preloder
হাদীছের গল্প | গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান

অত্যান্ত শিক্ষণীয় ঘটনা 

একদা খলিফা হিশাম বিন আব্দুল মালেক আমাশকে বললেন, আপনি আমার জন্য উসমানের দোষরাজি ও আলীর গূণরাজি লিপিবদ্ধ করুন।
আমাশ তখন এই উপদেশ-বাণী লিখে পাঠালেন,
`বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অতঃপর বলি যে, যদি পৃথিবীর বাসিন্দা লোকেদের সমপরিমাণ উসমানের দোষরাজি হয়, তাহলে তা আপনার কোন ক্ষতিসাধন করবে না।
আর যদি পৃথিবীর বাসিন্দা লোকেদের সমপরিমাণ আলীর গুণরাজি হয়, তাহলে তা আপনার কোন উপকারে আসবে না।
আপনি নিজ কর্মে ব্রতী থাকুন। আর অমুক ও তমুকের দোষ ও ভুল-ত্রুটি যেন আপনার বিভোলকারী ব্যস্ততা না হয়। কারণ সে সবের হিসাব আপনার কাছে চাওয়া হবে না।
পক্ষান্তরে লোকেদের পুণ্যরাজিও তাদেরই, আপনার নয়।
সুতরাং আপনি আপনার দোষ-ত্রুটি সংশোধনে ও পাপরাশি থেকে তাওবা করণে ব্রতী হন।
আর নিজ পুণ্যরাশি বৃদ্ধিকরণে সচেষ্ট হন, কারণ তাই আপনার আমলনামায় অবশিষ্ট থাকবে।
পরন্তু বান্দার ক্ষতিগ্রস্ততার লক্ষণ হলো, লোকেদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকা।
(শাজারাতুয যাহাব ১/২১৫)
যে মানুষ চেনে সে বড় বুদ্ধিমান, কিন্তু যে নিজেকে চেনে সে সবথেকে বড় বুদ্ধিমান।
যে ব্যক্তি পরের ছিদ্র অন্বেষণ করা হতে বিরত থাকবে, সে ব্যক্তি নিজের ছিদ্র অন্বেষণে প্রয়াসী হবে। আর যে নিজের ছিদ্র অন্বেষণ করবে, সে পরের ছিদ্র অন্বেষণ করতে যাবে না।
জ্ঞানী মানুষ নিজের মনকেই বেশি শাসিয়ে থাকে।
বড় সুখী তারা, যারা পরের আলোচনা ও সমালোচনা উপেক্ষা করে চলে।
জীবনের সময় বড় মূল্যবান। সুতরাং কে কী ভুল করেছে তা নিয়ে আমাদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। বরং আমাদের কী করা উচিত সেই আলোচনা ও পরিকল্পনায় সময় বায় করা উচিত।


লিখেছেন শাইখ Abdul Hamid Al-Faizi Al-Madani

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close