preloder
নির্বাচিত ফেসবুক স্ট্যাটাস

প্রশ্ন: এখনকার জামানায় কি এমন লোকজন আছে যারা খাওয়ারিজদের মতাদর্শে বিশ্বাস করে?

আলহামদুলিল্লাহ। ওয়াস-সলাতু ওয়াস-সালামু আ’লা রাসুলিল্লাহ।

সন্ত্রাসবাদ ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফক্বিহ আল্লামাহ ড. সালিহ আল ফাওযান হাফিজাহুল্লাহর বেশ কিছু প্রশ্নোত্তর রয়েছে যা আজ থেকে সিরিজ আকারে প্রকাশিত হচ্ছে আমাদের পেজে!
লিখনি গুলো প্রচার প্রসারের মাধ্যমে সুন্নাহর সমাজ বিনির্মাণে আপনার সহযোগীতা একান্ত কাম্য!!
বিনীত,
“সুন্নাহর পথযাত্রী” এ্যাডমিন প্যানেল!

“সন্ত্রাসবাদ ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়” পর্ব —০২

® খারেজি মতাদর্শঃ
————————–

প্রশ্ন: এখনকার জামানায় কি এমন লোকজন আছে যারা খাওয়ারিজদের মতাদর্শে বিশ্বাস করে?

উত্তর: এই জামানায় এসবের সবকিছুই মজুদ আছে। মুসলিমদেরকে তাকফির করা এবং, এর চেয়েও খারাপ, নিজের মুসলিম ভাইকে ঘৃণা করা এবং তাকে হত্যা করা- এগুলো কি খাওয়ারিজদের কর্মকাণ্ডের অংশ নয়?
(৫)
এসব হুবহু খারিজদের কর্মপদ্ধতি। এর অন্তর্গত তিনটি বিষয় রয়েছে:
১। মুসলিমদেরকে তাকফির করা।
২। দেশের শাসক বা সরকারের আনুগত্য করতে অস্বীকৃতি জানানো।
৩। অন্য মুসলিমদের রক্ত ঝরানো হালাল বলে ঘোষণা করা।
ঠিক এগুলোই হচ্ছে খাওয়ারিজদের কর্মপদ্ধতি।

এমনকি কেউ যদি এসব ধারণা মনে মনে বিশ্বাসও করে, এবং এই অনুযায়ী সে কথা না-ও বলে বা কাজ না-ও করে, তারপরও সে এসব ভিত্তিহীন ধারণা এবং মতবাদ পোষণ করার কারণে খাওরিজদের একজন বলে গণ্য হবে। (৬)

® মুসলিম নিরাপত্তাকর্মী এবং অনুসন্ধানকারীদের ক্ষতি করাঃ-
————————–————————–————–
প্রশ্ন: সম্ভবত যুবসমাজের মধ্যে এরকম একটা ধারণা ছড়িয়ে পরছে যে মুসলিম রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এবং বিশেষ করে; তাদের মধ্যে অনুসন্ধানকারীদের হত্যা করা বৈধ। এই ভিত্তিহীন কথার দলীল হিসাবে বলা হচ্ছে এক ফতোয়ার কথা, যেখানে নাকি কোন কোন তালিবুল ইল্ম বলেছেন যে এসব শাসক এবং সরকাররা সবাই কাফির এবং মুরতাদ। আমরা আশা করি আপনি আমদেরকে এ ব্যাপারে ইসলাম কি বলে তা খোলসা করে বলবেন?

উত্তর: এসব হচ্ছে খাওয়ারিজদের কর্মপদ্ধতি। এই খাওয়ারিজরা হচ্ছে সেই সব লোক যারা আলি ইবন আবি তালিব (রাঃ) কে হত্যা করেছিল, যিনি কিনা আবু বকর, উমর এবং উসমান (রাঃ) এর পরে শ্রেষ্ঠ সাহাবী ছিলেন। তো যারা আলি ইবন আবি তালিব (রাঃ) কে হত্যার মত ধৃষ্টতা দেখাতে পারে, তারা কি আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের হত্যা করা থেকে পিছিয়ে থাকবে? এগুলো হচ্ছে হুবহু খাওয়ারিজদের কর্মপদ্ধতি। আর যে ব্যক্তি তাদেরকে এসব করার অনুমতি দিয়ে ফতোয়া দেয়, সেই ব্যক্তি তাদেরই মত এবং তাদেরই একজন। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে নিরাপত্তা চাই। (৭)

® আমেরিকানদের ক্ষতি করাঃ
————————–—————
প্রশ্ন: কোন কোন লোক এমন ফতোয়া দেয় যেখানে তারা পৃথিবীর যে কোন স্থানে আমেরিকানদের হত্যা করা বৈধ হওয়ার দাবি করে। তারা বলে যে আমেরিকানরা সবাই ইসলাম এবং মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। আপনি এ ব্যাপারে কি বলেন?

উত্তর: এই রায় যে দিয়েছে সে মূর্খ কারণ এটা একটা সূক্ষ্ম ব্যাপার। এমন কেউ, যাদের সাথে আমাদের শান্তিচুক্তি আছে, যদি আইনসম্মত উপায়ে এবং শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দেশে প্রবেশ করে; অথবা আমাদের সরকার যদি তাদেরকে আসতে বলে থাকে কোন দরকারি কাজ করে দেয়ার জন্য- তাহলে তারা আমাদের সাথে নিরাপত্তার চুক্তি এবং সন্ধিতে আবদ্ধ। এটা কারও জন্য জায়েজ নেই যে সে এরকম লোকদের সাথে বিশ্বাসঘাতককতা করবে এবং এ-ও জায়েজ নেই যে তাদের ক্ষতি করা হবে বা তাদের হত্যা করা হবে। এমন যেকোনো দেশ, যাদের সাথে আমাদের দেশের কোনরূপ সন্ধি বা কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে; এমন দেশের সাথে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করা নিষিদ্ধ। এসব অমুসলিমরা; যারা আমাদের দেশে আইনসংগতভাবে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছে (ভিসা নিয়ে), তাদের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ
وَإِنْ أَحَدٌ مّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتّى يَسْمَعَ كَلاَمَ اللّهِ ثُمّ أَبْلِغْهُ
مَأْمَنَه
অর্থ: আর যদি মুশরেকদের মধ্য থেকে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দান কর, যাতে সে আল্লাহ্‌র কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছিয়ে দাও, এ আদেশ এ জন্যে যে, এরা এমন লোক, যারা পূর্ণ জ্ঞান রাখে না।
[সুরা আত-তওবা, ৯;৬]
সুতরাং মুসলিমদের ভুমিতে আইনসম্মতভাবে প্রবেশকারী কোন অমুসলিমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা অথবা তাদের ক্ষতি করা, এটা ইসলামসম্মত নয়। এ ধরণের কথা বলাও নিষেধ। (৮)

®অমুসলিমদের সার্বিক ধ্বংসের জন্য দুআ করাঃ-
————————–————————–————
প্রশ্ন: কাফেরদের জন্য বদ-দুআর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি, যেমন প্রত্যেক কাফেরের ধংস কামনা করা অথবা তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, এরকমটা চাওয়া- এগুলো সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?

উত্তর: দুআর ব্যাপারে যে বিধান দেওয়া আছে তা হল কাফেরদের মধ্য থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য বদ-দোআ করা। এটা এজন্য যে, রাসুলাল্লাহ (সাঃ) যখনই সালাতে দুআ করতেন, তখনই তিনি বাছাই করে শুধুমাত্র কাফেরদের মধ্যেকার সীমালঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধেই দুআ করতেন। তিনি ঢালাওভাবে তাদের সবার বিরুদ্ধে দুআ করতেন না। বরং তিনি বলতেন, (উদাহরণস্বরূপ) “ও আল্লাহ্‌! অমুক ব্যক্তি এবং অমুক গোত্রকে আপনি ধংস করুন”। কাফেরদের সকলকে তিনি তার অভিশাপের অন্তর্ভুক্ত করতেন না। (৯)

® আমেরিকান পণ্য বয়কট করাঃ-
————————–——————-
প্রশ্ন: আজকাল কোন কোন সংবাদপত্রে এরকম লেখা থাকতে দেখা যায় যে তারা সকল আমেরিকান পণ্য বয়কট করতে বলছে, আমেরিকান পণ্য ক্রয় বিক্রয় না করার আহ্বান জানাচ্ছে। এমনকি আজকে এক পত্রিকায় এমনটাও লেখা ছিল যে মুসলিম আলেমরা নিজেরাই এই বয়কটের ডাক দিচ্ছেন এবং এরকমটা করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব। বলা হচ্ছে যে এসব পণ্যের যেকোনোটা ক্রয় করা হচ্ছে কবিরা গুনাহ এবং এ হচ্ছে ইহুদিদেরকে মুসলিম নিধনে সহায়তা করা। আমরা আশা করছি আপনি এই বিষয়টা খোলসা করবেন যেহেতু এই বিষয়ে ব্যাখ্যার খুব জরুরী প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া, এই বয়কট করার মাধ্যমে কি একজন পুরস্কৃত হবে?

উত্তর: প্রথমত, আমি অনুরোধ করব ঐ পত্রিকার একটা কপি অথবা কাটিং যাতে এই ধরণের কথার উল্লেখ রয়েছে যেমনটা প্রশ্নকারী বললেন।

দ্বিতীয়ত, এটা ভুল কথা। আলেমরা কখনোই এরকম ফতওয়া দেননি যে আমেরিকান পণ্য ক্রয় করা হারাম। এসব আমেরিকান পণ্য এখনও আমদানি করা হচ্ছে এবং মুসলিমদের মার্কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। আর তাছাড়াও, আমেরিকার বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবেনা যদি আপনি নিজে তাদের পণ্য না কেনেন। কোন পণ্য বয়কট করা যাবেনা যতক্ষণ না সরকার, ন্যায়সঙ্গত শাসক, কোন দেশের বিরুদ্ধে কোন নিষেধাজ্ঞা বা বয়কট ঘোষণা করবেন। সেই ক্ষেত্রে, ঐ বয়কট হবে আইনসিদ্ধ এবং বাধ্যতামূলক। আর শুধুমাত্র গুটিকয়েক লোক যদি এমনটা করতে চায় আর এর সমর্থনে তারা তাদের নিজস্ব ফতওয়া জারি করে, তাহলে তা হবে এমন কিছুকে হারাম করা যা আল্লাহ্ হালাল করেছেন এবং এমনটা করার অনুমতি নেই। (১০)

® সন্ত্রাসীদেরকে কতৃপক্ষের কাছে ধরিয়ে দেয়া কি বিশ্বাসঘাতকতা?
————————–————————–————–
প্রশ্ন: মাননীয় শায়খ, কোন কোন যুবক এই ব্যাপারে মাঝেমধ্যে প্রশ্ন করে: আমি যদি দেখি যে কেউ একজন এসব (খাওয়ারিজ, সন্ত্রাসী ইত্যাদি) লোকদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে এবং তাদের চক্রান্তসমূহের পক্ষে বলছে, আমার কি কতৃপক্ষকে সতর্ক করে তাদের ধরিয়ে দেয়া উচিৎ হবে? অনেকে এটাকে কতৃপক্ষের তরফ থেকে একধরণের বিশ্বাসঘাতকতা মনে করে থাকে, এবং বলে যে এমনটা করার অনুমতি নেই। আমরা আশা করছি যে আপনি এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলবেন।

উত্তর: রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
الدّيْنُ النّصِيْحَة
“দ্বীন হচ্ছে আন্তরিকতা (আন্তরিক উপদেশ দেয়া)”।
তিনি এই কথা তিন বার বলেন। আমরা (সাহাবিরা) জিজ্ঞাসা করলাম, “কার দিকে, হে আল্লাহর রাসুল?”। তিনি উত্তর দিলেন:
للهِ ، وَلِكِتَابِهِ ، وَلِرَسُوْلِهِ ، وَلِلأَئِمّةِ المُسْلِمِيْنَ وَعَامّتِهِم
“আল্লাহর দিকে, তার কিতাবের দিকে, মুসলিমদের শাসকদের দিকে, এবং তাদের সাধারণ মানুষদের দিকে”। (১১)
সুতরাং যে কেউই এই বিষয়গুলোতে পতিত হোক না কেন, তাকে আন্তরিকভাব উপদেশ দিতে হবে এবং এই বিষয়গুলির বাস্তবতা তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। যদি সে বিরত হয়, তাহলে ধন্যবাদ আল্লাহর জন্য। সে যদি বিরত না হয় কিন্তু সে চুপ থাকে এবং সত্যিকার অর্থে কিছু না করে, তাহলে তাকে ছেড়ে দিন- তার গুনাহ তার উপরেই বর্তাবে। কিন্তু সে যদি বাস্তবিকভাবে এবং প্রকাশ্যে এমন কিছু করে যা অপর মুসলিমদেরকে প্রতারিত করবে অথবা সে যদি সারাক্ষণ এটা নিয়ে কথা বলে, যদি সে এই নোংরা আদর্শ ছড়িয়ে বেড়ায়, তাহলে তাকে ধরিয়ে দেয়া আবশ্যক। এ হচ্ছে আল্লাহর প্রতি, তার কিতাবের প্রতি, তার রাসুলের প্রতি, মুসলিম শাসকদের প্রতি, এবং সাধারণ মানুষদের প্রতি আন্তরিক থাকার অন্তর্ভুক্ত। (১২)
——

®রেফারেন্সঃ
——————

৫। তাকফির: কাউকে কাফের বলে ঘোষণা করা
৬। ফাতাওয়া আল উলামা ফি আল-আহাদিস আল-রাহিনাহ আল্লাতি হাদাসাত বিসারক মাদিনা আর-রিয়াদ। (১৪২৪ হিজরাহ/২০০৪) ক্যাসেট থেকে সংগ্রহীত
৭। ফাতাওয়া আল উলামা ফি আল-আহাদিস আল-রাহিনাহ আল্লাতি হাদাসাত বিসারক মাদিনা আর-রিয়াদ। (১৪২৪ হিজরাহ/২০০৪) ক্যাসেট থেকে সংগ্রহীত
৮। ফাতয়া আল উলামা ফী আল আহাদিস আল রাহিনাহ আল্লাতি হাদাসাত বিশার্ক মাদিনা আর রিয়াদ ক্যাসেট থেকে সংগ্রহীত
৯। আল-দাওয়াহ (সংখ্যা ১৮৬৯, রামাদান ১৪২৩ হিজরাহ) ম্যাগাজিন থেকে
১০। “ফাতাওয়া আল-উলামা ফি আল-জিহাদ ওয়া আল-আমালিয়্যাত আল-ইন্তিহারিয়্যাহ” ক্যাসেট থেকে
১১। মুসলিম থেকে বর্ণিত (হাদিস নং ৫৫)
১২। এই প্রশ্নের উত্তর শায়েখ সালিহ আল-ফাওযান মৌখিকভাবে দিয়েছেন এবং এর অডিও ক্লিপ হতে সংগৃহিত।


বইঃ— الفتاوى الشرعية في القضايا العصرية
(আল ফাতাওয়া আশ শার’ইয়িয়্যাহ ফীল ক্বাদায়া আল ‘আসরিয়্যাহ)
লেখক: আল্লামাহ ড. সালিহ আল ফাওযান
অনুবাদক: সুন্নাহর পথযাত্রী এডমিন প্যানেল

সুএঃসুন্নাহর পথযাত্রী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close