preloder
নির্বাচিত ফেসবুক স্ট্যাটাস

অধিক লিখালিখির ফিতনা ( ১ম পর্ব )

আসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা-র জন্য এবং অসংখ্য সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নাবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি।

► ওয়া’বাদ,
আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি মুহাম্মাদ মাহিন আলম ভাই কর্তৃক রচিত “অধিক লিখালিখির ফিতনা” সম্বলিত গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলের ১ম পর্ব!

সুচনাঃ

 অতঃপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, الدِّينُ النَّصِيحَةُ ‏”‏
“দ্বীন হল নাসীহাত”
সহীহ মুসলিম

মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে মৌলিকভাবে কিছু মূলনীতি মাথায় রাখতে হবে এবং মূল প্রবন্ধটি পড়ার সময় এই বিষয়গুলো স্মরণে রাখতে হবে। যা এখানে উল্লেখ করা জরুরী বলে মনে করছি।

 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন (সূরা ইসরা ১৭/৩৬),

وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا

“যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।”

সৌদি নতুন তাফসীরে বলা হয়েছে, “আয়াতে উল্লেখিত { وَلَا تَقْفُ } শব্দটির সঠিক অর্থ – পিছু নেয়া, অনুসরণ করা। [ফাতহুল কাদীর] সে অনুসারে আয়াতের অর্থ হবে, যে বিষয়ে তুমি জাননা সে বিষয়ের পিছু নিওনা। [ফাতহুল কাদীর] ইবন আব্বাস বলেন এর অর্থ হচ্ছে, ‘বলো না।’ অপর বর্ণনায় তিনি বলেছেন, যে বিষয় সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কাউকে অভিযুক্ত করোনা। ধারণা করাও নিষেধ [সূরা হুজুরাত ৪৯/১২]।”

 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন (সূরা আন’আম ৬/১১৯),

وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ

“…অনেক লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা না জেনে বিপথগামী করতে থাকে। আপনার প্রতিপালক সীমাতিক্রম কারীদেরকে যথার্থই জানেন।”

 ইমাম মুসলিম رحمه الله বর্ণনা করেন (হা/৬৪৩৭),

وعن أبي هريرة عبد الرحمن بن صخر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ “‏ إن الله لا ينظر إلى أجسامكم ، ولا إلى صوركم، ولكن ينظر إلى قلوبكم وأعمالكم‏”‏

আবূ হুরাইরাহ আব্দুর রহমান ইবনু সাখর رضى الله عنه কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের দেহ এবং তোমাদের আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন।’’

 ইমাম তিরমিযী رحمه الله বর্ণনা করেন (হা/২৩৮১),

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ مَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُسَمِّعْ يُسَمِّعِ اللَّهُ بِهِ ‏”

আবু সাঈদ رضى الله عنه আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, “যে লোক মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করবে, আল্লাহ তা’আলাও তাকে তাই দেখাবেন এবং সুনাম-সুখ্যাতি অন্বেষণের জন্য যে লোক আমল করবে, আল্লাহ তা’আলাও তার আমল (দোষ-ত্রুটিগুলো) প্রচার করে দেবেন।”

 ইমাম মুসলিম رحمه الله বর্ণনা করেন (হা/৪৮১৭),
সুলাইমান ইবনু ইয়াসার رحمه الله হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকজন যখন আবূ হুরাইরাহ رضى الله عنه এর নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিল, তখন সিরিয়াবাসী নাতিল رحمه الله বললেন, হে শায়খ আপনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন একখানা হাদীছ আমাদেরকে শুনান। তিনি বলেন, হ্যা! (শুনাবো)। আমি রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে বলতে শুনেছি, “….তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে যে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। তখন তাকে হাযির করা হবে। আল্লাহ তা’আলা তার প্রদত্ত নি’আমাতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে) তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, এত বড় নি’আমাত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? জবাবে সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে কুরআন অধ্যয়ন করেছি। জবাবে আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলে। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকে বলে, তুমি একজন কারী। তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে, সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।।”

 ইমাম মুসলিম رحمه الله বর্ণনা করেন (মুকাদ্দিমাহ),

عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ

মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন رحمه الله হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এ ‘ইলম হলো দ্বীন। কাজেই কার কাছ থেকে তোমরা দ্বীন গ্রহণ করছে তা যাচাই করে নাও।

 ইমাম বুখারী رحمه الله বর্ণনা করেন (হা/১০০),

ْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ اللهَ لاَ يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالاً فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস رضى الله عنه হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে ‘ইলম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু দ্বীনের আলিমদের উঠিয়ে নেয়ার ভয় করি। যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে। তাদের জিজ্ঞেস করা হলে না জানলেও ফাতাওয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।

এ হাদীছে বিদ্যার্জনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করা হতে সতর্ক করা হয়েছে এবং বিনা ‘ইলমে ফাতাওয়া দাতাদের নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি যারা ক্বুরআন-সুন্নাহর ‘ইলম ছাড়া ফাতাওয়া দিবে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট ও অপরকে পথভ্রষ্টকারী হবে। [মিশকাত, হাদীছ একাডেমী, হা/]

 ইমাম বুখারী رحمه الله বর্ণনা করেন (হা/৮০),

ْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ، وَيَثْبُتَ الْجَهْلُ، …

আনাস رضى الله عنه হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم ‏ বলেছেন যে, ক্বিয়ামাতের কিছু ‘আলামাত হলঃ ‘ইলম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতা প্রসারতা লাভ করবে…।

 ইমাম বুখারী رحمه الله বর্ণনা করেন (হা/ ২৬৫১),

عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْرُكُمْ قَرْنِيْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ قَالَ عِمْرَانُ لَا أَدْرِيْ أَذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَخُونُوْنَ وَلَا يُؤْتَمَنُوْنَ وَيَشْهَدُوْنَ وَلَا يُسْتَشْهَدُوْنَ وَيَنْذِرُوْنَ وَلَا يَفُوْنَ وَيَظْهَرُ فِيْهِمْ السِّمَنُ

‘ইমরান ইবনু হুসাইন رضى الله عنه হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আমার যুগের লোকেরাই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা, অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা। ‘ইমরান رضى الله عنه বলেন, আমি বলতে পারছি না, নাবী صلى الله عليه وسلم (তাঁর যুগের) পরে দুই যুগের কথা বলেছিলেন, বা তিন যুগের কথা। নাবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমাদের পর এমন লোকেরা আসবে, যারা খিয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না। সাক্ষ্য দিতে না ডাকলেও তারা সাক্ষ্য দিবে। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। তাদের মধ্যে মেদওয়ালাদের প্রকাশ ঘটবে।

 ইমাম আবু দাউদ رحمه الله (হা/৩৬৫৭) ও ইমাম ইবনু মাজাহ رحمه الله (হা/৫৩) বর্ণনা করেন

رَضِيعِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ – قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ مَنْ أُفْتِيَ بِغَيْرِ عِلْمٍ كَانَ إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ ‏”‏

আবূ হুরায়রা رضى الله عنه থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেনঃ যে ব্যক্তি না জেনে ফাতওয়া দেবে, তার গুনাহ মুফতীর উপর বর্তাবে।
সানাদ হাসান।

দারুসসালাম এর ইবনু মাজাহ (হা/৫৩) বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অনুভূতিকে কেন্দ্র করে প্রণীত অভিমতের উপর ভিত্তি করে কোন ধর্মীয় ফতোয়া বা সিদ্ধান্ত দেয়া গুনাহের কাজ। কেননা, প্রশ্নকর্তা আলেমের উপর আস্থা রাখে এবং যদি আলেম ভুল সিদ্ধান্ত দেন, তবে (ঐ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে) ঐ প্রশ্নকর্তার কৃতকাজের দায়ভার পুরোটাই ঐ আলেমের উপর বর্তাবে।

 আলী رضى الله عنه বলেন (কবীরা গুনাহ,পৃঃ ১১২), রিয়াকারী বা লোক দেখানো ব্যক্তির চারটি আলামত হল :
১) একাকী থাকা অবস্থায় সে (সৎ আমলে) অলসতা করে
২) মানুষের সাথে থাকলে সে তৎপর হয়
৩) সে কাজ বেশী করে যখন তার প্রশংসা করা হয়
৪) আর তা কম করে যখন সেজন্য তাকে নিন্দা করা হয়।

 মুসলিম ইবন ইয়াসার رحمه الله বলতেন (তাবিঈদের জীবনকথা ৩/২০৭), তোমরা আত্মপ্রদর্শনী থেকে দূরে থাকো। কারণ, তা একজন আলিমকে মূর্খের পর্যায়ে নিয়ে যায় এবং তার মাধ্যমেই শয়তান (মানুষকে) ভুল পথে চালিত করে।

 আল্লামা শায়েখ নাসিরুদ্দিন আলবানী رحمه الله বলেন (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, পৃঃ ৮৬১), “এখনকার তরুনদের সমস্যা হলো, তারা যখনই নতুন কিছু শিখে তখনই মনে করে তারা সব জেনে ফেলেছে।”

আল্লামা আলবানী رحمه الله আরও বলেন (মাসিক আত তাহরীক, জুলাই ২০১৩, পৃঃ ২২), “মুসলিম বিশ্বের সকল শিক্ষার্থী ও দাঈ ভাইদের প্রতি আমার নাসীহাত হল, তারা যেন ধৈর্য্য সহকারে জ্ঞানার্জন করে এবং নিজেদের অর্জিত জ্ঞান নিয়ে আত্মপ্রতারণার শিকার না হয়। তারা যেন এককভাবে নিজেদের বুঝ মোতাবেক না চলে। অর্থাৎ তাদের একক ‘ইজতিহাদে’র উপর নির্ভর করে ফাতওয়া না দেয়। কেননা আমি অনেক ভাইয়ের নিকটে শুনেছি, তারা নিজেদের ভুল হতে পারে এরূপ চিন্তা -ভাবনা ছাড়াই এবং কোন পরিণাম বিবেচনা না করেই খুব সহজেই বলছে, ‘আমি এ বিষয়ে ইজতিহাদ করেছি।’ বলছে, ‘এটা আমার মত’, ‘এটা আমার মত নয়’ ইত্যাদি। যখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি কিসের ভিত্তিতে এরূপ ইজতিহাদ করলে? তুমি কি এক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাত, সাহাবা ও তাবেঈন এবং ওলামায়ে কেরামের ঐক্যমতের উপর নির্ভর করেছ? না নিজস্ব চিন্তা -ভাবনা ও ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির উপরে ইজতিহাদ করেছ? বাস্তবে দেখা যায়, সে এটাই (শেষেরটাই) করেছে। আমি মনে করি এর মূল কারণই হল তাদের আত্মঅহমিকা ও নিজের ব্যাপারে অতি সুধারণা।”

 আল্লামা শায়েখ ড.ফাওযান ﺣﻔﻈﮧ ﺍﻟﻠﮧ বলেন (আল-খুতুবুল মানবারিয়্যাতু লিশ শাইখ আল ফাওযান ১/২১৪ পৃঃ), “যে কেউ চাইলেই কিছু বই কিনে পড়তে পারে। কিন্তু তা কোন উপকার করে না। এটা উপকারের থেকে ক্ষতিই বেশি করে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক, আপনি যদি অসুস্থ বোধ করেন, আপনি কি ফার্মেসীতে যান এবং ইচ্ছামতো ঔষধ নিয়ে নেন? নাকি আপনি অবশ্যই একজন ডাক্তারের কাছে যাবেন, যাতে সে আপনার রোগের ধরন নির্নয় করতে পারে এবং উপযুক্ত ঔষধ নির্ধারণ করতে পারে? যা কিছু করলেন (আগে ডাক্তারের কাছে যাওয়া ইত্যাদি) তা এই আশংকায় যে আপনি হয়তবা কোন ক্ষতিকারক ঔষধ নিয়ে নিবেন যা ঠিক নয়, যা আপনাকে মেরে ফেলতে পারে অথবা ক্ষতি করতে পারে।
অনুরূপ ‘ইলম, আপনাকে অবশ্যই এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে এবং তাদের কাছ থেকেই (‘ইলম) অর্জন করতে হবে এবং শুধু বই’ই যথেষ্ট নয়, কারণ এতে গোমরাহ হওয়ার এবং এগুলোর মধ্যে সন্দেহজনক যা কিছু আছে তা দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ভয় আছে।” 


❒ সংকলনঃ মুহাম্মাদ মাহিন আলম।
■ প্রচারেঃ আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী,
আখতার বিন আমীর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close