preloder
বিবিধ বিষয়

লেজকাটা শিয়াল

শিয়াল খুব চতুর প্রাণী বলে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ। একদা একটি শিয়ালের কোন এক সমস্যায় লেজ কাটা গিয়েছিল। আর সেটা ছিল তার নিজ সমাজে বড় বিব্রতকর। সবার থেকে সে আলাদা বলে লজ্জা পেতো। তাই সে তার জাত-ভাইদেরকে লেজকাটার নানা যুক্তি পেশ করে পরামর্শ দিয়েছিল, যাতে তারা সবাই নিজ নিজ লেজ কেটে ফেলে। সে বলেছিল, ‘লেজ একটা দেহের বাড়তি অংশ। এর কোন প্রয়োজন নেই। এটা না থাকলে বেশি সুন্দর দেখায়’ ইত্যাদি।
মনুষ্য সমাজেও বহু লেজকাটা শিয়াল বাস করে, যারা নিজেদের ক্ষতি বা ধ্বংস হয়েছে বলে অন্য সকলের ক্ষতি বা ধ্বংস কামনা করে। নিজে অসফল বলে সকলের অসফলতা পছন্দ করে।
নিজে যেমন চোর, তেমনি দেশের সকলকে চোর বানাতে প্রয়াস পায়, চোরের প্রশংসা করে। নিজে যেমন চরিত্রহীন, তেমনি জাতির সকলকে চরিত্রহীন হতে আহবান করে, চরিত্রহীনতার মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
আরবীতে একটি প্রবাদ আছে এবং বলা হয় যে, উষমান (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেছেন,
ودت الزانية لو أن النساء كلهن زواني.
অর্থাৎ বেশ্যা চায়, মেয়েরা সকলেই যেন বেশ্যা হয়।
তদনুরূপ বেপর্দা মহিলা চায়, দুনিয়ার সকল মহিলাই যেন বেপর্দা হয়।
স্বামীকে বড় না মানার মেয়ে চায়, মেয়েরা সবাই যেন স্বামী না মানুক।
স্বেচ্ছাচারী চায়, সবাই যেন তার মতো স্বেচ্ছাচারী হোক।
চোর চায়, দুনিয়ার সব লোকই যেন চোর হয়।
একজন তার বাপ-মায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, সে বাধ্য অনুগত সন্তানদেরকে পরামর্শ দেয়, তারা যেন তার মতো বিদ্রোহী হয়।
একজন নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহিণী, সে স্বামী-সোহাগীদেরকেও নিজের মতো করতে চায়।
কাফের চায়, সারা বিশ্বের মানুষ যেন কাফের হয়ে যাক।
আর সকলের নিজ নিজ যুক্তি আছে। লেজকাটা শিয়ালের মতো সবাই নিজ নিজ কর্মের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। মহান আল্লাহ মুনাফিকদের ব্যাপারে বলেছেন, “
{وَدُّواْ لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُواْ فَتَكُونُونَ سَوَاء} (89) سورة النساء

তারা চায় যে, তারা যেরূপ কাফের হয়েছে, তোমরাও সেরূপ কাফের হয়ে যাও; ফলে তারা ও তোমরা একাকার হয়ে যাও।” (নিসা ৪৮৯)।

তিনি বহু ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের ব্যাপারে বলেছেন, “
{وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّن بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّاراً حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُواْ وَاصْفَحُواْ حَتَّى يَأْتِيَ اللّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ } (109) سورة البقرة

হিংসামূলক মনোভাববশতঃ তাদের নিকট সত্য প্রকাশিত হবার পরও, গ্রন্থধারীদের মধ্যে অনেকেই আকাঙ্ক্ষা করে যে, বিশ্বাসের পর (মুসলিম হওয়ার পর) আবার তোমাদেরকে যদি অবিশ্বাসী (কাফের)রূপে ফিরিয়ে দিতে পারত। সুতরাং তোমরা ক্ষমা কর ও উপেক্ষা কর, যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (বাকারাহঃ ১০৯)।

লেজকাটা শিয়ালের দল নিজেদের আকারকে ভালো মনে করে লেজবিশিষ্ট শিয়ালের নিন্দা করে। লেজকাটার প্রশংসা শুনে অধিকাংশ শিয়াল যখন লেজকাটা হয়ে যায়, তখন ভালো শিয়ালদেরকে নিয়ে তারা ব্যঙ্গ-বিদ্রপ করে। যেমন বর্তমানের অপরাধীরা ভালো মানুষকে নিয়ে নানাভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রপ করে। ভালো হওয়ার জন্য তাদের সমালোচনা করে, নিন্দা করে। নিজের বউও বলে, ‘সবারই (অধিকাংশেরই) তো লেজ কাটা, তাহলে তোমারও লেজটা কাটলে সমস্যা কী?’ মানে সবাই ঘুস খেলে তোমার খেলে দোষ কী?!

কা’ব বলেছেন,
ليأتين على الناس زمان يعير المؤمن بإيمانه كما يعير اليوم الفاجر بفجوره حتى يقال للرجل إنك مؤمن فقيه.

অবশ্যই মানুষের কাছে এমন একটি যুগ আসবে, যখন মু’মিন তার ঈমানের জন্য নিন্দিত হবে, যেমন আজ পাপাচারী তার পাপের জন্য নিন্দিত হয়। এমনকি তার জন্য বলা হবে, ‘তুমি তো ফকীহ মু’মিন।‘ (আল-ফিতান, নাঈম বিন হাম্মাদ ৬১নং)।

হা, মু’মিনকে তার ঈমানী আচরণের জন্য ব্যঙ্গ ও কটাক্ষ করা হবে। তার দাড়ি ও লেবাস নিয়ে বিদ্রপ করা হবে। নিজের সমাজ, জামাত, গ্রাম ও বাড়ির লোকে তা করবে। সঠিক ইসলামের অনুসরণ করার জন্য তাকে সমাজ, গ্রাম বা বাড়ি থেকে বের করতে চাইবে। লেজ না কাটলে লেজ-ওয়ালা অবিকৃত আকারের শিয়াল যেমন লেজকাটা দলের নিকট নিন্দনীয় ও উপহাসের পাত্র হয়, তাদের সমাজে অপাংক্তেয় হয়, তেমনি সমকামে অভ্যস্ত সমাজে চরিত্রবান ব্যক্তিও তাই হবে।
দেখুন না, ইতিহাস কী বলছে? লূত নবী (আলাইহিস সালাম)-এর জাতি তাকে ও তার অনুগামীদেরকে কী বলেছিল।

মহান আল্লাহ বলেছেন,
“আমি লূতকেও পাঠিয়েছিলাম, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা এমন কুকর্ম করছ, যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি। তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে পুরুষের নিকট গমন কর, তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।‘ উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বলল,
{أَخْرِجُوهُم مِّن قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ} (82) سورة الأعراف

এদের (লূত এবং তার সঙ্গীদের)কে জনপদ হতে বহিস্কৃত কর। এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র থাকতে চায়।’ (আ’রাফঃ ৮০-৮২)

তার মানে আমাদের জনপদে থাকতে হলে, আমাদের মতো লেজকাটা তথা সমকামী অপবিত্র হতে হবে!
কী ভাইয়েরা ও বোনেরা! এমন কোন অভিজ্ঞতা আপনার হয়েছে নাকি? কোন লেজকাটা শিয়াল আপনাকে কোন ব্যাপারে লেজ কাটতে বলেছে নাকি? উত্তর আশা করছি।


আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

#SotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close