preloder
মৃত্যু | কবর | কিয়ামত | জাহান্নাম | জান্নাত

সবই ছলনাময়, কেউ কারো নয়

পিতামাতা, স্ত্রী – সন্তান, ভাই-বোন কিংবা নিকটাত্মীয়ের মায়া ছেড়ে দূরদেশে একলা থাকাটা খুবই কষ্টকর!

এইযে এত মায়া, এত মোহাব্বত, এত ভালবাসা সব একসময় শেষ হয়ে যাবে! দিনশেষে আমাদেরকে নিজ নিজ কবরে একাই যেতে হবে, একাই হিসাব দিবসের দিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, একাই পুলসিরাত পার হতে হবে, একাই জাহান্নামে জ্বলতে হবে! না কোনো বন্ধু সাহায্যে এগিয়ে আসবে, না পিতামাতা, না স্ত্রী – সন্তান!
.

দুনিয়াবী লেনদেনের ক্ষেত্রে আমরা একে অপরের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেই, চরম বিপদের মুহূর্তে অর্থনৈতিক সহযোগীতা করি, উপকারের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করি, দূর প্রবাসে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে স্ত্রী – সন্তানদের মুখে আহার তুলে দেই।
পরিচিত কাউকে যেখানেই দেখি আগ বাড়িয়ে কথা বলতে ছুটে যাই! কিন্তু এমন একদিন আসবে, যেদিন কেউ কাউকে চিনবে না বরং সবাই পরিচিতদের থেকে পালাতে থাকবে!

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,

فَاِذَا جَآءَتِ الصَّآخَّۃُ ﴿۫۳۳﴾
یَوۡمَ یَفِرُّ الۡمَرۡءُ مِنۡ اَخِیۡہِ ﴿ۙ۳۴﴾
وَ اُمِّہٖ وَ اَبِیۡہِ ﴿ۙ۳۵﴾
وَ صَاحِبَتِہٖ وَ بَنِیۡہِ ﴿ؕ۳۶﴾
لِکُلِّ امۡرِئٍ مِّنۡہُمۡ یَوۡمَئِذٍ شَاۡنٌ یُّغۡنِیۡہِ ﴿ؕ۳۷﴾

“অতঃপর যখন তীক্ষ্ণ আওয়াজ আসবে, সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, এবং তার মাতা, তার পিতা, তার পত্নী ও তার সন্তান থেকে, সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন গুরুতর অবস্থা হবে যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যতিব্যস্ত রাখবে”।
——– [সূরা আবাছা , আয়াত : ৩৩-৩৭]
.

আহা! কি ভয়াবহ পরিস্থিতি! নিজের মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের থেকেও সেদিন সবাই পালাতে থাকবে!
.

প্রিয়নবী মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ একেবারেই উলংগ হয়ে উঠবে। একথা শুনে উম্মুল মুমিনীনদের মধ্য থেকে কোনো একজন ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের লজ্জাস্থানও কি সেদিন সবার সামনে খোলা থাকবে?

জবাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ সুরাহ আবাছার উপরিউক্ত আয়াতটি তেলাওয়াত করে বলেন, সেদিন [ এত ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করবে যে ] একে অপরের দিকে তাকানোর মতো হুঁশ ও চেতনা থাকবে না।
— [নাসাঈ : ২০৮৩, তিরমিয়ী: ৩৩৩২, ইবনে মাজাহ : ৪২৭৬, মুসনাদে আহমাদ : ৬/৮৯]।

.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা অন্যত্র বলেন,

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمۡ وَ اخۡشَوۡا یَوۡمًا لَّا یَجۡزِیۡ وَالِدٌ عَنۡ وَّلَدِہٖ ۫ وَ لَا مَوۡلُوۡدٌ ہُوَ جَازٍ عَنۡ وَّالِدِہٖ شَیۡئًا ؕ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ٝ وَ لَا یَغُرَّنَّکُمۡ بِاللّٰہِ الۡغَرُوۡرُ ﴿۳۳﴾

হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর এবং সেই দিনকে ভয় কর যেদিন পিতা তার সন্তানের কোন উপকার করতে পারবে না এবং সন্তানও তার পিতার কোন উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন কিছুতেই তোমাদেরকে ধোঁকা দিতে না পারে এবং মহাপ্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলতে না পারে।
—— [ সুরাহ লুকমান: ৩৩ ]

প্রিয় সর্তীর্থগন, একথা ধ্রুব সত্য যে, আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে, ছোট/বড় কোন কর্মই লুকানোর সুযোগ নেই! যেহেতু এখনও আপনার, আমার শ্বাস-প্রশ্বাস চলমান রয়েছে, অতএব, আসুন চিন্তাশীল হই। ঐ শুনুন মহান আল্লাহর বানী, “অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।”
——- [সূরা যিলযাল : ৭-৮]

হে আল্লাহ আপনি আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করে দিন,
আমাদেরকে উপরিউক্ত বিষয়াদি অনুধাবনের তাওফীক্ব দিন, ফিতনাকে ফিতনা হিসেবে গন্য করার তাক্বওয়াটুকু দান করুন , আমাদের অন্তরসমূহকে শয়তানের জিম্মায় ছেড়ে না দিয়ে, দ্বীনের সাথে বেঁধে রাখার শক্তি ও ঈমান দান করে জাহান্নামের ইন্দন হওয়া থেকে রক্ষা করুন। [আ-মী-ন]


সংকলক :আখতার বিন আমীর। ওস্তাদের ফেসবুক ওয়াল থেকে

#ShotterDikeAhobban

Tags

একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close