preloder
বিবিধ বিষয়

আপনি বাতাবী লেবু না খেজুর?

আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

বাতাবী লেবু খুব বড় আকারের ফল। যা সাধারণতঃ টক হয়। তবে এর মধ্যে মিষ্টি ও সুস্বাদুও আছে। কুরআন তিলাঅতকারী মু’মিনের উপমান হল এই লেবু।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
(( مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِيْ يَقْرَأُ القُرْآنَ مَثَلُ الأُتْرُجَّةِ : رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ ))।
“যে, মু’মিন কুরআন পাঠ করে, তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক বাতাবী লেবুর মত; যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও উত্তম।” (বুখারী ৫০২০, মুসলিম ১৮৯৬নং)
মু’মিন ব্যক্তি দেখতে অসুন্দর-অসুন্দরী হলেও সে যখন কুরআন পাঠ করে, তখন দেখতেও সুন্দর হয় এবং তার আখলাক-চরিত্রে সে হয় উত্তম।
যেহেতু কুরআন পাঠকারী হল মহান আল্লাহর খাস লোক। কুরআন হল হৃদয়ের বসন্ত, জ্বালা-যন্ত্রণার মলম। মিষ্টি স্বরে কুরআন পাঠের যে স্বাদ আছে, তার অনুভূতিতে মু’মিন আবেগাপ্লুত হয়। কুরআনের যে বিধান আছে, তা জেনে ও মেনে মু’মিন হয় প্রকৃত সুন্দর ও প্রকৃত মানব। যে কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করলে দশটি নেকি হয়!
কুরআন-তিলাঅতকারী মু’মিন সকল বিষয়ে সকলের কাছে প্রিয়পাত্র হয়। যেমন বাতাবী লেবু স্বাদে-গন্ধে সকলের কাছে প্রিয় হয়।
পক্ষান্তরে খেজুর একটি সুস্বাদু মিষ্টি উপাদেয় ফল। এ ফলেরও উপমা দেওয়া হয়েছে মু’মিনের।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
(( وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِيْ لاَ يَقْرَأُ القُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ : لاَ رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْوٌ ))।
“আর যে মু’মিন কুরআন পড়ে না, তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক খেজুরের মতো; যার (উত্তম) ঘ্রাণ তো নেই, তবে স্বাদ মিষ্ট।” (বুখারী ৫০২০, মুসলিম ১৮৯৬নং)
মু’মিন ব্যক্তি অবশ্যই ব্যবহারে ভদ্র হয়, আচরণে মিষ্টি হয়। খেজুরের মত সকলের কাছে মিষ্টি থাকে। কিন্তু যে মু’মিন কুরআন পড়ে না, কুরআন শেখে না, কুরআন জানে না, তার কোন সুঘ্রাণ নেই। তার মধ্যে সৌরভ নেই।
বড় বিস্ময়ের কথা যে, বহু মুসলিম আছে, যারা ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহর কালাম পড়া শেখে না বা পড়ে না। এ কাজটাকে তারা ইসলামের বাইরে অতিরিক্ত অথবা অজরুরী কাজ গণ্য করে। তারা অন্য ভাষা শেখার জন্য, রুযী-রুটীর ভাষা শেখার জন্য কত সময় ব্যয় করে। কিন্তু রুযীর মালিক আল্লাহর কিতাবের ভাষা শেখার জন্য সময় পায় না। তারা ভাবে, মিষ্টি আছি, সেটাই কম কী? সুগন্ধ না থাকলেও সমস্যা নেই। দুর্গন্ধ না থাকলেই হল! আর আমরা ভাবি, যদি মিষ্টতার সাথে আপনার সুগন্ধও থাকে, তাহলে কি আপনি বেশি আকর্ষণীয় হবেন না? জীবন-সঙ্গিনী বা জামাই-বউ করার ক্ষেত্রে কি আপনি রূপ-সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহী হন না? সুন্দর ফুলের সৌন্দর্য আছে, কিন্তু যদি সৌরভ না থাকে, তাহলে কি তার সেই কদর হয়? কেন স্বেচ্ছায় এমন কদর ও মর্যাদা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছেন। আপনি কি আত্মপ্রতারণা করছেন না?
আপনি একজন বিশাল শিক্ষিত মানুষ। কত বই-পুস্তক পড়েছেন, মুখস্থ করেছেন, প্রতিদিন কত সংবাদ-পত্র পড়ছেন ইত্যাদি। কিন্তু সাবালক হওয়ার পর থেকে আজ অবধি আপনি সেই তিনটি সূরা দিয়েই নামায পড়ছেন! তা আবার বাংলা অক্ষরে লেখা বই থেকে মুখস্থ করেছেন, জানি না, তাও সঠিক উচ্চারণ করতে পারেন কি না, সে পড়া শুদ্ধ হয় কি না। না হওয়ারই কথা। আপনারা বলেন, ‘জ্ঞান-পিপাসা মিটতে চায় না।’ কিন্তু কুরআন যে এত বড় জ্ঞানভান্ডার এবং প্রকৃত জ্ঞানাধার, তার পিপাসাই নেই কেন আপনার মনে?
নিশ্চয়ই জানবেন, মিষ্টি স্বাদ না আস্বাদন করলে বোঝা যায় না। কিন্তু সুগন্ধ আপনা-আপনি নাকে এসে মুগ্ধ-মোহিত করে। তাহলে খেজুর হয়ে থাকার চাইতে বাতাবী লেবু হতে পছন্দ ও চেষ্টা করেন না কেন? আপনি আল্লাহর বান্দা মেনে নিলাম, কিন্তু আল্লাহর খাস বান্দা হতে চেষ্টা করেন না কেন?


(মানবের উপমান অমানব)
আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী

#SotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close