preloder
বিবিধ বিষয়

চাষ তো আল্লাহ করেন

চাষী মনে করে, চাষ সে করে। কিন্তু আসলে চাষ করেন সুমহান স্রষ্টা। চাষী তো বীজ বপন করে, বীজ অঙ্কুরিত করেন তিনি। তিনিই বৃষ্টি দেন বলে চারাগাছ হয়, অতঃপর বড় গাছ হয়, ফুল হয়, ফল হয়।
তিনিই সুরক্ষিত করেন। নচেৎ তিনিই অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি দিয়ে ধ্বংস করেন।
মহান আল্লাহ বলেছেন,
{أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ (63) أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ (64) لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَاماً فَظَلَلْتُمْ تَتَفَكَّهُونَ (65) إِنَّا لَمُغْرَمُونَ (66) بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ} (67) سورة الواقعة
“তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে চিন্তা করেছ কি? তোমরা কি ওকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি? আমি ইচ্ছা করলে অবশ্যই একে টুকরা-টুকরা (খড়-কুটায়) পরিণত করতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে তোমরা। (বলবে,) ‘নিশ্চয় আমরা সর্বনাশগ্রস্ত! বরং আমরা হৃতসর্বস্ব।’ (ওয়াক্বিআহঃ ৬৩-৬৭)
{وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاء اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِي الْمَوْتَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (39) سورة فصلت
“আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখতে পাও শুষ্ক, অতঃপর আমি ওতে বৃষ্টি বর্ষণ করলে তা শস্য-শ্যামলা হয়ে আন্দোলিত ও স্ফীত হয়; নিশ্চয় যিনি ভূমিকে জীবিত করেন, তিনিই জীবিত করবেন মৃতকে। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (হা-মীম সাজদাহঃ ৩৯)
চাষীরা প্রত্যেক বছর বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু মহান প্রতিপালকের ইচ্ছা ছাড়া তা বাস্তব হয় না।
কোন মৌসমে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আবার কোন মৌসমে প্রচুর উৎপাদনের ফলে ফসলের দাম পাওয়া যায় না।
তবুও মু’মিন চাষী নিরাশ হয় না। কারণ মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ বা হতাশ হওয়া কাফেরদের কাজ। মু’মিনরা জানে,
{وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِن بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنشُرُ رَحْمَتَهُ وَهُوَ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ} (28) سورة الشورى
“তাদের হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর করুণা বিস্তার করেন। তিনিই তো অভিভাবক, প্রশংসার্হ।” (শূরাঃ ২৮)
বলা বাহুল্য, এ জগতে দুই শ্রেণীর চাষী রয়েছে। যাদের চাষ নিয়ে মহান আল্লাহ দুই ব্যক্তির উপমা দিয়ে বলেছেন,
“তুমি তাদের কাছে পেশ কর দুই ব্যক্তির একটি উপমা; তাদের একজনকে আমি দিয়েছিলাম দু’টি আঙ্গুর বাগান এবং সে দু’টিকে আমি খেজুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলাম। আর এই দুয়ের মধ্যবর্তী স্থানকে করেছিলাম শস্যক্ষেত্র।
উভয় বাগানই ফল দান করত এবং এতে কোন ত্রুটি করত না। আর উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রবাহিত করেছিলাম নদী।
তার প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সে তার বন্ধুকে বলল, ‘ধন-সম্পদে তোমার তুলনায় আমি শ্রেষ্ঠ এবং জনবলে তোমার তুলনায় আমি বেশী শক্তিশালী।’
এভাবে নিজের প্রতি যুলুম ক’রে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বলল, ‘আমি মনে করি না যে, এটা কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে।
আমি মনে করি না যে, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই-ই, তাহলে আমি অবশ্যই এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব।’
উত্তরে তাকে তার বন্ধু বলল, ‘তুমি কি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে ও পরে বীর্য হতে এবং তারপর পূর্ণাঙ্গ করেছেন মনুষ্য আকৃতিতে?
কিন্তু আমি বলি, তিনি আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং আমি কাউকেও আমার প্রতিপালকের শরীক করি না।
তুমি যখন ধনে ও সন্তানে তোমার তুলনায় আমাকে কম দেখলে, তখন তোমার বাগানে প্রবেশ করে তুমি কেন বললে না, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে; আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই।’
সম্ভবতঃ আমার প্রতিপালক আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তোমার বাগানে আকাশ হতে আগুন বর্ষণ করবেন; যার ফলে তা মসৃণ ময়দানে পরিণত হবে।
অথবা ওর পানি ভূ-গর্ভে অন্তর্হিত হবে এবং তুমি কখনো ওকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।’
তার ফল-সম্পদ পরিবেষ্টিত হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল; যখন তা মাচান সহ পড়ে গেল। সে বলতে লাগল, ‘হায়! আমি যদি কাউকেও আমার প্রতিপালকের শরীক না করতাম।’
আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোকজন ছিল না এবং সে নিজেও প্রতিকারে সমর্থ হল না।
এই ক্ষেত্রে সাহায্য করবার অধিকার সত্য আল্লাহরই। পুরস্কারদানে ও পরিণাম নির্ধারণে তিনিই শ্রেষ্ঠ।” (কাহফঃ ৩২-৪৪)
এ দুনিয়ায় চাষে উন্নতি দিয়ে বান্দাকে পরীক্ষা করেন। অবনতি ও ক্ষতি দিয়ে কাফেরকে শায়েস্তা ও মু’মিনকে পরীক্ষা করেন। যে পাশ করে, সে পরকালের চাষ মজবুত করে। আর যে ফেল করে, তার আর্থিক জেল হয় দুনিয়াতে এবং আগুনের জেল হয় আখেরাতে।
চাষীরা নিজের হিসাবটা ভালোমতো বুঝে নেয়, কিন্তু আসল চাষীর হিসাবটা কি ঠিকমতো হিসাব করে?
আসল চাষীকে ঠকিয়ে কোন মুখে ভালো চাষের আশা করতে পারি আমরা?
তাঁর ওশর আদায় না ক’রে কীভাবে ভালো ফল-ফসলের আশা করতে পারে চাষী?
দুনিয়ার চাষ করার সময় পরকালের চাষ বন্ধ রেখে কীভাবে আসল চাষীর কাছে পূর্ণ উৎপাদনের আশা করতে পারি?
আসল চাষীকে অমান্য ও অস্বীকার ক’রে কোন সাহসে চাষের ভালো ফল আশা করতে পারি?
আসল চাষীর নেমকহারামি ক’রে ও তাঁকে ফাঁকি দিয়ে চাষের পূর্ণ লাভ কোন আক্কেলে দাবী করতে পারি?
বৃষ্টির বিলম্ব দেখে অথবা কোথাও অনাবৃষ্টি আবার কোথাও অতিবৃষ্টি দেখে যে চাষীরা প্রকৃতিকে গালি দিয়ে প্রকৃতির নিয়ামক আল্লাহকে গালি দেয়, ‘প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা’ বলে কটাক্ষ করে, ‘খোদা বুড়ো হয়ে গেছে, তাই কোন সময় বৃষ্টি দিতে হবে আর তার হুঁশ নাই’ বলে বিদ্রূপ করে, সেই চাষীরা তাঁর নিকট কী আশা করতে পারে?
নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক! আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দিন।


বিনীত—আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

#ShotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close