preloder
আখলাক | ব্যক্তিত্ব | পরিবারিক আদর্শ

পূণ্যবতী নারী

ড. শিহাবুদ্দীন আহমাদ 

আল্লাহ রাববুল আলামীন আশরাফুল মাখলূক্বাত হিসাবে সর্বপ্রথম মানবজাতির পিতা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন এবং পুণ্যময়ী নারীরূপে মাতা হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করে। মহান আল্লাহ বলেন, يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا– ‘হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যিনি তোমাদেরকে একজন মানুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর ঐ দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করে থাক এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক হও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর সদা সতর্ক তত্ত্বাবধায়ক’ (নিসা ৪/১)।

পুণ্যবতী নারী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মহান আল্লাহ এই নারীদের সম্পর্কে বলেন, فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ- ‘অতএব সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা হয় অনুগত এবং আল্লাহ যা হেফাযত করেছেন, আড়ালেও (সেই গুপ্তাঙ্গের) হেফাযত করে’ (নিসা ৪/৩৪)।

অত্র প্রবন্ধে পুণ্যবতী নারীর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী আলোচনা করা হল-

ড. মুহাম্মাদ রাতেব নাবলুসী তাঁর ‘ইসতিক্বামাহ’ প্রবন্ধে মুসলিম রমণীর গুণাগুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, মুসলিম রমণী বহুবিধ গুণে গুণান্বিত হবে। তিনি মোট ২৬টি গুণাবলী উল্লেখ করেছেন। যেমন-

১. লজ্জাস্থান হেফাযতকারীণী।

২. ধার্মিকা।

৩. পুণ্যময়ী নারীর দেহের বর্ণ যেমনই হোক না কেন তার চেহারা হবে উজ্জ্বল।

৪. যে তাঁর পরিবার ও নিকটাতনীদের জন্য কল্যাণকর কিছু পেশ করে। তাঁর নিকট হতে অকল্যাণকর কিছু আশা করা যায় না।

৬. কষ্টকর হলেও সে ভালো কিছু পেশ করে এবং ভালো কিছু করতেই পসন্দ করে। সে কখনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেনা।

৭. সে তার স্বামীর জীবদ্বশাতে বা মৃত্যুর পরেও খুলুছিয়াতের সাথে থাকে।

৮. সর্বদা সে হক্বের উপর অটল থাকে এবং হক্ব বলতে কখনো ভয় পায়না ।

৯. সে হবে ত্যাগী এবং বিলাসিতাহীন এবং সে কখনো স্বেচ্ছাচারীনী হবেনা।

১০. সে তার স্বামীর কন্ঠস্বরের উপরে নিজের কন্ঠস্বরকে উঁচু করে না।

১১. সে সৎ ও সত্য জীবন-যাপন করে। কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেয় না।

১২. সে পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি ও ক্রোধ হতে বেঁচে থাকে। ১৩. কাজের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যাবলীকে সূক্ষ্মভাবে সমাধান করে।

১৪. যে জ্ঞানে-প্রজ্ঞায় সুশোভিত এবং তাঁর কথা ও কাজ সৌন্দর্যমন্ডিত।

১৫.  সে সর্বদা মার্জিত ও কল্যাণকর কথা বলে। তার ভাষায় কখনো অসঙ্গত কিছু প্রকাশ পায় না।

১৬. সে তাঁর ইবাদতের হেফাযতকারীনী হয় এবং তার বাড়ীর কাজে ও সন্তান প্রতিপালনে মনোযোগী ও নিষ্টাবতী হয়।

১৭. স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে বাড়ীর বাইরে যায় এবং স্বামী যাদের সাথে তার সাক্ষাৎ করা অপসন্দ করে বা চায় না তাদের সাথে সে সাক্ষাৎ করে না।

১৮. স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তার সম্পদ খরচ করে না এবং সে ন্যায়পরায়ণতার সাথেই জীবন-যাপন করে।

১৯. সে বিনম্রতা, কোমলতা, লজ্জাশীলতা ও প্রশংসিত চরিত্রে ভূষিত হয়। সে তার স্বামীর ও পরিবারের গোপনীয় বিষয়কে সংরক্ষণ করে।

২০. সে তার বিবাহে উচ্চ মোহরানা দাবী করে না।

২১. পরামর্শের সময় সঠিক মত প্রদান করে। ছলনাপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করে না।

২২. দুঃখের সময় সমবেদনা জ্ঞাপন করে এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও নমনীয়তা প্রদর্শন করে। স্বামীর সাথে বন্ধুত্বসুলভ হয়। আর সন্তানদের যা কিছু দেয় তা মুহববতের সাথে দেয় এবং তাদের সঠিক পন্থায় লালন পালন করে।

২৩. সে তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে নফল ছিয়াম পালন করে না।

২৪. যে আল্লাহর জন্যই লজ্জাশীল ও বিনম্র স্বভাবের হয় এবং কখনো সে অহংকারী হয় না।

২৫. যে বিপদাপদ ও মুছীবতের সময় ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহর প্রশংসা করে এবং দুঃখ-কষ্টের সময়ও আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করে।

২৬. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই স্বামীর আনুগত্য করে এবং আল্লাহর নাফরমানীতে তার আনুগত্য করে না।

পূণ্যবতী নারীর মর্যাদা :

ইসলাম নারীর যথার্থ মূল্যায়ন করেছে। মহান আল্লাহ বলেন,

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ-

‘আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের সঙ্গীনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে’ (রূম ৩০/২১)।

আরবী ভাষায় ‘আল-আতফূ’ বা সহানুভূতি হলো এমন এক দৃষ্টান্তমূলক জীবনের চালিকাশক্তি যার উপর স্বামী-স্ত্রীর মান-মর্যাদা ও জীবনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সবকিছুই নির্ভর করে। কেননা বৈবাহিক জীবনে নারী-পুরুষের পারস্পারিক সহানুভূতি ও ভালবাসার চাদরে একে অপরকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে।

রাসূল (ছাঃ) ঈমানকে পারস্পারিক ভালবাসার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত ঈমানদার সেই যে ব্যক্তি নিজের জন্য যা পসন্দ করবে অপর ভাইয়ের জন্য তাই পসন্দ করবে।[1] তাহলে ঈমানের বিবেচনায় স্ত্রী যিনি বাচ্চাদের প্রাণপ্রিয় মমতাময়ী মা, স্বামীর প্রিয়তমা, বন্ধুত্বের গোড়াপত্তনকারীনী। আর তাকে কেন্দ্র করেই সমস্ত ভালবাসা আবর্তিত হয়। মহান আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র এ বন্ধনকে মানব সৃষ্টির ইতিহাসে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের মেলবন্ধন হিসাবে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا ‘নারীরা তোমাদের কাছ থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার  গ্রহণ করেছে’ (নিসা ৪/২১)।

ইসলামে পুণ্যবতী নারীকে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের দুনিয়ার কল্যাণ দাও ও আখেরাতের কল্যাণ দাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও’ (বাক্বারাহ ২/২০১)। অনেক মুফাসিসর এর তাফসীর করেছেন দুনিয়ার কল্যাণ মানে হলো পুণ্যবতী নারী।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ ‘দুনিয়ার উপভোগের উপকরণ (ভোগপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী’।[2]

মুসলিম রমণী ঈমান ও দ্বীন পালনের ব্যাপারে তার স্বামী হতে স্বাধীন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,

وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

‘আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের জন্য ফেরাঊন পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। সে বলল, হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করুন। আমাকে ফেরাঊন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন’ (তাহরীম ৬৬/১১)।

এই আয়াতে দেখা যায় যে, ক্ষমতাধর-প্রতাপশালী ফেরাঊন পর্যন্ত স্বীয় স্ত্রী আসিয়াকে তার তথাকথিত প্রভুত্বের দাসী হতে রাযী করাতে পারেনি। পারেনি তাঁকে সত্যিকার মা‘বূদ থেকে আলাদা করতে। ফেরাউন কখনো পারেনি স্বীয় স্ত্রী আসিয়াকে তাকে ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করাতে। স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোন আনুগত্য নেই। সেটা প্রতাপশালী ফেরাঊন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল। আর তাঁর এই স্বাধীন ঈমান ও দ্বীন পালনের জন্যই তাকে আল্লাহ তা‘য়ালা পৃথিবীতে মুক্তি দিয়েছেন এবং দুনিয়াতেই জান্নাত দিয়েছিলেন। আর তাঁর জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করেছেন। অতএব কোন পুণ্যবতী নারী আল্লাহর অবাধ্যতায় স্বামীর কথা বা আদেশ প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখে।

অপরপক্ষে দু’জন নারী দ্বীনদার পরহেযগার নবীর বউ হওয়া সত্বেও তাদের সাথে চরম খেয়ানত করেছিল। হযরত নূহ (আঃ) ও হযরত লূত (আঃ)-এর স্ত্রী যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মহান আল্লাহ বলেন,

ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِين- 

‘আল্লাহ তা‘আলা কাফেরদের জন্য নূহ পত্নী ও লূত পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল আমার দুই ধর্মপরায়ণ বান্দার গৃহে। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হল জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নাম চলে যাও’ (তাহরীম ৬৬/৯)।

পক্ষান্তরে আল্লাহর খালেছ বান্দা হওয়া সত্বেও দুইজন রাসুল ও নবীর স্ত্রীগণ কাফের ছিলেন। সতি-সাধবী রমনী হওয়ার জন্য উত্তম পরিবার যথেষ্ট নয়, বরং পিতা-মাতা ও নিজের  ঐকান্তিক আশা-আকাংখা ও তীব্র প্রত্যাশা থাকা অত্যন্ত যরূরী। মহান আল্লাহর নিকটে একান্ত কামনা থাকা আবশ্যক।

রাসূল (ছাঃ)-এর জীবনীতে পাওয়া যায় যে, একজন মহিলাকে রাসূল (ছাঃ) বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে তাঁর স্ত্রী হতে আপত্তি করেছিলেন। রাসূল (ছাঃ) তাকে তার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলেছিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পাঁচটি সন্তান-সন্ততি রয়েছে। আমার ভয় হয় যে, যদি আমি তাদের হক আদায় করি তাহলে আপনার হক্বে কমতি হয়ে যাবে। আর যদি আপনার হক্ব পূর্ণভাবে আদায় করি তাহলে তাদের হক্বের কমতি হবে।

উল্লেখ্য যে, আল্লাহর আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নারীর অধিকারকে ইসলাম যথাযথ সম্মান করে। ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় দায়-দায়িত্ব ও মান-মর্যাদার দিক থেকে নারী-পুরুষে কোন ভেদাভেদ নেই। শুধুমাত্র সৃষ্টিগত ও গুণাগুণের সামান্য তফাৎটুকুই যা পরিদৃষ্ট হয়। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَى- ‘সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই’ (আলে-ইমরান ৩/৩৬)।

শারীরিক, মানসিক, সামাজিক যাবতীয় চিন্তা-চেতনায় নারীর বৈশিষ্ট্যাবলী পুরুষের মতই। ঠিক অনুরূপভাবে বৈবাহিক জীবনেও দায়িত্বের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী নিজ নিজ ময়দানে স্বাধীন।

খাওলা বিনতে ছা‘লাবার একটি ঐতিহাসিক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। তাঁর স্বামী ছিল আওস ইবনু ছামেত। তিনি বলেন, ‘আমার সাথে আমার স্বামী আওস ইবনু ছামিত (রাঃ) যিহার করলেন। আমি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে অভিযোগ করলাম। তিনি আমার স্বামীর পক্ষ হতে আমার সাথে বিতর্ক করলেন এবং বললেন, আল্লাহকে ভয় কর, সে তো তোমার চাচার ছেলে। মহিলাটি বলেন, আমি সেখান থেকে চলে না আসতেই কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হলো, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ মহিলার কথা শুনতে পেয়েছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্ক করছে’ (মুজাদালাহ ৫৮ /১)। এখানে থেকে কাফফারাহ পর্যন্ত অবতীর্ণ হল। অতঃপর তিনি বললেন, সে একটি দাস মুক্ত করবে। মহিলাটি বলেন, তার সে সামর্থ নেই। তিনি বললেন, সে একাধারে দু‘মাস ছিয়াম পালন করবে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে খুবই বৃদ্ধ, ছিয়াম পালনে অক্ষম। তিনি বললেন, তবে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে। মহিলাটি বলল, ছাদক্বাহ করার মত পয়সা তার নেই। মহিলাটি বললেন, এ সময় সেখানে এক ঝুড়ি খুরমা আসলো। তখন আমি (মহিলা) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ পরিমাণ আর এক ঝুড়ি খুরমা দিয়ে আমি তাকে সহযোগিতা করবো। তিনি বললেন, তুমি ভালই বলেছো। তুমি এর দ্বারা তার পক্ষ হতে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও এবং তোমার চাচাতো ভাইয়ের কাছে ফিরে যাও। ইয়াহইয়া ইবনু আদাম বলেন, ষাট ছা’তে এ আরাক্ব হয়। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, মহিলাটি তার স্বামীর নির্দেশ ছাড়াই তার পক্ষ হতে কাফফারা আদায় করেছে।  ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আওস (রাঃ) ছিলেন, উবাদাহ ইবনুল ছামিত (রাঃ)-এর ভাই।[3]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নে‘মতরাজির অন্যতম  নে‘মত হ‘ল পুণ্যবতী স্ত্রী। আল্লাহ তা‘আলা স্বামীর জন্য  পুন্যবতীকে স্ত্রীকে বৈধ ভালবাসা ও প্রশান্তিস্থল হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর তা‘আলার অন্যান্য রিযিকের মতই এটি একটি অনুগ্রহমূলক রিযিক ও বিশেষ উপহারস্বরূপ, যা বান্দাকে তাঁর প্রভুর নৈকট্য ও দুনিয়া-আখেরাতে কামিয়াবী হাছিলের পথ বাতলে দেয়। বাচ্চাদের প্রতিপালন, তাদের মনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসা সৃষ্টি, জীবনে সৎ  আমলের করার ক্ষেত্রে পুন্যবতী নারীর ভূমিকা অনন্য।

(চলবে)

[লেখক : শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহী ]

[1]. বুখারী হা/১৩; মুসলিম হা/৭১; মিশকাত হা/৪৯৬১।
[2]. মুসলিম হা/১৪৬৭; ইবনু মাজাহ হা/১৮৫৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৪১৩।
[3]. আবুদাউদ হা/২২১৪।


উৎসঃ তাওহীদের ডাক
সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৯

#ShotterDikeAhobban

Tags

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close