preloder
বিবিধ বিষয়

দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্য

অবশ্য অধিকাংশ মানুষ তা সাফ ক’রে সৌন্দর্য আছে ধারণা ক’রে থাকে। সকল ধর্মের মহাপুরুষদের দাড়ি থাকে। দাড়ি হল নিষ্ঠার আলামত। অবশ্য নকল দাড়িও আছে। তাই দাড়ি নিয়ে অনেক কটাক্ষ ও মন্তব্য শুনতে হয়।
বিশেষ ক’রে এয়ারপোর্টে দাড়ি নিয়ে অনেক বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা অনেক দাড়িওয়ালার থাকতে পারে। ‘লাদেন-চাচা, তালেবান’ থেকে নিয়ে ‘মুত্বাওয়া, মোল্লাজী,সূফী-সাব’ ইত্যাদি।
কারোর দাড়ি ইবাদত হিসাবে না হতে পারে। কারো মুনাফিকের দাড়ি সাইনবোর্ড বা ‘হাতি কা দো দাঁত’ হিসাবে হতে পারে। কেউ ধোঁকা দেওয়ার জন্য দাড়ি রাখতে পারে। তা বলে ঈমানী দাড়ি যে নেই, তা বলা যাবে না।
অনেক সময় অপরাধী দাড়িওয়ালাকে ভর্ৎসনা ক’রে বলা হয়, ‘দাড়ির মান রক্ষা কর। মুখে দাড়ি নিয়ে এই কাজ করতে পারলি? মুখে লম্বা দাড়ি রেখে এ কাজ করতে তোর লজ্জা হলো না?’ ইত্যাদি।
এক দেশের এয়ারপোর্টে এক দাড়িওয়ালা ভাইকে নিরাপত্তারক্ষী জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি দাড়ি লালন করেছেন কেন?’
উত্তরে ভাইটি বললেন, ‘আমি দাড়ি লালন করিনি, বরং দাড়িই আমাকে লালন করেছে।’
নিরাপত্তারক্ষী অবাক হয়ে বলল, ‘মানে?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, যখনই আমি অন্য লোকেদের মতো কোন পাপকাজ করার ইচ্ছা করেছি, তখনই আমার দাড়ি আমাকে বলেছে, দাড়ি রেখে তুই এ কাজ করবি?’
হ্যাঁ, এই হল ঈমানী দাড়ি। এ দাড়ি দাড়িওয়ালাকে চরিত্রবান বানায়, মন্দকাজে বাধা দান করে, নিজের মান রাখতে বলে ইত্যাদি।
ইমাম মালেক বলেছেন, ‘জ্ঞানী মানুষের উচিত, তার দাড়ি ও পাকা চুল যেন তাকে বাতিল থেকে বিরত রাখে।’ (তফসীর কুরতুবী ৮/৩৩৭)
হ্যাঁ, ইসলামে দাড়ি কোন বাড়তি জিনিস নয়। (কম-সে-কম এক মুঠো) দাড়ি রাখা কেবল সুন্নত নয়, বরং ওয়াজেব। ইসলামের মুখ্য-গৌণ, শাঁস-খোসা সকল বিষয়ই ইসলাম।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ মু’মিন হতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
ৎيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌঃ (২০৮) سورة البقرة
“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (বাক্বারাহঃ ২০৮)
অনেকের ধারণা, দাড়িতে ইসলাম নেই।
কিন্তু ইসলামে দাড়ি আছে, এটা তো মানতে হবে।
শায়খ মুহাম্মাদ জামীল যইনু বলেছেন, ‘যদি আপনি কোন মুসলিমকে প্রশ্ন করেন যে, ‘তুমি কি তোমার রসূলকে ভালোবাসো? তখন চট করে হয়তো সে আপনাকে বলবে, ‘অবশ্যই। আমার জান ও মাল তাঁর জন্য কুরবান (উৎসর্গ) হোক।’ অতঃপর যদি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে তুমি তোমার দাড়ি চাঁছ কেন? আর অমুক অমুক বিষয়ে তুমি তাঁর বাহ্যিক বেশভূষা, চরিত্র, তওহীদ প্রভৃতিতে তাঁর সাদৃশ্য অবলম্বন কর না কেন?’ তখন চট করে সে এই বলে আপনাকে উত্তর দেবে, ‘ভালোবাসা তো অন্তরে হয়। আমার অন্তর ভালো। আলহামদু লিল্লাহ!!’
(যেমন হাদীসে আছে, “তাকওয়া থাকে এখানে” অর্থাৎ অন্তরে।) (বুখারী-মুসলিম)
কিন্তু আমরা তাকে বলব, ‘তোমার অন্তর যদি ভালো হত, তাহলে তার প্রভাব ও প্রতিকৃতি তোমার দেহে পরিস্ফুট হত। যেহেতু আল্লাহর রসূল  বলেন,
ألاَ وَإنَّ فِي الجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَت صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ ، ألاَ وَهِيَ القَلْبُ
“শোন! দেহের মধ্যে একটি মাংসপিন্ড রয়েছে; যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হল হৃৎপিণ্ড (অন্তর)।” (বুখারী ৫২, ২০৫১, মুসলিম ৪১৭৮নং, ফিরকাহ নাজিয়াহ দ্রঃ)
আর মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,
ৎوَالْبَلَدُ الطَّيِّبُ يَخْرُجُ نَبَاتُهُ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَالَّذِي خَبُثَ لاَ يَخْرُجُ إِلاَّ نَكِدًا كَذَلِكَ نُصَرِّفُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَشْكُرُونَঃ (৫৮) سورة الأعراف
“উৎকৃষ্ট ভূমি তার প্রতিপালকের নির্দেশে ফসল উৎপন্ন করে এবং যা নিকৃষ্ট তাতে কঠিন পরিশ্রম ব্যতীত কিছুই জন্মায় না। এভাবে কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শনসমূহ বিভিন্নভাবে বিবৃত ক’রে থাকি।” (আ’রাফ ঃ ৫৮)
বলা বাহুল্য, মনের জমি উর্বর ঈমানী হলে তাতে ঈমানী ফসল দাড়ি ইত্যাদি তো মু’মিনের দেহে প্রকাশ লাভ করবে। বলা হয়, চেহারা হল মনের আয়না। তাই মনের ছবি চেহারায় দেখা যাওয়া কি বাঞ্ছনীয় নয়?
অবশ্যই ভিতরের সাথে বাহিরের অপূর্ব মিল-বন্ধন আছে। একটি অন্যটির প্রমাণ বহন করতে পারে। যেমন নামাযে কাতার বাঁধার সময় মহানবী  বলতেন,
لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ ، أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ 
“তোমরা নিজেদের কাতার জরুর সোজা ক’রে নাও; নচেৎ আল্লাহ তোমাদের মুখমন্ডলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ক’রে দেবেন।” (মালেক, বুখারী ৭১৭, মুসলিম ১০০৬নং প্রমুখ)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, একদা আল্লাহর রসূল  লোকেদের প্রতি অভিমুখ ক’রে বললেন, “তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের হৃদয়-মাঝে (পরস্পরের প্রতি) বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দেবেন।” (আবূ দাঊদ ৬৬২, ইবনে হিব্বান ২১৭৬, ইবনে খুযাইমা ১৬০, সহীহ তারগীব ৫১২নং)
জ্ঞাতব্য যে, প্রত্যেক মুসলিম পুরুষেরই দাড়ি থাকবে। সুতরাং সেটা বিশেষ কোন সম্প্রদায় বা সৎ-অসতের প্রতীকী চিহপ্প হতে পারে না। দাড়ি রেখে কেউ সমাজ-বিরোধী কাজ করলে অথবা দাড়ির কেউ অপব্যবহার করলে তাতে ইসলামের কোন দোষ থাকতে পারে না। অবশ্য সঠিক ঈমানী দাড়ি মুসলিমকে ঈমান-বিরোধী কাজে বাধা দিয়ে থাকে।


আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী
ফেসবুক ওয়াল থেকে

#ShotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন

Close
Close