preloder
সাম্প্রতিক-বিষয়াদি

বর্তমান পরিবেশের আকাশ-বাতাস যেন ভয় ও আতঙ্কে পরিপূর্ণ 

বাড়ি থেকে বের হলে ফিরে আসার কোন নিশ্চয়তা নেই। পথে-ঘাটে অত্যাচারিত হওয়ার ভয়ানক আশঙ্কা।

অন্যায়ভাবে কেউ আমার অপমান করবে নাকি?
অন্যায়ভাবে কেউ আমার শ্লীলতাহানি করবে নাকি?
অন্যায়ভাবে কেউ আমাকে মারবে নাকি?
অন্যায়ভাবে কেউ আমাকে মেরে ফেলবে নাকি?
ইত্যাদি নানা ধরনের আশঙ্কা মনের ভিতর ঘুরঘুর করে।
এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বের হতে হলে আপনি কয়েকটি কাজ করতে পারেন। আর তাতে আপনি নিশ্চিতভাবে মহান আল্লাহর হিফাযতে থাকবেন।
১। ফজরের নামায জামাতে পড়ুন।
মহানবী ﷺ বলেছেন,
(( مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللهِ ))
“যে ব্যক্তি ফজরের নামায (জামাআতে) পড়ল, সে আল্লাহর জামানত লাভ করল।” (মুসলিম ১৫২৫-১৫২৬নং)
২। মহান আল্লাহর উপর প্রকৃত ভরসা রাখুন।
মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا} (3) سورة الطلاق
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করবে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট হবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেনই। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে স্থির করেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা।’ (ত্বালাক্বঃ ৩)
৩। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নির্দিষ্ট দুআ পাঠ করুন।
« إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ بِسْمِ اللهِ ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ ، لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ ، يُقَالُ لَهُ : كُفِيتَ ، وَوُقِيتَ ، وَتَنَحَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ.».
“বান্দা যখন নিজ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, অলা হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে, তখন বলা হয়, ‘যথেষ্ট! তুমি সঠিক পথ পেলে, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেলে এবং সকল অকল্যাণ থেকে বেঁচে গেলে।’ অতঃপর শয়তান তার থেকে দূর হয়ে যায়। (তিরমিযী ৩৪২৬, নাসাঈ)
৪। পথে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করুন।
{رَبَّنَا لاَ تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} (85) سورة يونس
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালেম সম্প্রদায়ের উৎপীড়নের পাত্র করো না।’ (ইউনুসঃ ৮৫)
{رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (5) سورة الممتحنة
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে অবিশ্বাসীদের জন্য ফিতনার কারণ করো না, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (মুমতাহিনাহঃ ৫)
৫। শক্র সামনে দেখলে নির্দিষ্ট দুআ বলুন।
নবী ﷺ যখন কোন (শত্রুদলের) ভয় করতেন, তখন এই দুআ বলতেন,
(( اللَّهُمَّ إنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهمْ ))
“আল্লা-হুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহূরিহিম অনাঊযু বিকা মিন শুরূরিহিম।”
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে ওদের মুখোমুখি করছি এবং ওদের অনিষ্টকারিতা থেকে তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি। (আবূ দাউদ ১৫৩৯, নাসাঈর কুবরা ৩৬৩১নং)
৬। এর পরেও যদি মহান আল্লাহ আপনার ঈমানের পরীক্ষা চান, তাহলে হৃদয়কে ঈমানে পরিপূর্ণ রাখুন। আর নেহাতই নিরূপায় অবস্থায় জান বাঁচানোর জন্য কুফরী কথা মুখে বলুন। সেটা আপনার জন্য বৈধ।
৭। সামর্থ্য থাকলে আত্মরক্ষা করা আপনার জন্য বৈধ। তাতে আপনাকে হত্যা করা হলে আপনি শহীদ।
মহানবী ﷺ বলেছেন,
(( مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دَمِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دِينهِ فَهُوَ شَهِيدٌ ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ ))
“যে ব্যক্তি তার মাল-ধন রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজ রক্ত (প্রাণ) রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ। যে তার দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ এবং যে তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সেও শহীদ। (আবূ দাঊদ ৪৭৭৪, তিরমিযী ১৪২১নং)
৮। কোন মহিলা ধর্ষণের শিকার হলে আত্মহত্যা করবেন না। প্রতিহত না করতে পারলে উপভোগও করবেন না। কারণ তা ব্যভিচারে পরিণত হয়ে যাবে।
আল্লাহ যেন আমাদের নারী-পুরুষ সকলকে সকল প্রকার ফিতনা ও বিপদ থেকে রক্ষা করুন।
اللهم إنا نسألك العفو والعافية في الدنيا والآخرة
আল্লাহুম্মা আমীন।


সংগ্রহেঃ আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী
#ShotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close