preloder
স্বামী স্ত্রী | দাম্পত্য জীবন
সর্বশেষ

অবৈধ প্রেম-ঘটিত অবাঞ্ছিত একটি পরিণাম খুন

অবৈধ প্রণয়-ঘটিত অশান্তির জেরে কত মানুষ খুন হয়, তার ইয়ত্তা নেই। যে খুন সম্বন্ধে মহান আল্লাহ বলেছেন,
ৎمَنْ قَتَلَ نَفْساً بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعاً وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعاً
অর্থাৎ, এ কারণেই বনী ইস্রাঈলের প্রতি এ বিধান দিলাম যে, যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দন্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণরক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)
আর মহানবী  বলেছেন,
((لَزَوَالُ الدُّنْيَا ، أَهْوَنُ عِنْدَ اللهِ ، مِنْ قَتْلِ رَجُلٍ مُسْلِمٍ))।
“একজন মুসলিমকে খুন করার চাইতে জগৎ ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর নিকট অধিক সহজ।” (তিরমিযী ১৩৯৫, নাসাঈ ৩৯৮৭নং)
তিনি আরো বলেছেন,
(( أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ القِيَامَةِ فِي الدِّمَاء )) ।
“কিয়ামতের দিন (মানবাধিকারের বিষয়ে) সর্বপ্রথমে লোকেদের মধ্যে যে বিচার করা হবে তা রক্ত সম্পর্কিত হবে।” (বুখারী ৬৮৬৪, মুসলিম ৪৪৭৫নং)
যে মহাপাপ খুন ঘটে বহু লায়লা-মজনুদের কর্মকান্ডের জেরে, তার কিছু নিম্নরূপঃ-
বিয়ের ইচ্ছা না রেখে প্রেম করতে গিয়ে ধরা পড়লে জোর ক’রে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার পর খুন করে কপট প্রেমিক। অথবা প্রেমিকা গর্ভবতী হয়ে পড়লে প্রেমিককে বিয়ের চাপ দিলে অথবা প্রশাসন বা সমাজকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখালে তাকে খুন করে প্রেমিক।
প্রেমে বাধা পড়লে পথের কাঁটা দূর করতে বাধাদানকারীকে খুন করে প্রেমিক অথবা প্রেমিকা। এ ক্ষেত্রে প্রেমিকার বাবা, মা, ভাই অথবা স্বামীকে খুন করা হয়। অনেক সময় প্রেমিকাও সে খুনে সম্মত ও শরীক থাকে। বরং নতুন নাগর লাভের আশায় স্ত্রী নিজ স্বামীকে নিজ হাতে খুন করে অথবা বিষপান করিয়ে হত্যা করে!
যেমন প্রেমিক তার বিবাহিত স্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে নতুন লায়লাকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন দেখে।
অনেক সময় ছোট শিশু সন্তান মায়ের প্রেম-সাফল্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বেপরোয়া হয়ে কাবাবের হাড্ডি দূর করতে তাকে খুন করে রাক্ষসিনী! সানন্দে তার প্রেম-কল্লোলিত মনে তখন সে গেয়ে থাকে,
‘গোপন প্রেমের মোহন বাঁশি এখন বাজাব,
আমি কোলের ছেলে জলে ফেলে যৌবন সাজাব।
আর সরু ক’রে সিঁথি কেটে চ্যাংড়া নাচাব!’
প্রেমিকার প্রেমের ভিখারী অন্য কেউ আছে জানতে পেরে ঈর্ষায় সেই শরীক প্রেমিককে খুন করে প্রেমিক।
প্রেমিকা অন্যকেও প্রেম-নিবেদন করে জানতে পেরে রাগ ও ঈর্ষায় নিজ হাতে প্রেমিকাকেই খুন করা হয়ে থাকে! ‘তুই আমার হবি না তো তোকে কারো হতে দেব না’ বলে তাকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেয় অথবা এ্যাসিড ছুঁড়ে তার সৌন্দর্যই ছিনিয়ে নেয় এবং তার প্রেমে বিশ্বাসঘাতকতার বদলা নেয়!
প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হলে অনেক সময় প্রেমিক প্রেমিকাকে খুন করে। আর অনেক সময় প্রেমিকাকে নষ্ট করার পর প্রত্যাখ্যান করলে প্রেমিকা প্রতিশোধ নিতে প্রেমিককে খুন করে অথবা করায়।
অপেক্ষাকৃত ছোট পাপ করতে করতে পরিশেষে এত বড় মহাপাপ ক’রে ফেলে প্রেমের পাগলরা, যে পাপের শাস্তি (আল্লাহ মাফ না করলে) দোযখ ছাড়া কিছু নয় পরকালে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
ৎوَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًاঃ (৯৩) سورة النساء
“আর যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, সেখানেই সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন।” (নিসা ৯৩)
অনেক সময় মেয়ের অভিভাবক মেয়েকে কোন ছেলের সাথে প্রেম করতে দেখে সম্মান রাখতে তাকে খুন করে।
আর পরিশেষে পরিণাম হয়, খুনের বদলে খুন নতুবা কারাবাস।


গ্রন্থঃ ‘প্রেমরোগ’ বই থেকে
আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানীর ‘

#ShotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close