preloder
তাওহীদ

মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞ হোন

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

কৃতজ্ঞতা মানবীয় গুণাবলীর এক অনন্য উপাদান। কৃতজ্ঞতা বলতে ‘কোন কিছু লাভের ফলে কারো প্রতি একটি সুখী ও সন্তুষ্টচিত্ত অনুভূতিকে বুঝায়’। আমরা কেউ কারো থেকে কোন উপকার পেয়ে থাকলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকি। ইসলামে কৃতজ্ঞ বান্দার জন্যে রয়েছে পুরস্কার;আর কৃতঘ্নের জন্যে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা। এই শাস্তি হতে পারে প্রত্যক্ষ দন্ড কিংবা নিয়ামত উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের দাবী রাখে। কেননা আমরা প্রতিনিয়ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি, কিন্তু সে তুলনায় আমরা কিছুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি না। বরং অনেক সময় উল্টো আল্লাহর উপর আমরা এমন কিছু কথা আরোপ করে থাকি, যার ফলে আল্লাহর গজব নেমে আসতে পারে। এক্ষেত্রে একটি হাদিস স্মর্তব্য:
إن العبد ليحرم الرزق بالذنب يصيبه. 
অর্থাৎ বান্দা পাপের কারনে রিযিক বা জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।
আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বান্দার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে :
বান্দাহ যদি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তাহলে এর ফলে সে বহুমূখী কল্যাণ প্রাপ্ত হয়। যেমন আল্লাহ নিম্নে বর্ণিত আয়াতটিতে অধিক তাকীদ দিয়ে বলেছেন :
لئن شكرتم لأزيدنكم… 
অর্থাৎ যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে অধিক দিব। (ইবরাহীম-7)
এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস উল্লেখযোগ্য :
عن أنس رضي الله عنه قال :أتى النبي صلى الله عليه وسلم سائل فأمرله بتمرة فلم يأخذها أو وحش بها_قال :وأتاه آخر فأمرله بتمرة، فقال:سبحان الله، تمرةمن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال للجارية :إذهبي إلى أم سلمة فأعطيه الأربعين درهماً التي عندها.(مسند أحمد) 
এই হাদীসে দেখা যায়, শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এক ব্যক্তি ৪০ দিরহাম লাভ করলো অথচ অপর ব্যক্তি কিছুই পেলো না।
আল্লাহ বলেন :نعمة من عندنا كذلك نجزي من شكر 
অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ;আমি এভাবেই কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। (ক্বমার-৩৫)
অতএব আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার প্রতি যত বেশী কৃতজ্ঞ হব, তিনি আমাদের জন্য তার রহমতের ফটক ততো বেশি প্রশস্ত করে দিবেন।

দয়াময় আল্লাহ কারো কৃতজ্ঞতার মুখাপেক্ষী নন:
মানুষের শুকরিয়ার উপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অনুপরিমানও নির্ভরশীল নয়। আল্লাহ বলেন :إن تكفروا فإن الله غني عنكم.
অর্থাৎ যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে জেনে রাখ আল্লাহ তোমাদের হতে বেপরোয়া। (৩৯:৭)
আল্লাহ অন্যত্রে বলেন :
فكفروا وتولوا واستغني الله والله غني حميد 
অর্থাৎ তারা অকৃতজ্ঞ হলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো, আর আল্লাহ তাদের থেকে বেপরোয়া হয়ে গেলেন, আল্লাহ হলেন অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ। (৬৪:৬)
বান্দা যা কিছু করে, তা কেবল নিজের জন্যই করে। আল্লাহ বলেন:
ومن شكر فإنما يشكر لنفسه ومن كفر فإن ربي غني كريم 
অর্থাৎ যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে,আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত, কৃপাশীল। (সূরা নামল – ৪০)
এ ব্যাপারে আল্লাহ অন্যত্রে বলেন :
ومن يشكر فإنما يشكر لنفسه ومن كفر فإن الله غني حميد. 
অর্থাৎ যে কৃতজ্ঞ হয় সে তো কেবল নিজ কল্যাণের জন্যেই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। (সূরা লুক্বমান-১২)
এ প্রসঙ্গে সহীহ মুসলিমে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস বর্ণিত হয়েছে:
عن أبي ذر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل أنه قال :يا عبادي لو أن اولكم وآخركم وانسكم وجنكم كانوا على اتقي قلب رجل واحد منكم، ما زاد ذلك في ملكي شيئاً؛ يا عبادي لو أن اولكم وآخركم وانسكم وجنكم كانوا على افجر قلب رجل واحد منكم، ما نقص ذلك في ملكي شيئاً؛ يا عبادي لو أن اولكم وآخركم وانسكم وجنكم قاموا في صعيد واحد، فسئلوني، فاعطيت كل إنسان مسئلته، ما نقص ذلك في ملكي شيئاً إلا كما ينقص المخيط إذا أدخل البحر. فسبحانه و تعالى الغني الحميد. 
এই হাদীস থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বান্দার ইবাদত-বন্দেগী, ভালো অথবা মন্দ কাজ, বান্দার খুশি কিংবা অখুশি ইত্যাকার যাবতীয় বিষয় করা বা না করায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কোন কিছু যায় আসে না। তবে তিনি তার বান্দাদের প্রতি খুবই অনুগ্রহশীল। আসমান যমীনের সকল সৃষ্টির প্রত্যাশা একসাথে পূরণ করে দিলেও তার ভান্ডার থেকে এতটুকু কমবে না।
আল্লাহ মহান, অমূখাপেক্ষী, প্রশংসিত, অতীব দয়ালু।


উৎস:বাংলাদেশ জমঈয়েত আহলে হাদিস FB পেজ থেকে

#SotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close