preloder
বিবিধ বিষয়

নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ সম্পর্কিত ১০ টি অজানা তথ্য

১. ইতিহাসঃ চাষাবাদও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতু নির্ভর বিধায় তত্কালীন ভারতের মোগল সম্রাট আকবর প্রচলিত হিজরী চন্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন থেকেই খাজনা পরিশোধ উপলহ্মে মিষ্টিমুখ করা বা হালখাতা জাতীয় কিছু সামাজিক আচার অনুষ্ঠান এ দিনে পালিত হতো। ঘটা করে প্রথম বাংলা নববর্ষ পালন করা হয় ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ব্রিটিশরাজ্যের বিজয় কামনা করে ১৯১৭ সালে পহেলা বৈশাখে হোমকীর্ত্তন ও পুজার ব্যবস্হা করে কলকাতার হিন্দুমহল।

২. বাঙ্গালী চেতনার নামে প্রচারিত পহেলা বৈশাখের বর্তমান সংস্কৃতির প্রায় পুরোটাই হিন্দু ধর্মের আচার অনুষ্ঠানের অবিকল প্রতিরুপ। তাই ৮৭ ভাগ মুসলিমের দেশে, নববর্ষ উদযাপন এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানাদি কতটা ইসলাম সম্মত সে নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই? যেমনঃ *হিন্দু ধর্মের আশ্বিনে রান্না করে কার্তিকে খাওয়ার আদলে চৈত্রের শেষ দিনের রান্না পহেলা বৈশাখে পান্তা করে খাওয়া; গণেশ পূজার ‘মঙ্গল যাত্রা’ থেকে নেওয়া মঙ্গল শোভা যাত্রা, বিভিন্ন হিংস্র-অহিংস্র জীব-জন্তু পূজা থেকে নেওয়া রাক্ষস-খোক্কসের মুখোশ ও পশু-পাখীর প্রতিমা নিয়ে উৎসব, সিঁদুরের আদলে লালটিপ ধারণ করা, হিন্দু রমনীদের পুজার আদলে সাদা সাড়ি পরে বের হওয়া ইত্যাদি।
আবার সহীহ হাদীসে এসেছে-

[quote]”যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদেরই দলভুক্ত।”—( সুনান আবূ দাঊদ, সহীহ)[/quote]

আরও এসেছে

[quote]“কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে [জীবন্ত বস্তুর] ছবি তৈরীকারীরা।” (বুখারী ও মুসলিম)[/quote]

৩. নারীকে জড়িয়ে বিভিন্ন অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতার চর্চাঃ শালীন মেয়েরাও গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে এ দিনে অর্ধনগ্ন হয়ে বের হয়। আর নারী পুরুষ ঢলাঢলির মাধ্যমে তৈরি হয় ব্যভিচারের সবচে বড় ক্ষেত্র। 
অথচ মহান আল্লাহ বলেন-‘‘যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি..।’’ (সূরা আন-নূর১৯)

৪. উল্কি অঙ্কনঃ অঙ্কন পটীয়সীরা উল্কি আঁকার জন্য পসরা সাজিয়ে বসে থাকে রাস্তার ধারে। তাদের সামনে তরুণীরা পিঠ, বাহু আর হস্তদ্বয় মেলে ধরে পছন্দের উল্কিটি এঁকে দেয়ার জন্য। যা প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতা। 

[quote]রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- ‘‘যে ব্যক্তি পর-চুলা লাগায় এবং যাকে লাগায় এবং যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যার গায়ে আঁকে, আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেন।’’(সহীহ বুখারী)[/quote]

৫. গান-বাদ্যঃ গান ও ঢোল তবলা ছাড়া পহেলা বৈশাখ হয় না, যা ইসলামে সম্পুর্ণ হারাম।

[quote]রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- “আমার উম্মতের মধ্য হতে একদল লোক এমন হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি হালাল মনে করবে”।[সহীহ বুখারী][/quote]

৬. সূর্যকে স্বাগত জানানো ও বৈশাখকে সম্বোধন করে স্বাগত জানানোঃ এ ধরনের কর্মকান্ড মূলত সূর্য-পূজারী ও প্রকৃতি-পূজারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনুকরণ মাত্র, যা আধুনিক মানুষের দৃষ্টিতে পুনরায় শোভনীয় হয়ে উঠেছে। ১৯৬৭ সালে একটি সুপরিচিত গোষ্ঠি প্রথম শুরু করেছিল প্রকৃতি পূজার এই নবধারা। রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রার্থনাগীতিতে তারা কামনা করল- “বৈশাখ যেন মুমূর্ষের দেয় উড়ায়ে” এরপর “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” কত কি। কিন্তু আফসোস! শিক্ষিত মুসলিম কিভাবে বৈশাখকে এমনভাবে ডাকতে পারে, অথচ এটা সম্পুর্ণ শিরক। [quote]“তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব”। [সুরা গাফির: ৬০] “আল্লাহ ব্যাতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যা তোমার উপকার করতে পারে না, অপকারও করতে পারে না”।[সুরা ইউনুস: ১০৬][/quote]

৭. মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরাঃ নতুন বছর নতুন কল্যাণ বয়ে আনে, দূরীভূত হয় পুরোনো কষ্ট ও ব্যর্থতার গ্লানি – এধরনের ধারণা আদিযুগের প্রকৃতি-পুজারী মানুষের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণার অবশিষ্টাংশ। ইসলামে এ ধরনের কুসংস্কারের কোন স্থান নেই, বরং তা স্পষ্ট শীরক। যদি সে মনে করে যে, আল্লাহ এই উপলক্ষ দ্বারা মানবজীবনে কল্যাণ বর্ষণ করেন, তবে সে ছোট শিরকে লিপ্ত হল। আর কেউ যদি মনে করে যে নববর্ষের আগমনের এই ক্ষণটি নিজে থেকেই কোন কল্যাণের অধিকারী, তবে সে বড় শিরকে লিপ্ত হল, যা তাকে ইসলামের গন্ডীর বাইরে নিয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

আল্লাহ বলেছেন:[quote]“নিশ্চয়ই যে কেউই আল্লাহর অংশীদার স্থির করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন, আর তার বাসস্থান হবে অগ্নি। এবং যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” (আল-মায়িদাহ, ৫:৭২)[/quote]

৮. সুতরাং, নববর্ষ কেন্দ্রিক এ অনুষ্ঠানগুলো কোনভাবেই অসাম্প্রদায়িক নয়, বরং
সর্বাংশে সাম্প্রদায়িক। তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজের অনেকেরই ধর্মের নাম শোনামাত্র গাত্রদাহ সৃষ্টি হলেও প্রকৃতি-পূজারী আদিম ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নকল করতে তাদের অন্তরে অসাধারণ পুলক অনুভূত হয়। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এদেশের মানুষেরা যা জানত না এখন নববর্ষের নামে তা আমাদের সংস্কৃতির অংশ বানানো হচ্ছে, যা শয়তানের পুরোনো কূটচালের নবায়ন ছাড়া অন্য কিছু নয়।

৯. অনেকেই এখন বিভিন্ন উৎসব পালনকে ধর্মের সাথে মিলাতে একদম নারাজ। অথচ নবী মুহাম্মাদ (সা:) পরিষ্কারভাবে মুসলিমদের উৎসবকে নির্ধারণ করেছেন, ফলে অন্যদের উৎসব মুসলিমদের সংস্কৃতিতে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই।

[quote]“রাসূলুল্লাহ(সা.) যখন [মদীনায়] আসলেন, তখন তাদের দুটো উৎসবের দিন ছিল। তিনি(সা.) বললেন, ‘এ দুটো দিনের তাৎপর্য কি?’ তারা বলল, ‘জাহিলিয়াতের যুগে আমরা এ দুটো দিনে উৎসব করতাম।’ রাসূলুল্লাহ(সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে এদের পরিবর্তে উত্তম কিছু দিয়েছেন: ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন। ” [সূনান আবু-দাউদ, সহীহ][/quote]

১০. সহীহ মুসলিমে এসেছে: [quote]”তোমাদের মধ্যে কেউ কোন অন্যায় দেখলে তা, সে তার হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, যদি তা সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, তাও যদি না করতে পারে, তাহলে অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করবে। আর এ হচ্ছে (অন্তর দিয়ে ঘৃনা করা) দুর্বলতম ঈমান।”[/quote]

অতএব কোন মুসলিমের মধ্যে সামান্যতম ঈমান অবশিষ্ট থাকলেও সে মন থেকে এই গর্হিত ও বিধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে ঘৃনা করবে; যার প্রকাশ হবে স্বভাবতই এ দিবস কেন্দ্রিক যাবতীয় কর্মকান্ডকে প্রত্যাখ্যান করা এবং যেকোন ধরনের সহযোগিতা করা থেকে বেঁচে থাকা। মহান আল্লাহ বলেন:

[quote]“সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ২][/quote]
(সংগৃহীত)


উৎস: Alamgir Kabir Ashraf Ali ফেসবুক ওয়াল থেকে
#SotterDikeAhobban

 

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close