিই অনলাইনে সেই ভারতীয় সিরিয়ালসহ যাবতীয় অশ্লীলতা বিরোধী বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর! এরকম সুস্পষ্ট নিফ্বাকিতে ডুবে থেকেও, আমি, আপনি, আমরা তৃপ্তির ঢ়েঁকুর ফেলছি!
.

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা খোদ প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে নির্দেশ করেছেন আগে নিজেকে ও নিজ পরিবারকে জাহান্নামের সেই ভয়াবহ আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য কিন্তু আমরা সারা দুনিয়ার মানুষের হেদায়াত নিয়ে চিন্তিত অথচ নিজ পরিবারের ব্যাপারে গাফেল!

মহান আল্লাহ বলেন :
“হে ঈমানদারগন! নিজেকে এবং স্বীয় পরিবার পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয় কঠোর স্বভাব ফেরেশতাগণ। আল্লাহ্‌ যা আদেশ করেন, তা তারা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয় তাই তারা করে।
— [সূরা তাহ্‌রীম, ৬৬ : আয়াত ৬ ]

অন্যত্র বলেন,
ﻱﺍَ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﻟْﺘَﻨْﻈُﺮْ ﻧَﻔْﺲٌ ﻣَﺎ ﻗَﺪَّﻣَﺖْ ﻟِﻐَﺪٍ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺧَﺒِﻴْﺮٌ ﺑِﻤَﺎ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮْﻥَ، ﻭَﻻَ ﺗَﻜُﻮﻧُﻮْﺍ ﻛَﺎﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻧَﺴُﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﻓَﺄَﻧْﺴَﺎﻫُﻢْ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﺃُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻔَﺎﺳِﻘُﻮْﻥَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত আগামী কালের জন্য (অর্থাৎ আখিরাতের জন্য) সে কি প্রেরণ করেছে, তা চিন্তা করা। আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে আল্লাহ তাদেরকে আত্মভোলা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তারা ফাসিক’।
— [সুরা হাশর ১৮ ]
.

হে প্রিয় ভাই! বিশ্বাস করুন, পরিবারকে সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে আমি, আপনি, আমরা হয়ত এরকম বহু হারাম কাজকে প্রশ্রয় দিবো, হয়ত উপরিউক্ত বিষয়গুলোকে কঠোর হাতে দমন না করে এড়িয়ে যাবো কিন্তু এতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লার সন্তুষ্টি কতটুকু অর্জিত হবে বা হচ্ছে তা কি কখনো ভেবে দেখেছি!?

প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করার মাধ্যমে মানুষকে সন্তুষ্ট করে আল্লাহ তাকে মানুষের দায়িত্বে অর্পণ করেন।” — [সুনান তিরমিযী ]
.
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে খুশি করতে গিয়ে নিজের পরিবারকে অসন্তুষ্ট করবে আল্লাহ তাকে ও তার পরিবারকে সন্তুষ্ট করে দিবেন।”
— [ ইকতিদায়ুস সিরাতিল মুসতাকিম ২/৫-৬ ]

সুতরাং নিজেকে অন্তত একটি বারের জন্যে হলেও প্রশ্ন করুন, আপনি নিজ পরিবারের তুলনায় আপনার রব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লাকে কতটুকু সন্তুষ্ট করছেন!?
.

হে প্রিয় ভাই! যে সিলেবাস আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা আপনাকে দেন নাই তার ব্যপারে আপনাকে প্রশ্ন করবেন না কিন্তু যে বিষয়ে আপনি আল্লাহর তরফ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তার জবাব দেয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু!?

প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর সবাই তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে।

ইমাম একজন দায়িত্বশীল; তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন।

পুরুষ দায়িত্বশীল তার পরিবারের; সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে।

মহিলা দায়িত্বশীল তার স্বামীর গৃহের (তার সম্পদ ও সন্তানের); সে জিজ্ঞাসিত হবে তার দায়িত্ব সম্পর্কে।

ভৃত্যও একজন দায়িত্বশীল! সে জিজ্ঞাসিত হবে তার মুনিবের সম্পদ সম্পর্কে। (এককথায়) তোমরা সবাই দায়িত্বশীল আর সবাই জিজ্ঞাসিত হবে সে দায়িত্ব সম্পর্কে।
— [সহীহ বুখারী : ৭১৩৮]
.

শেষ কথা : আমাদের মধ্যে অনেকেই তো রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন মাশা আল্লাহ খুব গতিশীলভাবেই করে যাচ্ছেন! তাহলে আসুন আর দেরী না করে আমরা নিজেদেরকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসাবে, প্রকৃত মুসলমান হিসাবে গড়ে তোলার জন্য জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সাথে ফেলি। নিজেকে ও নিজ পরিবারকে সচ্চরিত্রবান, নীতিবান ও আদর্শবান হিসাবে গড়ে তুলি। এর মাধ্যমে সমাজের আরো দশটা লোক আমাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে। আর এভাবেই গড়ে উঠবে আদর্শ পরিবার; আদর্শ সমাজ থেকে আদর্শ রাষ্ট্র। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা আমাদেরকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আ-মীন!


আখতার বিন আমীর ভাই এর ফেইসবুক পেজ থেকে

#ShotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close