preloder
বিবিধ বিষয়

বিশ্বাস করুন…

যতদিন আপনি কাজ করতে পারবেন ততদিন আপনার মূল্য। কাজ করার ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে মূল্য অর্ধেক কমে যাবে। এরপর যখন অসুস্থ হয়ে বিছানাবাসী হবেন তখন বাকী অর্ধেকের অর্ধেক কমবে। মৃত্যুর সাথে সাথে বাকী চার আনাও শেষ।

এই দুনিয়া ফাঁকি। মরীচিকা। প্রতারক। আপনার কাছ থেকে সবটুকু চুষে নিয়ে ঠিক সেভাবে ছুঁড়ে ফেলে দেবে যেভাবে আমের আটি থেকে সবটুকু আম খেয়ে আটিটাকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে। ঠিক সেভাবেই ভুলে যাবে যেভাবে ভুলে যাওয়া হয় কলার ছোলাকে।

দুনিয়া শুধু আপনাকে ততক্ষণ মূল্যায়ন করবে যতক্ষণ আপনার হাতে অর্থসম্পদ কিংবা ক্ষমতা আছে। এ দুটির একটিও যার নাই তার জন্য দুনিয়া এক বিভীষিকাময় জায়গা হয়ে উঠছে ক্রমশ। অন্যের কাছে করুণার হাত পাতা আর হাসপাতালের কিংবা নিজের বাসার বিছানায় শুয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

আপনি আজ অসুস্থ হলে যারা আপনাকে দেখতে আসে তার মধ্যে একটি বড় অংশ আসে আপনি সুস্থ হওয়ার পর তার কিছু স্বার্থ আপনি উদ্ধার করে দিবেন তাই। আপনাকে দেখানোর জন্য। আপনার ক্ষমতা কিংবা টাকাপয়সা যদি না থাকতো অথবা আপনার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা যদি না থাকতো তাহলে এই মানুষগুলোর ছায়াও আপনি দেখতেন না।

আচ্ছা, আমরা কখনো কি কোনো ফকীর কিংবা রিকসাওয়ালা অথবা মজুরকে নিজে থেকে আগে সালাম দেই? দেই না। আচ্ছা, সেই আমিই তো রিকসায় উঠে পরিচিত কোনো নেতা বা ধনী লোকের সাথে দেখা হলে সালাম দিচ্ছি। এই তফাতটা কেনো করছি? আমাদের মানসিক অহংকারবোধ আমাকে রিকসাওয়ালা কিংবা ফকীরকে সালাম দিতে বাধা দিয়েছে। হ্যা, এটা অহংকার। অন্যকে তুচ্ছ মনে করা।

অকৃতজ্ঞতাবোধ আমাদের রক্তের সাথে মিশে গেছে। কমপক্ষে ভদ্রতার খাতিরে ধন্যবাদটুকু জানানোর প্রয়োজন মনে করছি না। জাঝাকাল্লাহ খাইর (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন) বলা তো আরো দূরের কথা। আর উপকারের সমপরিমাণ বা কাছাকাছি পরিমাণ উপকার করে প্রতিদান দেয়া, কৃতজ্ঞতা জানানোর কথা তো ভাবাই যায় না।

আসলে আমরা বিশেষ করে মুসলিমরা এমন না। আগেও ছিলাম না। কিন্তু বস্তুবাদী দুনিয়া আমার সামনে নগদের বাহারি আইটেম সাজিয়ে বসেছে। আমি তার লোভে পড়েছি। স্রেফ লোভ। আর অহংকার। অহংকার আর লোভের বশবর্তী হয়ে আমরা মানুষ মারছি, অন্যের হক নষ্ট করছি, সম্পর্ক নষ্ট করছি, অন্যকে খারাপ জানছি, মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছি। নিজেকে অনেক কিছু মনে করছি।

কী করা তাহলে? হুম, করার আছে। লোভকে নামিয়ে আনুন। দুনিয়ায় আপনার কতটুকু কী লাগবে তার তালিকা সীমিত করুন। অন্যের আছে বলেই আপনার থাকতে হবে তা নয়। এমন অনেক কিছু তো আপনার আছে কিন্তু অন্য অনেকের নাই। তো? যা পেয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করুন। আর নিজেকে মাটির মানুষ ভেবে মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করুন। মৃত্যু পরবর্তী সময়ে আপনার আজকের ক্ষমতা, টাকাপয়সার কী হবে তা ভাবুন। ভেবে যদি মনে হয় আপনার আসলে অহংকার করার কিছু নেই। তাহলে অহংকার নামক আল্লাহর চাদর ধরে টানাটানি বন্ধ করে বিনয়ী হোন। বলা সহজ, হওয়া কঠিন। একটু চেষ্টা করেই দেখুন না প্লিজ।


উৎস: শাহাদাৎ হুসাইন খান ফয়সাল রাহিমাহুল্লাহ ভাইয়ের ফেসবুক ওয়াল থেকে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close