preloder
কুর’আন ও সুন্নাহ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি, আল্লাহুম্মা বারিক্ব আলাইহি।

▪এক,

পাহাড়সম দুঃখ – কষ্ট, হতাশা – বেদনা, অস্থিরতা – বিপদাপদ, বালা-মুসিবত মানব জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। আল্লাহর বান্দাগণ দুনিয়াবি পেরেশানিতে নিমজ্জিত হয়ে আখিরাতের সম্বল জোগাড় করতেও হিমশিম খায়। তারপরও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে বেঁচে
থাকে, হয়ত মহান আল্লাহ একদিন চিরসুখের আবাসস্থলে দাখিল করাবেন।

প্রিয় ভ্রাতাগণ! আপনি কি দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাত নিয়েও চিন্তিত? দুনিয়া ও আখিরাত কেন্দ্রিক আপনার যাবতীয় দুঃচিন্তাগুলি যদি মহান আল্লাহর জিম্মায় থাকতো তাহলে কতইনা নিশ্চিন্তে থাকতেন!
দেখুনতো নিচের আমল-টি নিয়মিত করা যায় কিনা __

একদা জৈনক ব্যক্তি প্রিয়নবী মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল!
আমি নিজের জন্য দো’আ করার পরিবর্তে শুধু আপনার উপর দুরুদ পাঠ করতে চাই, এ ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?”

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেন, “তাহলে তো দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার চিন্তাসমূহের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন।”
— [ আল-মুসনাদ : ৫/১৩৬, হাফেজ মুনযিরী এই হাদীসের সনদকে জাইয়িদ বলেছেন। আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব : ২/৫০১ ]

ইমাম ত্বাহাবী [ রাহি’মাহুল্লাহ ] এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “এর অর্থ হলো দুনিয়া ও আখিরাতের যে সকল বিষয় তোমার চিন্তার কারণ হতে পারে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা তোমার জন্য সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবেন। দুরুদ পড়ার এতো বেশি ফযীলতের কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর উপর দরুদ পড়াতে আল্লাহর যিকির রয়েছে এবং রাসুলের সম্মান-মর্যাদা এবং তাঁর অধিকার আদায় করার উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বার্থ উপেক্ষা এবং নিজের জন্য দোআর পরিবর্তে তাঁর জন্য দো’আকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।”
— [ শারহু আত-ত্বাহাবিয়্যাহ : ৩/১০৪৬ ]

▪দুই,

দরুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এ আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি লাভ করার সৌভাগ্য অর্জিত হয়। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহ, যা পবিত্র ক্বুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এর উপকারিতা এবং না-পড়ার ক্ষতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। পবিত্র ক্বুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ঈমানদারদের স্বীয় রাসূলের উপর দরূদ পড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন,

﴿ إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦ ﴾ [الاحزاب : ٥٦]

“আল্লাহ তা‘আলা নবীর উপর সালাত পেশ করেন। আর তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য আল্লাহর কাছে সালাত পেশ করেন। অতএব হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরাও নবীর উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ কর”।
— [ সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬ ]

আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর আল আস [ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন – আমি
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি যে ,”যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাঁর দরুন তাঁর উপর দশবার দুরুদ পাঠ করবেন।”
— [ স্বহীহ মুসলিম : ৩৮৪, তিরমিযী : ৩৬১৪ ]

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ [ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন – প্রিয়নবী মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চাইতে আমার বেশী নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আমার উপর দরূদ পড়বে।”
— [ তিরমিযী : ৪৮৪ ]

▪তিন,

কোনো ব্যক্তিকে ভালবাসার দাবী হচ্ছে, আপনি তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর জন্য দো’আ করবেন, তাঁর হিতাকাঙ্ক্ষী হবেন, তাঁর কল্যানকামী হবেন। যেহেতু
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- অধিক ভালবাসার হক্বদার তাই তাঁর উপর বেশী বেশী দরুদ পড়া আবশ্যক।

আবূ হুরাইরা [ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন – “সেই ব্যক্তির নাক ধূলা-ধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হল, অথচ সে (আমার নাম শুনেও) আমার প্রতি দরূদ পড়ল না।” (অর্থাৎ ‘সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলল না।) — [ তিরমিযী : ৩৫৪৫, আহমাদ : ৭৪০২ ]

অন্যত্র বলেছেন – “তোমরা আমার কবরকে উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করো না বরং তোমরা আমার প্রতি দরূদ পেশ কর। কারণ, তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের পেশ-কৃত দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।” — [ আবূ দাউদ : ২০৪২ ]

উস্তাযুল বাশারিয়্যাহ মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন,

فوالذي نفسي بيده لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده ]متفق عليه[ . .

“ঐ সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ পূর্ণ ঈমানদার ততক্ষণ পর্যন্ত হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার পিতা-মাতা ও সন্তানাদি হতে অধিক প্রিয় না হবো।
—- [ স্বহীহ বুখারী : ১৬, স্বহীহ মুসলিম : ৬৭ ]

উপরিউক্ত হাদিস দ্বারা একথা সুস্পষ্ট যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজের চাইতে, নিজের স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন এমনকি দুনিয়ার সকল কিছুর চাইতে রাসূল ﷺ-কে অধিক প্রিয় এবং অধিক ভালবাসার হক্বদার মনে না করবো, ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারব না। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভালবাসার প্রমাণ হচ্ছে, তার উপর বেশী বেশী দরুদ পড়া। আসুন রাসূলের ভালোবাসায় নিজেকে সঁপে দেই।

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি,
আল্লাহুম্মা বারিক্ব আলাইহি।


আখতার বিন আমীর ভাইয়ের ফেসবুক ওয়াল থেকে
#SotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close