preloder
আখলাক | ব্যক্তিত্ব | পরিবারিক আদর্শ

ইবাদত ও আদত

আমাদের নিকটে ইবাদত-বন্দগী কেন যেন আদত (অভ্যাস) সর্বস্ব হয়ে পড়েছে ৷ আমরা ছালাত আদায় করি দায় সারা অনুভূতি নিয়ে ৷ ছালাতকে ফরয ইবাদত হিসাবে মনে-প্রাণে গ্রহণ করে আমরা কয়জন জায়নামাযে দাঁড়াই ? একটু খেয়াল করে দেখুন! জন্ম সূত্রে মুসলিম হিসাবে ছালাত আমাদের কাছে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে ৷ এর গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা অধিকাংশই গাফেল ৷ খুব কম সংখ্যাক পরহেযগার বান্দাই ছালাতের তাৎপর্য উপলব্ধি করে তা সম্পাদন করেন ৷

শুধু ছালাত কেন? বর্তমান সময়ে অধিকাংশের ইবাদত রূহ শূন্য আদতে পরিণত হয়েছে। যিকরের মজলিসগুলো হু হু শব্দে মুখরিত। ওরস ও আখেরী মুনাজাতে লাখো মুছল্লীর ক্রন্দন ধ্বনি উচ্চকিত। কিন্তু তাদের এই ক্ষমা প্রার্থনা তাদের জিহবা ব্যতীত হৃদয়কে উদ্বেলিত করে না। হাফেযদের খতম তারাবীহ্তে মসজিদগুলি গুঞ্জরিত। কিন্তু মদ, জুয়া, সূদ, যেনা, চুরি প্রভৃতি বিষয়ের আয়াতগুলি অতিক্রম করলেও ইমাম ও মুছল্লী কারু হৃদয় কম্পিত হয় না। মসজিদ সমূহের মিনারে সুউচ্চ শব্দে প্রতিদিন ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিত হচ্ছে। অথচ মুসলমান আল্লাহর বিধান ছেড়ে নিজেদের মনগড়া বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে তারই অনুসরণ করছে প্রতিনিয়ত।

রামাযান ছিল তাক্বওয়া ও ছবরের মাস। সেটি এখন হয়েছে ইফতার ও সাহারীতে ভূরি-ভোজের মাস। হয়েছে ব্যবসায়ে অধিক লাভ করার মাস। ‘যাকাত’ ফরয হয়েছিল হৃদয়কে মালের লোভ শূন্য করার জন্য ও মালকে পবিত্র করার জন্য। কিন্তু তা এখন মানুষকে হালাল উপার্জনের প্রতি দৃঢ়চিত্ত করার বদলে হারামের প্রতি আরও প্রলুব্ধ করছে। হজ্জ ছিল আল্লাহর আনুগত্যের অধীনে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য চেতনা জাগ্রত করার জন্য। কিন্তু পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষে সে চেতনা এখন বেদনার বিষে পরিণত হয়েছে। ইহরাম ছিল আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্ত্ত হতে বিরত থাকার জন্য। অথচ নিষিদ্ধ বস্ত্তই আমাদের খাওয়া-পরার সাথী হয়েছে। ইহরাম অবস্থায় মশা মারা যাবে কি-না ফৎওয়া জিজ্ঞেস করা হয়। অথচ সারা বছর আমরা খুন-খারাবীতে লিপ্ত রয়েছি। মেয়েরা ছালাতের সময় ঢিলা বোরকা পরে। অথচ বাইরে বেপর্দা ঘুরে বেড়ায়। মসজিদ করার সময় হালাল পয়সা ব্যয় করে। অথচ নিজে খাওয়ার সময় হারাম ভক্ষণ করে। দাড়ি ছিল তাক্বওয়ার নিদর্শন, অথচ দাড়ি-টুপী নিয়েই সিগারেট পান করছে ও সূদ-ঘুষের টাকা পকেটে ভরছে। কি বিস্ময়কর স্ববিরোধিতা। এ সবের কারণ একটাই; মুসলমান ইবাদতের অর্থ ও স্বাদ দু’টিই ভুলে গেছে। তাদের খাওয়া-দাওয়া ও অভ্যাস-আচরণ অন্য প্রাণীর ন্যায় হয়ে গেছে। যাদের পেটপূজা ছাড়া অন্য কোন লক্ষ্য নেই। যারা সর্বদা কেবল ঘাসে ও ময়লায় মুখ লাগিয়ে চরে বেড়ায়। বিগত উম্মতগুলি একারণেই আল্লাহর গযবে ধ্বংস হয়েছিল। যেমন আল্লাহ বলেন,
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
‘তাদের পরে এলো তাদের অপদার্থ উত্তরসূরীরা। তারা ছালাত বিনষ্ট করল ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। ফলে তারা অচিরেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’ (মারিয়াম ১৯/৫৯)।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে ইবাদতের স্বাদ আস্বানের তাওফীক্ব দাও ৷ একমাত্র তোমার জন্য, তোমার জান্নাতের আশায় ও জাহান্নামের ভয়ে আমাদের এই যিন্দেগীর ইবাদত-বন্দেগীগুলো সম্পাদনের তাওফীক্ব দাও ৷
আমীন! ইয়া রাব্বাল আলামীন!


লেখকঃআব্দুল্লাহ আল মারুফ

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close