preloder
নবী রাসুল | সাহাবী ও সালাফগণ

ইমাম কুরতুবী (রহঃ)

মনীষী চরিত

ভূমিকা :

ইমাম কুরতুবী (রহঃ) হিজরী ৭ম শতকের একজন প্রখ্যাত স্প্যানিশ মুফাস্সির, ফকীহ ও ধর্মতাত্ত্বিক। কর্ডোভার পতনের পর এই অনন্য ইলমী প্রতিভার দ্যুতি নীলনদ বিধেŠত মিসরে বিচ্ছুরিত হয়। নিরলস জ্ঞানসাধনার মাধ্যমে তিনি রচনা করেন তাঁর জগদ্বিখ্যাত তাফসীর ‘আলে-জামে লি-আহকামিল কুরআন’। যা ‘তাফসীরে কুরতুবী’ নামে খ্যাত। আহকামুল কুরআন বিষয়ক এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও অসাধারণ তাফসীর। তাফসীর সাহিত্যের দিগ্বলয়ে এটি চির ভাস্বর।

নাম ও বংশ পরিচয় :

ইমাম কুরতুবীর আসল নাম মুহাম্মাদ। কুনিয়াত বা উপনাম আবু আব্দুল্লাহ।[1] কেউ কেউ তাঁর উপাধি ‘শামসুদ্দীন’ (দ্বীনের সূর্য) বলে উল্লেখ করেছেন।[2] তবে পূর্ববর্তী মনীষীদের রচিত জীবনীগ্রন্থগুলিতে এ উপাধি লক্ষ্য করা যায় না। তাঁর বংশপরিক্রমা হল- মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবুবকর বিন ফার্হ (فَرْح) আল-আনছারী আল-খাযরাজী আল-আন্দালুসী আল-কুরতুবী।[3] মদীনার আনছার সম্প্রদায়ের খাযরাজ গোত্রের দিকে সম্পর্কিত হওয়ায় তিনি তাঁর ‘কিতাবুত তাযকিরাহ’ গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর নামের শেষে আল-আনছারী আল-খাযরাজী এবং ‘আন্দালুস’ বা স্পেনের ‘কুরতুবা’ (কর্ডোভা) জন্মস্থান হওয়ায় আল-কুরতুবী লিপিবদ্ধ করেছেন। তবে ইলমী পরিমন্ডলে তিনি ইমাম কুরতুবী রূপেই সমধিক খ্যাত ও পরিচিত। এমনকি কুরতুবী নামটি উচ্চারিত হলে সর্বাগ্রে স্পেনের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের কথাই আমাদের মানসপটে ভেসে উঠে।

জন্ম :

ইমাম কুরতুবীর জন্ম তারিখ সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয় যে, তিনি হিজরী সপ্তম শতকের প্রথম দিকে কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেন।[4] তাফসীরে কুরতুবীতে সূরা আলে ইমরানের ১৬৯নং আয়াতের তাফসীরে তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুসন ৬২৭ হিজরী বলে উল্লেখ করেছেন। জমিতে ফসল কর্তনরত অবস্থায় ইউরোপীয় খ্রিষ্টানরা কর্ডোভায় আক্রমণ করলে তাঁর পিতাসহ অনেকে নিহত ও বন্দী হন। তখন তিনি পিতার দাফন-কাফন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর তিনজন শিক্ষককে জিজ্ঞেস করেন।[5] এ ঘটনা থেকে অনুমিত হয় যে, তিনি তখন ছোট ও ছাত্র ছিলেন। সম্ভবতঃ তিনি তাঁর জীবনের দ্বিতীয় দশকে ছিলেন। অর্থাৎ তাঁর জন্ম হয়েছিল ৭ম হিজরী শতকের প্রথম দিকে।[6] শায়খ আলবানী (রহঃ)-এর খ্যাতিমান ছাত্র জীবনীকার মাশহূর হাসানের মতে তিনি ৬০০-৬১০ হিজরীর দিকে জন্মগ্রহণ করেন।[7] ইমাম কুরতুবীর ‘কিতাবুত তাযকিরাহ’ গ্রন্থের মুহাক্কিক ড. ছাদেক বিন মুহাম্মাদের মতে ৬২৭ হিজরীতে পিতার মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ১৭-২৩ বছর ছিল। এ হিসাবে আনুমানিক ৬০৪-৬১০ হিজরীর মাঝামাঝি সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।[8] আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

শৈশব ও শিক্ষা :

ইমাম কুরতুবী মুওয়াহ্হিদীন[9] শাসকদের যুগে কর্ডোভায় পিতার কাছে লালিত-পালিত হন এবং ৬৩৩ হিজরীতে (১২৩৬ খ্রিঃ) কর্ডোভার পতন পর্যন্ত সেখানে বসবাস করেন। তাঁর পিতা একজন দরিদ্র কৃষক ছিলেন। ৬২৭ হিজরীতে খ্রিষ্টানদের হাতে নিহত হওয়ার দিন তিনি জমির ফসল কর্তন করছিলেন। যেমন ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীরে বলেন,أغار العدو- قصمه اللهُ- صَبِيحَةَ الثَّالِثِ مِنْ رَمَضَانَ الْمُعَظَّمِ سَنَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَسِتِّمِائَةٍ وَالنَّاسُ فِي أَجْرَانِهِمْ عَلَى غَفْلَةٍ، فَقَتَلَ وَأَسَرَ، وَكَانَ مِنْ جُمْلَةِ مَنْ قُتِلَ وَالِدِيْ رَحِمَهُ الله- ‘৬২৭ হিজরীর মহিমান্বিত রামাযান মাসের তিন তারিখ ভোরে শত্রু আক্রমণ করে। আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুক! তখন মানুষ ক্ষেতে ফসল কাটায় ব্যস্ত ছিল। সে হত্যা করে ও বন্দী করে। নিহতদের মধ্যে আমার পিতাও ছিলেন। আল্লাহ তাঁর উপরে রহম করুন’।[10]

ইমাম কুরতুবী বাল্যকালে শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করেন। এ সময় কুরআন মাজীদ শিক্ষার পাশাপাশি তিনি আরবী ভাষা ও কবিতা শিক্ষা করেন। তদানীন্তন স্পেনে এটাই ছিল শিক্ষার সাধারণ রীতি। অথচ অন্যান্য মুসলিম দেশে মুসলিম বাচ্চারা ছোটবেলায় শুধু কুরআন মাজীদ পড়া শিখত।[11]

কর্ডোভায় ইমাম কুরতুবী দারিদ্রে্যর মাঝে লালিত-পালিত হন। যৌবনকালে তাঁর কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ولقد كنت في زمن الشباب أنا وغيري ننقل التراب على الدواب من مقبرة عندنا تسمى بمقبرة اليهود خارج قرطبة… إلى الذين يصنعون القرمد للسقف- ‘কর্ডোভার বাইরে অবস্থিত ইহুদীদের একটি কবরস্থান থেকে যৌবনকালে আমি ও আমার বন্ধুরা পশুর পিঠে মাটি বহন করে ছাদের জন্য যারা টালি তৈরী করত তাদের কাছে নিয়ে আসতাম’।[12] মুহাক্কিক ড. ছাদেক বলেন, فالذي يظهر أن القرطبي كان يتكسب من عمله هذا، لأن الذين يصنعون تلك الحجارة للسقف ما يصنعونها في العادة إلا لبيعها- ‘সম্ভবত কুরতুবী তাঁর এই কাজের মাধ্যমে অর্থোপার্জন করতেন। কারণ যারা ছাদের জন্য সেই টালিগুলি তৈরী করত তারা সাধারণত বিক্রয়ের উদ্দেশ্যেই তা তৈরী করত’।[13]

বাল্যকালেই ইমাম কুরতুবীর মাঝে দ্বীনী ইলম শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও অদম্য স্পৃহা সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি এ সময় জ্ঞানচর্চায় ব্যাপৃত থাকতেন। কর্ডোভার বিখ্যাত আলেম-ওলামার মজলিসে গিয়ে তিনি জ্ঞানসমুদ্রের মূল্যবান মণিমুক্তা আহরণ করতেন। শুধু শিক্ষকমন্ডলীর কাছ থেকে জ্ঞানার্জনেই তাঁর জ্ঞানের ক্ষুধা মিটত না। বরং বিভিন্ন বই-পুস্তক গভীর অভিনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করে তিনি তাঁর জ্ঞানের দিগন্তকে সম্প্রসারিত করতেন। যেমন তিনি বলেন, حسب ما رويته أو رأيته ‘যেমনটা আমি বর্ণনা করেছি বা দেখেছি’।[14] তিনি আরো বলেন, وكنت بالأندلس قد قرأت أكثر من كتب المقرئ الفاضل أبي عمرو عثمان بن سعيد بن عثمان توفي سنة أربع و أربعين وأربعمائة- ‘আমি আন্দালুসে বিশিষ্ট ক্বারী আবু আমর ওছমান বিন সাঈদ বিন ওছমান (মৃঃ ৪৪৪ হিঃ)-এর অধিকাংশ গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছিলাম’।[15]

অন্যত্র তিনি বলেন,وقد تصفّحتُ كتاب الترمذي أبي عيسى، وسمعت جميعه، فلم أقف على هذا الحديث فيه، فإن كان في بعض النسخ فالله أعلم، وأما كتاب النسائي فسمعت بعضه وكان عندي كثير منه، فلم أقف عليه وهو نُسَخ، فيحتمل أن يكون في بعضها، و الله أعلم- ‘আমি আবু ঈসা তিরমিযীর (জামে) গ্রন্থটি  খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি এবং এর পুরোটাই শুনেছি। আমি সেখানে এ হাদীছটি পাইনি। তবে অন্য কোন কপিতে থাকলে তা আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। পক্ষান্তরে নাসাঈর (সুনান) গ্রন্থটির কিছু অংশ আমি শ্রবণ করেছি। এর বৃহদাংশ আমার কাছে মওজুদ আছে। সেখানেও আমি হাদীছটি পাইনি। তবে সুনানে নাসাঈর কতিপয় পান্ডুলিপি রয়েছে। হতে পারে অন্য কোন কপিতে হাদীছটি আছে। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত’।[16]

ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে আমরা দেখতে পাই যে, তদানীন্তন সময়ে কর্ডোভা জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করেছিল। সেখানে অনেক সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল। এমনকি বলা হয়েছে যে,إذا مات عالم بإشبيلية فأريد بيع كتبه حملت إلى قرطبة حتى تباع فيها- ‘ইশবীলিয়ায় কোন আলেম মৃত্যুবরণ করার পর তার গ্রন্থসমূহ বিক্রয়ের মনস্থ করা হলে সেগুলি কর্ডোভায় আনা হত এবং সেখানে বিক্রয় করা হত’।[17] বহু আলেম-ওলামা ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরীতে ঠাসা ইলমী পরিবেশে ইমাম কুরতুবীর শিক্ষা জীবনের তরী সঠিক পথেই এগুচ্ছিল।

আন্দালুসে থাকা অবস্থায় তিনি যেসব শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা অর্জন করেন তারা হলেন,

১. ইবনু আবী হাজ্জাহ (মৃঃ ৬৪৩/১২৪৫ খ্রিঃ) : আবু জা‘ফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ কায়সী কুরতুবী ওরফে ইবনু আবী হাজ্জাহ একজন প্রখ্যাত নাহবী, মুহাদ্দিছ, ফকীহ ও ক্বারী ছিলেন। তিনি ইমাম কুরতুবীর প্রথমদিকের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে তিনি ইলমে কিরাআতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।[18] ঐতিহাসিক মার্রাকুশী (৬৩৪-৭০৩ হিঃ) বলেন, تلا بالسبع في بلده على أبي جعفر بن أبي حجة ‘তিনি তাঁর দেশে আবু জা‘ফর ইবনু আবী হাজ্জাহর নিকট সাত কিরাআতে কুরআন পাঠ করেন’।[19] কর্ডোভায় খ্রিষ্টানদের আকস্মিক আক্রমণে নিহত পিতার গোসল সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি তাঁর শিক্ষক ইবনু আবী হাজ্জাহকে প্রথম জিজ্ঞেস করেছিলেন। ইমাম কুরতুবী বলেন,فَسَأَلْتُ شَيْخَنَا الْمُقْرِئَ الْأُسْتَاذَ أَبَا جَعْفَرٍ أَحْمَدَ الْمَعْرُوفَ بِأَبِي حَجَّةَ فقال: غسله وصلي عَلَيْهِ، فَإِنَّ أَبَاكَ لَمْ يُقْتَلْ فِي الْمُعْتَرَكِ بَيْنَ الصَّفَّيْنِ- ‘অতঃপর আমি আমাদের শিক্ষক ক্বারী আবু জা‘ফর আহমাদ ওরফে ইবনু আবী হাজ্জাহকে জিজ্ঞেস করি। তিনি  বলেন, তুমি তোমার পিতাকে গোসল দাও এবং তার উপর জানাযার ছালাত পড়ো। কারণ তোমার পিতা যুদ্ধক্ষেত্রে দু’লের মধ্যে লড়াইয়ের সময় নিহত হননি’।[20]

২. রবী বিন আব্দুর রহমান (৫৬৯-৬৩২/১২৩৫ খ্রিঃ) : আবু সুলায়মান রবী বিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন রবী আশ‘আরী কর্ডোভার অধিবাসী এবং এর শেষ বিচারক ছিলেন। তিনি ইশবীলিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।[21] পিতাকে গোসল দান সংক্রান্ত বিষয়ে ইবনু আবী হাজ্জাহর পর কুরতুবী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ইমাম কুরতুবী বলেন, ثُمَّ سَأَلْتُ شَيْخَنَا رَبِيعَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رَبِيعِ بْنِ أُبَيٍّ فَقَالَ: إِنَّ حُكْمَهُ حُكْمُ الْقَتْلَى فِي الْمُعْتَرَكِ ‘অতঃপর আমি আমাদের শিক্ষক রবী বিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন রবী বিন উবাইকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, যুদ্ধের ময়দানে নিহতদের মতোই তাঁর হুকুম’।[22]

৩. আবু আমের ইয়াহ্ইয়া বিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন রবী আশ‘আরী (মৃঃ ৬৩৯/১২৪১ খ্রিঃ) : ইমাম কুরতুবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন,أخبرنا الشيخ الفقيه الإمام المحدث القاضي أبو عامر يحيى بن عامر بن أحمد بن منيع الأشعري نسبا ومذهبا بقرطبة- أعادها الله- في ربيع الآخر عام ثمانية وعشرين وستمائة قراءة مني عليه- ‘শায়খ ফকীহ ইমাম মুহাদ্দিছ কাযী আবু আমের ইয়াহ্ইয়া বিন আমের বিন আহমাদ বিন মানী‘ আশ‘আরীর নিকট পড়ার সময় ৬২৮ হিজরীর রবীউল আখের মাসে আমাদেরকে কর্ডোভায় বর্ণনা করেন। আল্লাহ তা পুনরুদ্ধার করুন’।[23] মার্রাকুশী বলেন,وروى-أى القرطبى- عن أبي عامر بن ربيع وأكثر عنه- ‘কুরতুবী আবু আমের বিন রবী থেকে অনেক  হাদীছ বর্ণনা করেছেন’।[24] তিনি কুরতুবীকে অধিকাংশ হাদীছ বর্ণনার ইজাযত দিয়েছেন।[25]

৪. আবুল হাসান আলী বিন কুতরাল (৫৬৩-৬৫১/১২৫৩ খ্রিঃ) : আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন কুতরাল আনছারী কুরতুবী মালেকী আন্দালুসের বিভিন্ন শহরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। ইলমে বালাগাতে তিনি বিশেষ পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।[26] ইমাম কুরতুবী তদীয় শিক্ষক রবীর পর তাঁর নিকট পিতার গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। যেমন তিনি বলেন, ثُمَّ سَأَلْتُ قَاضِيَ الْجَمَاعَةِ أَبَا الْحَسَنِ عَلِيَّ بْنَ قُطْرَالٍ وَحَوْلَهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الْفُقَهَاءِ فَقَالُوا: غَسِّلْهُ وَكَفِّنْهُ وَصَلِّ عَلَيْهِ – ‘অতঃপর আমি প্রধান বিচারপতি আবুল হাসান আলী বিন কুতরালকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তার পাশে একদল ফকীহ ছিলেন। তারা বললেন, তাকে গোসল দাও, কাফন পরাও এবং তার উপর জানাযার ছালাত পড়ো’।[27]

৫. আবু মুহাম্মাদ বিন হাওতুল্লাহ (৫৪৯-৬১২/১২১৪ খ্রিঃ) : ইনি স্পেনের একজন খ্যাতিমান মুহাদ্দিছ, কবি ও নাহবী ছিলেন। কর্ডোভার বিচারক থাকার সময় শেষোক্ত দু’জন শিক্ষকের কাছ থেকে ইমাম কুরতুবী জ্ঞানার্জন করেন।[28]

মিসরে হিজরত :

ইমাম কুরতুবী (রহঃ) ৬৩৩ হিজরী পর্যন্ত কর্ডোভায় অবস্থান করেন। কর্ডোভার পতনের পর তিনি ভগ্ন হৃদয়ে আনুমানিক ২০/২৫ বছর বয়সে মিসরে হিজরত করেন।[29] দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থগুলিতে তাঁর কর্ডোভা থেকে মিসর হিজরতের কোন বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাছাড়া প্রশ্ন হ’ল, আন্দালুস ত্যাগের পর কেন তিনি মিসরকে হিজরতস্থল হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন? অথচ কর্ডোভার পতনের পর এর অধিবাসীরা ইশবীলিয়ায় হিজরত করেছিলেন। এর উত্তরে বলা যায়, কুরতুবী যে সময় মিসরে হিজরত করেছিলেন, তখন তা বিভিন্ন দেশ ও জাতির আলেমদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। সাথে সাথে সেখানে ইলমী পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় ছিল। তাই এই নিরাপদ পরিবেশে বিভিন্ন শ্রেণীর আলেম-ওলামার কাছ থেকে জ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্যে তিনি মিসরে হিজরত করেন।[30] উল্লেখ্য যে, একই কারণে আন্দালুসের বেশ কয়েকজন আলেম, কবি ও সাহিত্যিক এ সময় মিসরে হিজরত করেন। তাদের মধ্যে শায়খ আবুবকর তুরতূশী (মৃঃ ৫২০ হিঃ), শাতিবী, ইবনু মালেক অন্যতম।[31]

দ্বিতীয়ত, তদানীন্তন সময়ে আববাসীয় খেলাফতের রাজধানী ইরাকের বাগদাদ আলেম-ওলামার পদভারে মুখরিত থাকত। অথচ তিনি সেখানেও হিজরত করেননি। এর কারণ হিসাবে বলা যায়, সম্ভবত তিনি রাজধানীর ডামাডোল থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছিলেন। কারণ রাজধানীই তো রাজনৈতিক ঘটনাবলীর কেন্দ্রবিন্দু, ফিৎনা-ফাসাদ ও শত্রুপক্ষের আক্রমণের লক্ষ্যবস্ত্ত হয়ে থাকে। যদি কুরতুবীর মিসরে হিজরত করার এটিই কারণ হয়ে থাকে তবে তার ধারণা সত্যে পরিণত হয়েছিল। কারণ তিনি মিসরে অবস্থানকালীন সময়ে হালাকূ খান ও তার সেনাবাহিনী বাগদাদ আক্রমণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে এবং অধিকাংশ আলেম ও ফকীহকে হত্যা করে।[32]

মিসরে আসার পর তিনি সেখানকার বিভিন্ন শহরে-নগরে পরিভ্রমণ করে ইলমে দ্বীন হাছিল করেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ’ল-

১. আলেকজান্দ্রিয়া : মিসরে হিজরত করে ইমাম কুরতুবী সর্বপ্রথম এ অনিন্দ্যসুন্দর শহরে আসেন। এখানে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন এবং আবুল আববাস কুরতুবী ওরফে ইবনুল মুযাইয়িন (৫৯৮-৬৫৬হিঃ/১২৫৮ খ্রিঃ), আবু মুহাম্মাদ ইবনু রাওয়াজ ও আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মু‘তী লাখমীর নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করেন।[33]

আবুল আববাস কুরতুবী মালেকী মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলেম ছিলেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ইলমে হাদীছ, ফিক্বহ এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যে গভীর মনীষার অধিকারী এই মহান মনীষী ‘আল-মুফহিম ফী শরহে ছহীহ মুসলিম’ নামে মুসলিমের একটি শরাহ লিখেন। ইমাম নববী ছহীহ মুসলিমের শরাহ লেখার সময় এর দ্বারা উপকৃত হন। ঐতিহাসিক ইবনু ফারহূন ও মাক্কারী বলেন, سمع من الشيخ أبي العباس أحمد بن عمر القرطبي مؤلف المفهم في شرح مسلم بعض هذا الشرح- ‘তিনি আল-মুফহিম ফী শরহে মুসলিম প্রণেতা শায়খ আবুল আববাস আহমাদ বিন ওমর কুরতুবীর কাছ থেকে এই শরাহ-এর কিয়দংশ শুনেছেন’।[34]

ইমাম কুরতুবী তাঁর শিক্ষকমন্ডলীর মধ্যে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁর গ্রন্থাবলী দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর নিকট থেকে অনেক হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি তাকে شَيْخُنَا الْفَقِيهُ الْإِمَامُ ‘আমাদের শায়খ, ফক্বীহ ও ইমাম’,  مِنَ الْعُلَمَاءِ الْمُحَقِّقِيْنَ ‘মুহাক্কিক আলেমদের অন্যতম’ প্রভৃতি গুণে বিভূষিত করেছেন।[35]

ইমাম কুরতুবী বলেন, سمعت شيخنا الإمام أبا العباس أحمد بن عمر القرطبي بثغر الإسكندرية- ‘আমি আমাদের শিক্ষক ইমাম আবুল আববাস আহমাদ বিন ওমর কুরতুবীর নিকট থেকে আলেকজান্দ্রিয়া সমুদ্রবন্দর এলাকায় শ্রবণ করেছি।[36] হাদীছে নববীর তাখরীজ, এর দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও দুর্বোধ্য বিষয় সমূহের সমাধানে কুরতুবী তাঁর এই শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।[37]

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহ্হাব ইবনু রাওয়াজ ইস্কানদারানী (৫৫৪-৬৪৮/১২৫০ খ্রিঃ) একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ফকীহ ছিলেন। মার্রাকুশী[38], দাঊদী[39], সুয়ূত্বী[40] প্রমুখ তাঁকে ইমাম কুরতুবীর শিক্ষকগণের মধ্যে গণ্য করেছেন। ইমাম কুরতুবীও ‘কিতাবুত তাযকিরাহ’ গ্রন্থের কয়েক জায়গায় তাঁর থেকে হাদীছ বর্ণনার ও তাঁর নিকট কতিপয় গ্রন্থ অধ্যয়নের কথা উল্লেখ করেছেন। ঐতিহাসিক মার্রাকুশী বলেছেন, وأكثر عنه ‘তিনি তাঁর নিকট থেকে অনেক হাদীছ বর্ণনা করেছেন’।[41]

আলেকজান্দ্রিয়াতেও তিনি তাঁর নিকট থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। যেমন একটি হাদীছ বর্ণনার পর ইমাম কুরতুবী বলেন,أنبأناه الشيخ المسن الحاج الراوية أبو محمد عبد الوهاب بن ظافر بن علي بن فتوح بن أبي الحسن القرشي- عرف بابن رواج- بمسجده بثغر الإسكندرية حماه الله- ‘শায়খ অশীতিপর হাজী রাবী আবু মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহ্হাব বিন যাফের বিন আলী বিন ফুতূহ বিন আবুল হাসান কুরাশী ওরফে ইবনু রাওয়াজ আলেকজান্দ্রিয়া সমুদ্রবন্দর এলাকায় তাঁর মসজিদে আমাদের নিকট এই হাদীছটি বর্ণনা করেছেন’। আল্লাহ শহরটিকে রক্ষা করুন![42]

তাছাড়া আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মু‘তী বিন আবিছ ছানা লাখমীর নিকট (মৃঃ ৬৩৮/১২৪১) থেকেও হাদীছ বর্ণনা করেছেন। যেমন ইমাম কুরতুবী নিজেই বলেন,وَسَمِعْتُ شَيْخَنَا الْإِمَامَ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ الْمُعْطِي بِثَغْرِ الْإِسْكَنْدَرِيَّةِ ‘আমি আমাদের শিক্ষক ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মু‘তীর কাছ থেকে আলেকজান্দ্রিয়া সমুদ্রবন্দর এলাকায় শুনেছি…’।[43]

ঐতিহাসিক মার্রাকুশী তাকে ইমাম কুরতুবীর শিক্ষকদের মধ্যে গণ্য করে বলেন, ورحل إلى المشرق وروى هنالك عن أبي العباس أحمد بن عمر الأنصاري القرطبي وأبو محمد عبد المعطي بن محمد بن عبد المعطي اللخمي الإسكندراني- ‘তিনি প্রাচ্যে সফর করেছেন এবং সেখানে আবুল আববাস আহমাদ বিন ওমর আনছারী কুরতুবী ও আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মু‘তী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মু‘তী লাখমী ইস্কানদারানীর নিকট থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন’।[44] কুরতুবী তাঁর কাছ থেকে ‘ইমলা’ (শ্রুতলিখন) সূত্রে তাঁর ‘আর-রিসালাতুল কুশায়রিয়াহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি শুনেছেন।[45]

২. ফাইয়ূম : তিনি কারাফীর সাথে মিসরের এই শহরে সফর করেন। ঐতিহাসিক ছালাহুদ্দীন ছাফাদী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু সাইয়িদিন নাস ইয়া‘মুরী বলেছেন,

تَرَافَقَ الْقُرْطُبِيّ الْمُفَسّر وَالشَّيْخ شهَاب الدّين الْقَرَافِيّ فِي السّفر إِلَى الفيوم وكل مِنْهُمَا شيخ فنه فِي عصره الْقُرْطُبِيّ فِي التَّفْسِير والْحَدِيث والقرافي فِي المعقولات-

‘মুফাস্সির কুরতুবী ও শায়খ শিহাবুদ্দীন কারাফী একসাথে ফাইয়ূম সফর করেন। তাদের প্রত্যেকেই স্বীয় যুগে স্ব স্ব বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ছিলেন। কুরতুবী তাফসীর ও হাদীছে এবং কারাফী মা‘কূলাতে’।[46] এ সফরে উভয়ে উভয়ের কাছ থেকে ইলমী ফায়েদা হাছিল করেন।

৩. মানছূরাহ : ৬৪৭ হিজরীতে ইমাম কুরতুবী এ শহরে সফর করেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে শায়খ আবু আলী হাসান বিন মুহাম্মাদ বাকরীর (৫৭৪-৬৫৬ হিঃ/১২৫৮ খ্রিঃ) নিকট হাদীছ অধ্যয়ন করেন। যেমন ইমাম কুরতুবী নিজেই তাঁর তাফসীরে বলেছেন,قرأت على الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْمُحَدِّثِ الْحَافِظِ أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنِ بن محمد بن محمد بن محمد بن عَمْرُوكٍ الْبَكْرِيِّ بِالْجَزِيرَةِ قُبَالَةَ الْمَنْصُورَةِ مِنَ الدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ- ‘আমি মিসরের মানছূরার নিকটবর্তী জাযীরাহ নামক স্থানে শায়খ ইমাম মুহাদ্দিছ হাফেয আবু আলী হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আমরূক বাকরীর নিকট পড়েছি’।[47] তিনি আরো বলেন,أخبرناه عالياً الشيخ الإمام الحافظ المسند أبو الحسن علي بن محمد بن محمد بن محمد بن عمروك البكري التيمي من ولد أبي بكر الصديق رضي الله عنه قراءة عليه بالمنصورة بالديار المصرية في يوم الجمعة الثالث عشر من شهر رجب الفرد سنة سبع وأربعين وستمائة- ‘৬৪৭ হিজরীর রজব মাসের ১৩ তারিখ শুক্রবার আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ)-এর বংশধর শায়খ ইমাম নির্ভরযোগ্য হাফেয আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আমরূক বাকরী তায়মীর নিকট মিসরের মানছূরায় পড়ার সময় তিনি আমাদের নিকট এই হাদীছটি উচ্চসনদে বর্ণনা করেছেন’।[48]

৪. কায়রো : সম্ভবত ইমাম কুরতুবী কায়রোতেও কিছু সময় বসবাস করেন। কারণ তখন এটি ছিল মিসরের রাজধানী। তিনি  এখানকার খ্যাতিমান আলেমদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হন।[49]

৫. মুনয়াতু বানী খাছীব : মিসরের আসইঊত প্রদেশের উত্তরে মুনয়াতু বানী খাছীব (বর্তমানে আল-মিনয়া নামে পরিচিত) নামক স্থানে ইমাম কুরতুবী স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং এখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রিয় শিক্ষক আবুল হাসান আলী বিন হিবাতুল্লাহ লাখমী ওরফে ইবনুল জুম্মাইযীর (৫৫৯-৬৪৯/১২৫১ খ্রিঃ) সাহচর্য লাভের জন্য তিনি এখানে থিতু হন। দাঊদী[50] ও সুয়ূত্বী[51] তাঁকে ইমাম কুরতুবীর শিক্ষকদের মধ্যে গণ্য করেছেন। যেমন কুরতুবী বলেন,…أنبأناه الشيخ الفقيه الإمام مفتي الأنام أبو الحسن علي بن هبة الله الشافعي بمنية بني خصيب على ظهر النيل- ‘শায়খ ফকীহ ইমাম জগদ্বাসীর মুফতী আবুল হাসান আলী বিন হিবাতুল্লাহ শাফেঈ মিসরের মুনয়াতু বানী খাছীবে আমাদের নিকট এই হাদীছটি বর্ণনা করেছেন’।[52] তিনি তাঁর কাছ থেকে ইলমে হাদীছ, নাহু, কিরাআত ও ফিক্বহ-এর জ্ঞান হাছিল করেন।[53]

তাছাড়া তিনি ‘আত-তারগীব ওয়াত তারহীব’ সংকলক যাকিউদ্দীন মুনযেরী (৫৮১-৬৫৬ হিঃ), ইমাম আবুল কাসেম কূমী, শায়খ আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ ইয়াহ্ছূবী প্রমুখের নিকট থেকেও জ্ঞানার্জন করেন।[54]

[ক্রমশঃ]

 

[1]. জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী, তাবাকাতুল মুফাস্সিরীন, তাহকীক : আলী মুহাম্মাদ ওমর (সঊদী আরব : ওয়াকফ মন্ত্রণালয়, ১৪৩১/২০১০), পৃঃ ৯২, জীবনী ক্রমিক ৮৮

[2]. ইসমাঈল পাশা বাগদাদী, হাদিয়াতুল আরিফীন ২/১২৯

[3]. ইমাম কুরতুবী, কিতাবুত তাযকিরাহ বিআহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমূরিল আখিরাহ, তাহকীক : ড. ছাদেক বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম (রিয়াদ : মাকতাবাতু দারিল মিনহাজ, ১ম প্রকাশ, ১৪২৫ হিঃ), ১ম খন্ড, পৃঃ ১০৯।

[4]. আব্দুল্লাহ ঈদান আহমাদ আয-যাহরানী, তারজীহাতুল কুরতুবী ফিত-তাফসীর (প্রথম থেকে সূরা বাক্বারার ১৮৮ আয়াত পর্যন্ত), অপ্রকাশিত এম.এ থিসিস, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব, ১৪২৮-১৪২৯ হিঃ, পৃঃ ১৫

[5]. ইমাম কুরতুবী, আল-জামে লি-আহকামিল কুরআন (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ, ১৪১৩/১৯৯৩), ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ১৭৪

[6]. তারজীহাতুল কুরতুবী ফিত-তাফসীর, পৃঃ ১৫-১৬

[7]. মাশহূর হাসান, আল-ইমাম আল-কুরতুবী শায়খু আইম্মাতিত তাফসীর (দামেশক : দারুল কলম, ১ম প্রকাশ, ১৪১৩ হিঃ/১৯৯৩ খ্রিঃ), পৃঃ ২০

[8]. কিতাবুত তাযকিরাহ ১/২৭

[9]. মুহাম্মাদ বিন তুমারত (৪৮৫-৫২৪ হিঃ/১০৯২-১১৩০ খ্রিঃ) ৫২৪ হিজরীতে মাগরিবে মুওয়াহ্হিদীন রাজত্ব (دولة الموحِّدين) প্রতিষ্ঠা করেন।

[10]. তাফসীরে কুরতুবী ৪/১৭৪, সূরা আলে ইমরানের ১৬৯নং আয়াতের তাফসীর দ্রঃ

[11]. মুকাদ্দামা ইবনে খালদূন (কায়রো : দারু ইবনিল জাওযী, ১ম প্রকাশ, ২০১০), পৃঃ ৪৯০, ‘শিশুশিক্ষা এবং মুসলিম দেশগুলিতে তার পদ্ধতিগত ভিন্নতা’ অনুচ্ছেদ।

[12]. কিতাবুত তাযকিরাহ ১/১৬৮

[13]. ঐ, ১/২৮

[14]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৩২

[15]. কিতাবুত তাযকিরাহ ৩/১১৯৭

[16]. কিতাবুত তাযকিরাহ ১/১৮৭

[17]. আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাক্কারী, নাফহুত তীব মিন গুছনিল আন্দালুস আর-রাতীব, তাহকীক: ড. ইহসান আববাস (বৈরূত: দারু ছাদির, ১৩৮৮/১৯৬৮), ১/১৫৫ ‘কর্ডোভার কিছু বিবরণ ও এর খ্যাতি’ শিরো. দ্রঃ

[18]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৬৩-৬৪

[19]. মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মার্রাকুশী, আয-যায়ল ওয়াত তাকমিলাহ, তাহকীক : ড. ইহসান আববাস গং (তিউনেসিয়া : দারুল গারব আল-ইসলামী, ১ম প্রকাশ, ২০১২), ৩য় খন্ড, পৃঃ ৪৯৫, জীবনী ক্রমিক ১১৫৪

[20]. তাফসীরে কুরতুবী ৪/১৭৪

[21]. জামাল আব্দুল্লাহ আবু সুহলূব, মানহাজুল কুরতুবী ফিল কিরাআ-ত ওয়া আছারুহা ফী তাফসীরিহী, অপ্রকাশিত এম.এ থিসিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, গাযা, ফিলিস্তীন, পৃঃ ২৮-২৯

[22]. তাফসীরে কুরতুবী ৪/১৭৪

[23]. ঐ, ৩/১৫৫, বাক্বারাহ ২৪৫ নং আয়াতের তাফসীর দ্রঃ

[24]. আয-যায়ল ওয়াত তাকমিলাহ ৩/৪৯৫

[25]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৬৭

[26]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৬৮-৬৯; তারজীহাতুল কুরতুবী, পৃঃ ২২।

[27]. তাফসীরে কুরতুবী ৪/১৭৪

[28]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৬৯-৭০

[29]. ঐ, পৃঃ ১৭, ৩৭

[30]. মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ হাস্সূনী, ‘তারজামাতুল ইমাম আল-কুরতুবী’, www.alukah.net।

[31]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৩৭

[32]. কিতাবুত তাযকিরাহ ১/৩১

[33]. ইবনু নাছিরুদ্দীন দামেশকী, তাওযীহুল মুশতাবাহ, তাহকীক : মুহাম্মাদ নাঈম আরকূসী (বৈরূত: মুআস্সাসাতুর রিসালাহ, ১৯৯৩), ৭ম খন্ড, পৃঃ ৬৫; আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৩৮

[34]. ইবনু ফারহূন, আদ-দীবাজ আল-মুযাহ্হাব ফী মা‘রেফাতে ওলামায়ে আ‘য়ানিল মাযহাব (কায়রো: দারুত তুরাছ, তাবি), ২/৩০৯, জীবনী ক্রমিক ১১৪; নাফহুত তীব ২/২১১

[35]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৭২

[36]. কিতাবুত তাযকিরাহ ১/১৮৭

[37]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৭৪

[38]. আয-যায়ল ওয়াত তাকমিলাহ ৫/৪৯৫।

[39]. হাফেয শামসুদ্দীন দাঊদী, তাবাকাতুল মুফাস্সিরীন (বৈরূত : দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ, ১ম প্রকাশ, ১৪০৩ হিঃ/১৯৮৩ খ্রিঃ), ২য় খন্ড, পৃঃ ৭০, জীবনী ক্রমিক ৪৩৪।

[40]. তাবাকাতুল মুফাস্সিরীন, পৃঃ ৯২।

[41]. আয-যায়ল ওয়াত তাকমিলাহ ৩/৪৯৫

[42]. কিতাবুত-তাযকিরাহ ১/৩৪১

[43]. তাফসীরে কুরতুবী, ১০/২৭৪, কাহ্ফ ৫০ নং আয়াতের তাফসীর দ্রঃ

[44]. আয-যায়ল ওয়াত তাকমিলাহ ৩/৪৯৫।

[45]. তাফসীরে কুরতুবী ১১/৩০, কাহফ ৭৯-৮২ আয়াতের তাফসীর দ্রঃ

[46]. ছালাহুদ্দীন ছাফাদী, আল-ওয়াফী বিল ওফায়াত (বৈরূত: দারু ইহ্ইয়াইত তুরাছিল আরাবী, ১ম প্রকাশ, ১৪২০/২০০০), ২য় খন্ড, পৃঃ ৮৭, জীবনী ক্রমিক ৪৭২।

[47]. তাফসীরে কুরতুবী ১৫/৯২, ছাফফাত ১৮০-৮২ আয়াতের তাফসীর দ্রঃ

[48]. কিতাবুত তাযকিরাহ ২/৭৯৬

[49]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৩৯

[50]. তাবাকাত ২/৭০

[51]. তাবাকাত, পৃঃ ৯২

[52]. কিতাবুত তাযকিরাহ ১/৩৪১

[53]. আল-ইমাম আল-কুরতুবী, পৃঃ ৪০, ৮২

[54]. তাফসীরে কুরতুবী, উর্দূ অনুবাদ : ড. হাফেয ইকরামুল হক ইয়াসীন (শরী‘আহ একাডেমী, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামাবাদ, পাকিস্তান, ১ম প্রকাশ, ২০০৪), ১ম খন্ড, পৃঃ ৭২


ড. নূরুল ইসলাম-* ভাইস প্রিন্সিপাল, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উৎস: মাসিক আত-তাহরীক মে- ২০১৮

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close