preloder
স্বামী স্ত্রী | দাম্পত্য জীবন

বে-নামাজীকে মুসলিম নামাজী নারীর বিয়ে করার বিধান পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ!

বেনামাজী-কে মুসলিম নামাজী নারীর বিয়ে করার বিধান এর ব্যাপারে- কুরআন ও হাদীসে যে আলোচনা এসেছে তার সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা নিচে আলোচনা করা হলো :

এই জীবনসঙ্গী/সঙ্গিনী চয়ন করার ক্ষেত্রে এই ভুল অনেকের মাঝেই দেখা যাচ্ছে সঠিক বিধান না জানা থাকার কারনে। যেহেতু এই বিষয়টি খুব-ই গুরুত্বপূর্ণ তাই এই বিষয়টি সম্পর্কে সকলের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

বে-নামাজীর বিধান সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, বে-নামাজী কাকে বলে। এর সহজ উত্তর হলঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে।

সালাত আদায় করা এত গুরুত্বপূর্ণ যে, নামাজ আদায় না করলে মুসলিম থাকা যায় না। ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাজ ত্যাগ করলে সে আর মুসলিম থাকবে না- জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্‌র বান্দা ও শিরক-কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী হচ্ছে নামাজ ত্যাগ করা। [সহীহ মুসলিম, ১ম খন্ড, ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং : ১৫৪]

আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) আরো বলেছেন- আমাদের ও কাফেরদের মাঝে চুক্তি হল নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করবে সে কাফির হয়ে যাবে। (তিরমিযী, হা : ২৬২১, ইবনে মাযাহ, হা : ১০৭৯)
অর্থাৎ বে-নামাজী কাফের। নিঃসন্দেহে কাফের।

একটা বিষয় খুব ভাল ভাবে বুঝে নিতে হবে যে, নামাজীশুধুমাত্র ঐ ব্যক্তিকেই বলা যায় যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করে। আমাদের দেশে অজ্ঞ মুসলিমরা নিজেদেরকে নামাজী ভাবে। কেননা তাদের কেউ কেউ জুম্মা পড়া মুসলিম। কেউ কেউ ২ ঈদ পড়া মুসলিম। অথচ তারাও কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বে-নামাযী বলেই গণ্য। তারা নিজেকে বে-নামাজী মনে করে না বরং নামাজী-ই মনে করে – এটি আসলে তাদের অজ্ঞতা।

বেনামাজীর বিধান সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছি যে, বে-নামাজী মুসলিম নয় বরং কাফের এবং মুশরিক দুটোই।

আর মুশরিকদের বিয়ের ব্যাপারে মহান আল্লাহ্‌ বলেন – “আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরিক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদের রূপ-সৌন্দর্য্য তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরিকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (সুরা বাকারাঃ ২২১)

সুতরাং, বুঝা গেল যে – বেনামাজীকে বিবাহ করা হারাম। কেননা বেনামাজী যেহেতু মুশরিক তার সাথে মুসলিম নামাজী নারীর সাথে বিবাহ এর সম্পর্ক থাকতে পারে না।

মহান আল্লাহ্‌ বিশ্বাসীদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন- যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। (সূরা বাকারা : ৩)

তাহলে দেখতে পারছেন, ঈমান আনার পর পর-ই তার এক নম্বর ফরজ কাজ হচ্ছে সালাত কায়েম করা।

নামাজ ত্যাগ এত বড় পাপ যে, একজন খুনিও তার তুলনায় ছোট পাপী। একজন ব্যাভিচারকারি, একজন সন্ত্রাসী, একজন চোর, একজন মদখোরের চাইতেও একজন বেনামাজী অনেক—অনেক বড় পাপী। আমাদের দেশে হয়তো কেউ তার মেয়েকে কোন মদখোরের সাথে বিয়ে দিবে না, কোন সন্ত্রাসীর সাথে বিয়ে দিবে না, কোন ব্যাভিচারকারির সাথে বিয়ে দিবে না, কিন্তু বেনামাজীর সাথে ঠিক-ই বিয়ে দিয়ে দেয়। এটি অজ্ঞতা। চরম পর্যায়ের ভুল এবং এটি একটি মারাত্মক অপরাধ।

তাই সকলের উচিৎ অবশ্যই একটা নামাজী পাত্র/পাত্রী দেখে বিবাহ করা। অভিভাবকরা অনেক সময় নিজের কন্যাকে কোন বেনামাজি ছেলের কাছে শুধু মাত্র ঐ ছেলের টাকা লোভেই বিয়ে দিয়ে দেয়। এটি মোটেও উচিৎ নয়। এর দ্বারা সে শুধু তার কন্যাকে জাহান্নামের দিকেই ঠেলে দিল। আল্লাহ্‌ সকলকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমীন।।


উৎসঃ সাজ্জাদ সালাদীন ভাইয়ের ফেসবুক ওয়াল থেকে

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close