preloder
মৃত্যু | কবর | কিয়ামত | জাহান্নাম | জান্নাত

‘হুর’ তথা জান্নাতের সুন্দরী নারী।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা। তিনি এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বলেন –

﴿فِيهِنَّ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرۡفِ لَمۡ يَطۡمِثۡهُنَّ إِنسٞ قَبۡلَهُمۡ وَلَا جَآنّٞ ٥٦ ﴾ [الرحمن: ٥٦]

“সেখানে থাকবে এমন নারীগণ যাদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ থাকবে স্বামীর প্রতি, যাদেরকে ইতঃপূর্বে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ আর না কোন জিন।”

তিনি আরও বলেন –

﴿وَحُورٌ عِينٞ ٢٢ كَأَمۡثَٰلِ ٱللُّؤۡلُوِٕ ٱلۡمَكۡنُونِ ٢٣ جَزَآءَۢ بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ٢٤ ﴾ [الواقعة: ٢٢، ٢٤]

“আর থাকবে ডাগর-চোখা হুর, যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা, তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ।”

পক্ষান্তরে দরূদ ও সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন –

« إن أول زمرة يدخلون الجنة على صورة القمر ليلة البدر، والذين يلونهم على أشد كوكب دُرِّيّ في السماء إضاءة، لكل امرئٍ منهم زوجتان اثنتان يُرى مُخُّ سُوقهما من وراء اللحم، وما في الجنة أعزب »

“প্রথম গ্রুপ যেটি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের আকৃতিতে প্রবেশ করবে, তারপর যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা আকাশে প্রজ্জলিত নক্ষত্রের মত হবে। তাদের প্রত্যেকের জন্য দুইজন স্থী থাকবে। তাদের স্ত্রীদের সৌন্দর্য এত বেশি হবে, চামড়ার উপর দিয়ে তাদের পায়ের নলার মগজ দেখা যাবে। আর জান্নাতে আশ্চর্য্য বলতে কিছু নাই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং : ৩২৪৫, ৩২৫৪, ৩৩২৭ আর সহীহ মুসলিমে এ শব্দে হাদীস নং ২৮৩৪]।

আনাস (রা.) হতে হাদীস বর্ণিত –

« ولو أن امرأة من نساء أهل الجنة اطّلعت على أهل الأرض لأضاءت ما بينهما، ولملأت ما بينهما ريحاً، ولَـنَصِيفُها على رأسها – يعني خمارَها – خير من الدنيا وما فيها »

“জান্নাতের কোন নারী যদি যমীনবাসীর উপর উঁকি মারত, তাহলে সমগ্র দুনিয়া আলোকিত হয়ে যেত, আসমান ও মধ্যবর্তী স্থান সুঘ্রাণে পরিপূর্ণ হয়ে যেত। তাদের মাথার উপর যে ওড়না ব্যবহার করা হয়, দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে তা হতে অধিক উত্তম।” [বুখারী হাদীস নং : ৬৫৬৮, ২৭৯৬]।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) তার ‘আন-নুনিয়া’ নামক বিশিষ্ট কাব্যগ্রন্থে জান্নাতের আসনসমূহ ও তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন-

“যারা তাদের চক্ষুকে বিরত রাখে, তারা তাদের প্রিয়া ছাড়া অন্য কোন মাহবুবকে তালাশ করে না। তাদের চোখ তাদের প্রিয় মানুষটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অন্য কোন যুবকের প্রতি তার দৃষ্টি যায় না।” তিনি আরও বলেন, “হে জ্ঞানীজন! তুমি জান্নাতের আসনসমূহের বর্ণনা শোন! তারপর তুমি তোমার জন্য ডাগর চোখ বিশিষ্ট নারী যারা সৌন্দর্য ও সৃষ্টির দিক বিবেচনায় পরিপূর্ণ এবং সর্বাধিক সুন্দর নারী হিসেবে পরিগণিত।” [আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুমের কাসিদার ব্যাখ্যা আহমদ বিন ঈসার ৫৪২/২ -৫৪৮]

সুতরাং বলা যায় যে – আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এ প্রসঙ্গে তাই বলেন-

﴿وَزَوَّجۡنَٰهُم بِحُورٍ عِينٖ ٢٠﴾ [الطور: ٢٠]

“আর আমি তাদেরকে মিলায়ে দেব ডাগর-চোখা হউর-এর সাথে।” [সূরা আত-তূর : ২০]।

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুজাহিদ বলেন – الحور শব্দটি حوراء শব্দের বহুবচন। ‘হুর’ বলা হয়-কুমারী নারী, ধবধবে সাদা, কালো চোখ বিশিষ্ট সুন্দরী নারী যাদের দিকে তাকালে তাদের দেহের আকৃতি ও দৈহিক সৌন্দর্য দেখে চক্ষুদ্বয় অভিভূত হয়। কিন্তু বিশুদ্ধ হল, الحور শব্দটি নির্গত হল, الحور في العين، হতে। অর্থাৎ, কঠিন ধবধবে সাদা যার মধ্যে রয়েছে, কঠিন কালো। মোট কথা তার মধ্যে দুটি অর্থই বিদ্যমান। [আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুমের কাসিদার ব্যাখ্যা আহমদ বিন ঈসার ৫৪২/২ -৫৪৮]।


সাজ্জাদ সালাদীন [সঙ্কলক ও লেখক]
রচনার সময়কাল :
বুধবার (সকাল ৯:১০)
২৬শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
১৩ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)
২৮শে আগস্ট, ২০১৯ ইং।

#ShotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close